kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

ধা রা বা হি ক উ প ন্যা স ম ৎ স্য গ ন্ধা

মৎস্যগন্ধ

হরিশংকর জলদাস

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



মৎস্যগন্ধ

অঙ্কন : মানব

ভোরের আলো ফুটি ফুটি। পাখিরা নীড় ছেড়ে উড়াল দেয়নি এখনো। রাতের গাঢ় তন্দ্রাটা তাদের চোখ থেকে বুঝি যায় যায়। সূর্যদেব তাঁর রথে চড়বার জন্য প্রস্তুতি প্রায় শেষ করে এনেছেন। ঘোড়াগুলো রথে জোড়া হয়েছে। পা ঘষছে ওরা। আর তুলছে চিঁহি আওয়াজ। সূর্যদেব রথে চড়লে যে তাদের রওনা দিতে হবে। তাদের এই যাত্রা যে দিনান্তব্যাপী।

ঠিক এই সময়ে সন্তানটি ভূমিষ্ঠ হলো। পুত্রসন্তান। জননী পাশে শায়িত। নিস্পন্দ। চেতনাহীন। কয়েক দণ্ড আগেও চেতনা ছিল তার। স্পন্দিত হচ্ছিল তার দেহ। সন্তান ভূমিষ্ঠ হলো আর জননীও চেতনা হারাল। সন্তান প্রসবের কষ্ট যে অপার! সেটা জননী ছাড়া কে জানে বেশি! সহ্যাতীত যন্ত্রণা যে প্রাণের বোঁটা ধরে টান দেয়! যে নারীটি এই মুহূর্তে জননীর দিকে একবার আর সদ্যোজাত সন্তানটির দিকে আরেকবার তাকাচ্ছে, সে-ও জানে না সন্তান প্রসবের কী অপরিসীম যন্ত্রণা। সে যে কখনো নিজ জঠরে সন্তান ধারণ করেনি! ও যে বন্ধ্যা!

বন্ধ্যা হয়েছে তাতে কী! কালী তো তার বন্ধ্যাত্ব ঘুচিয়েছে। এই কালীই তো তাকে মাতৃত্বের স্বাদ দিয়েছে। এই কালীর কারণেই তো সে আজ ভবানী থেকে কালীর মা হয়েছে!

এই রকম ভাবতে ভাবতে ভবানী মত্স্যগন্ধার দিকে গভীর চোখে তাকাল। দেখল—মত্স্যগন্ধা নিথর। চিত হয়ে শুয়ে আছে মত্স্যগন্ধা। তার বুকের ওঠানামা নিতান্ত ক্ষীণ। ত্বরিত ঝুঁকে পড়ল মত্স্যগন্ধার ওপর। কপালে হাত রাখল একবার। বাহু ধরে মৃদু ঝাঁকুনি দিয়ে বলল, ‘কালী, ওমা কালী।’

মত্স্যগন্ধা নড়ল না, চোখ খুলল না।

গৃহকোণের মৃত্পাত্রের দিকে দ্রুত এগিয়ে গেল ভবানী। চোখে-মুখে জলের ছিটা দিতে দিতে গাঢ় কণ্ঠে আবার ডাকল, ‘মা, মা কালী।’

চোখের পাতা স্পন্দিত হলো বার কয়েক। ধীরে, অতি ধীরে চোখ খুলল মত্স্যগন্ধা। মত্স্যগন্ধার চোখ এখন অর্ধ-উন্মীলিত। সেই চোখে বিবশতা।

আনন্দের ক্ষীণ ঝিলিক কি ছিল মত্স্যগন্ধার চোখে? বুঝতে পারল না ভবানী। বুঝবে কী করে? তার নজর যে এখন সদ্যঃপ্রসূত শিশুটির ওপর!

ভবানী দেখল—কালীর পায়ের পাশে যে শিশুটি, সে পিটপিট করে ইতিউতি তাকাচ্ছে। একজন নবাগত কোনো বাড়িতে এলে ঘাড় ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে যেমন করে চারপাশটা দেখে, এই শিশুটিও তেমনি করে দেখছে। তবে ঘাড় ঘোরাতে পারছে না সে। বিশাল বিশাল চোখ দুটি ঘোরাচ্ছে।

ভবানী শিশুটির ওপর তার চোখ দুটি স্থির করল। ভবানী দেখল—তার গায়ের রং ঘন কৃষ্ণবর্ণ। আগুনে চোখ দুটি কৃষ্ণবর্ণ মুখমণ্ডলে জ্বল জ্বল করছে। মাথাভর্তি ঘন কালো কোঁকড়ানো চুল। একী শিশুটির সামনের ওপর পাটিতে দুটি দাঁতও যে দেখা যাচ্ছে! আর, আর শিশুটি যে কাঁদছে না! ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর প্রতিটি শিশু কাঁদে, কেউ মৃদুকণ্ঠে, কেউ বা তারস্বরে। কিন্তু এ তো কোনো স্বরেই কাঁদছে না? একী বিস্ময়! ভবানী বাক্যহারা, স্তম্ভিত। কেন ভবানীর এই স্তম্ভন? শিশুটি দন্ত নিয়ে জন্মেছে বলে? মাথাভর্তি ঝাঁকড়া চুল বলে? নাকি কাঁদছে না বলে?

এই সময় মত্স্যগন্ধা ডেকে উঠল, ‘মা!’

একই সময়ে উঠান থেকে সিন্ধুচরণের কণ্ঠ ভেসে এলো, ‘ভবানী। অ ভবানী। অ কালীর মা। কোনো সাড়াশব্দ নাই কেন তোমার?’

ভবানী দোটানায় পড়ে গেল। কার ডাকে আগে সাড়া দেবে? মেয়ের না স্বামীর? তত্ক্ষণাত্ই ভবানী ঠিক করল—কন্যার ডাকে সাড়া দেবে প্রথমে। অচেতন থেকে চেতনায় ফিরেছে কালী। তার তো শারীরিক অসহায়তা এখন। এই মুহূর্তে মায়ের নিশ্চয়ই কোনো সাহায্য প্রয়োজন কালীর। তা ছাড়া সদ্যঃসন্তান প্রসব করল সে। সেই সন্তানের ভালো-মন্দ সন্ধান করার বাসনাও তো জাগতে পারে কালীর মনে। পড়ে থাক কালীর বাবার জানতে চাওয়ার আগ্রহ। তার প্রশ্নের জবাব পরে দিলেও চলবে। সুখবরটা যমুনাজলে ভেসে যাচ্ছে না। সুখবর বরঞ্চ দেরিতে দেওয়া ভালো। তাতে সুসংবাদের গুরুত্ব বাড়ে। দুগ্ধের মতো সুসংবাদও যত গাঢ় হয়, তত সুশ্রাব্য হয়ে ওঠে।

অনেকটা হামাগুড়ি দিয়েই কালীর মুখের কাছে গেল ভবানী। মুখের কাছে মুখ এগিয়ে ধরে বলে, ‘হ্যাঁ মা। কিছু বলবে কালী?’

কালী আবার বলল, ‘মা।’

ভবানীর বুঝতে বিলম্ব হলো না, কালী কী জানতে চাইছে? ভবানী কিন্তু মেয়ের প্রশ্নের কোনো জবাব দিল না। ধীর পায়ে শিশুটির দিকে এগিয়ে গেল। তারপর বাঁশের তীক্ষ ফলাটি হাতে তুলে নিল। কী আশ্চর্য! নাড়ি ছেদনের সময়ও শিশুটি কাঁদল না।

শিশুটিকে কোলে তুলে নিল ভবানী। এক পা, দুই পা করে কালীর দিকে এগিয়ে গেল। কালীর বাঁ পাশে শিশুটিকে শুইয়ে দিয়ে করুণাভরা কণ্ঠে ভবানী বলল, ‘তোর ছেলে। বুকের কাছে টেনে নে মা।’ কালী বাঁ পাশে কাত হলো। কালাকোলা শিশুটিকে একেবারে বুকের কাছে টেনে নিতে ইচ্ছা করল তার। নিল না। মত্স্যগন্ধার বুকের মধ্যে যে ঘৃণার আলোড়ন।

এবার দরজার ঝাপটা খুলে দাওয়ায় এসে দাঁড়াল ভবানী। ভবানীকে দেখে অস্থির পায়ে সামনে এগিয়ে এলো সিন্ধুচরণ। চোখে-মুখে দুশ্চিন্তার গভীর উপস্থিতি।

ব্যগ্র কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল, ‘কী হলো ভবানী!’

এই সময় স্বামীর সঙ্গে একটু রঙ্গ করতে ইচ্ছা করল ভবানীর। নিজের আনন্দ আড়ালে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘কিসের কী হলো?’

‘আরে বাবা! আমি জানতে চাইছি...।’ সিন্ধুচরণের মুখের কথা কেড়ে নিল ভবানী।

বলল, ‘কী জানতে চাইছ খোলাসা করে বলো না।’ এবার হেসে দিল সিন্ধুচরণ। সে বুঝতে পারল—স্ত্রী তাকে নিয়ে একটু খেলতে চাইছে। নিশ্চয়ই কোনো সুসংবাদ। নইলে এ রকম কৌতুকে মাততো না ভবানী!

নিজের কণ্ঠেও রঙ্গ ছড়াল সিন্ধুচরণ। বলল, ‘আমার শত্রু এলো না তো ঘরে? বলি—আমার কাছ থেকে তোমাকে কেড়ে নেওয়ার লোক এলো না তো?’

সমকৌতুকে ভেসে গিয়ে ভবানী বলল, ‘তুমি ঠিকই ধরেছ গো! আমার প্রেমিক এসেছে গো! এবার তোমার কপাল পুড়ল বলে।’

‘আ হা হা কালীর মা। কী শোনালে আমায়। আমার মত্স্যগন্ধার ছেলে হয়েছে। আমার নাতি হয়েছে।’ বলে ধেই ধেই করে গোটা উঠানজুড়ে নাচতে শুরু করল সিন্ধুচরণ। এ রকম নাচ সিন্ধুচরণের স্বভাববিরুদ্ধ। কিন্তু এই মুহূর্তে সে যে উচ্ছ্বাসে মাতোয়ারা। তার যে এখন উচ্ছলিত যমুনাজলে ভেসে যেতে ইচ্ছা করছে।

সিন্ধুচরণের নাচনে হাওয়ায় ঢেউ উঠল। সেই ঢেউ গিয়ে আছড়ে পড়ল বৃক্ষের শাখায় শাখায়, নীড়ের আনাচকানাচে। পাখিরা জেগে উঠল ডালে ডালে। ফুড়ুত্-ফাড়ুত্ উড়তে শুরু করল তারা। তাদের কণ্ঠেও কোলাহল। সিন্ধুচরণ বুঝল—এ বুঝি তার নাতির জন্মক্ষণ উপলক্ষে পাখিদের আনন্দোল্লাস!

সূর্যদেব তখন পুবাকাশে মাথা তুলেছেন। তাঁরই কিরণরেখা ছড়িয়ে পড়ছে দিকে দিকে। গাঢ় একটা কিরণরেখা দাওয়া ছাড়িয়ে, দরজা পেরিয়ে গৃহাভ্যন্তরে পতিত হয়েছে।

এই সময় ভবানী দুই কদম এগিয়ে গেল। সিন্ধুচরণের কাছে গিয়ে ফিসফিসিয়ে বলল, ‘কালো। ভীষণ কালো!’

‘কী কালো! ভীষণ কালো কী?’ থতমত গলায় জিজ্ঞেস করল সিন্ধুচরণ।

ত্বরিত দরজার দিকে তাকাল ভবানী। কণ্ঠকে একেবারে খাদে নামিয়ে বলল, ‘তোমার নাতির গায়ের রং কুচকুচে কালো।’

‘কালো?’ পাকা অভিনেতার কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল সিন্ধু। ‘হ্যাঁ। বিদঘুটে কালোও বলতে পারো।’

‘তা-ই।’ বলে চুপ মেরে গেল সিন্ধু। তারপর দম ফাটা হাসিতে ফেটে পড়ল সে—হা হা, হো হো। কোনো মতে নিজেকে সামলে নিয়ে সিন্ধুচরণ বলল, ‘যমরাজের গায়ের রং কী রকম জানো ভবানী?’

ভবানী ভড়কে যায়। স্বামীর অস্বাভাবিক আচরণে এমনিতেই বোকা বনে গেছে সে। হঠাত্ স্বামীর এ রকম প্রশ্ন শুনে আরো বোবা হয়ে গেল সে। শুধু ডানে-বাঁয়ে মাথা নাড়ল।

এই সময় সিন্ধুচরণ গলা ফাটিয়ে বলল, ‘কালো ভবানী। ধর্মরাজের গায়ের রং নিরেট কৃষ্ণবর্ণ।’

‘তো?’ ভ্যাবাচেকা গলায় জিজ্ঞেস করে ভবানী। ‘আমাদের নাতিটিরও গায়ের রং কালো, জমাট কালো।’ বলে আবার হো হো করে হাসতে শুরু করল সিন্ধুচরণ। ভবানী এবার চোখ-মুখ শক্ত করে বলল, ‘তো!’

‘তাই ওর নাম দিলাম—কৃষ্ণ।’ বলে হঠাত্ চুপ মেরে গেল সিন্ধু।

হঠাত্ যেমন থেমে গিয়েছিল, তেমনি হঠাত্ আবার বলতে শুরু করল, ‘কৃষ্ণ ডাকতে তোমার খারাপ লাগলে দ্বৈপায়নও ডাকতে পারো তুমি তাকে।’

‘দ্বৈপায়ন! এ আবার কী নাম! কৃষ্ণ বুঝি কালো। কিন্তু দ্বৈপায়ন মানে কী?’ হতভম্ব গলায় জিজ্ঞেস করে ভবানী।

সিন্ধুচরণ বলে, ‘তার আগে তুমি বলো—এখন আমরা কোথায় আছি?’

‘কেন দ্বীপে?’

‘কোন দ্বীপে?’

‘নরসিংহ জেঠা কী যেন নাম দিয়েছিল এই দ্বীপের!

ও হ্যাঁ, মনে পড়েছে—চরণ দ্বীপ।’

‘আচ্ছা, আমাদের নাতিটা জন্মাল কোথায়?’ গম্ভীর চালে জিজ্ঞেস করল সিন্ধুচরণ।

‘কেন, এই চরণ দ্বীপেই জন্মাল।’ বলল ভবানী।

‘এই দ্বীপে জন্মেছে বলে আমি কৃষ্ণের আরেকটা নাম দিলাম—দ্বৈপায়ন। তুমি ওকে কৃষ্ণ ডাকো অথবা দ্বৈপায়ন ডাকো, নতুবা কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ডাকো, আপত্তি নেই আমার, কোনোই অমত নেই আমার কালীর মা।’ বলতে বলতে কণ্ঠ বুজে এলো সিন্ধুচরণের। অতীত যা-ই হোক, সিন্ধুচরণের বর্তমানটা যে আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছে—বুঝতে অসুবিধা হয় না ভবানীর। গেল দশটি মাস যে কী যন্ত্রণায় কেটেছে তাদের। আহা লোকটা! মরমে একেবারে মরে গিয়েছিল কালীর বাপ। কারো সঙ্গে কথা বলত না তেমন। কৈবর্তরা সুখ-অসুখে তার সঙ্গে দেখা করতে এলে এড়িয়ে চলত। যাদের এড়াতে পারত না, সংক্ষেপে আলাপ সারত তাদের সঙ্গে। কী রকম মুখ বেজার করে দাওয়ায় বসে থাকত। কখনো কখনো যমুনা পারে গিয়ে উদাস চোখে দূরে জলরেখার দিকে তাকিয়ে থাকত।

দু-চারটি কথা যা বলত, নরসিংহ জেঠার সঙ্গে। আলাপের সবটুকু শুনতে পেত না ভবানী। ছিটেফোঁটা দু-একটি শব্দ ছিটকে আসত তার কানে। কখনো কালীর বাপ বলত—কী যে হয়ে গেল জেঠা আমার জীবনে! কখনো বলত—আমার এই যে নিষ্পাপ মেয়েটি, কোন অপরাধে আজ এত বড় শাস্তি ভোগ করছে জেঠা বলতে পারো? কখনো ভবানী শুনতে পেত—আমার মত্স্যগন্ধার ভবিষ্যত্টা কী হবে জেঠা?

আগত সন্তানটিকে নিয়ে আমার মেয়ে কী করবে? বলো জেঠা, বলো। জেঠা শুধু বলত—ধৈর্য ধরো সিন্ধু, ধৈর্য ধরো। আজ অসহায়, নিষ্প্রাণ এই মানুষটি যে জেগে উঠল, তা নাতিটির জন্যই তো! বিপন্ন বিপর্যস্ত এই মানুষটি যে আজ উঠানে ঘুরে ঘুরে নাচল, ওই নাতিটির জন্যই তো! কালীর পুত্রসন্তানটিই তো তার স্বামীকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে এনেছে! আজ এই মানুষটি যে আনন্দ সাগরে ভাসছে, তা কালীর পুত্রটির জন্যই তো! নাতিটির নাম দেওয়ার পূর্ণ অধিকার তা-ই কালীর বাপের। আজ, এই মুহূর্তে স্বামীর সঙ্গে তার কণ্ঠ মেলানো উচিত।

গলায় আবেগ ঢেলে ভবানী বলল, ‘তুমি ঠিক নামই দিয়েছ নাতির—কৃষ্ণ।’

‘আর দ্বৈপায়ন!’ অবাক কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল সিন্ধুচরণ।

‘হ্যাঁ, ওটাও ঠিক।’ আমতা আমতা করে বলল ভবানী।

‘তুমি এত দ্বিধা নিয়ে বলছ কেন কথাটা? আমার মনে হয় পরের নামটিতে তোমার আপত্তি আছে।’ বলল সিন্ধুচরণ।

‘না না। দ্বিধা না। তবে নামটা কঠিন কঠিন। তুমি অবশ্য বুঝিয়েছ বটে আমায়।’

‘দেখে নিয়ো কালীর মা, একদিন এই জগত্সংসার তোমার নাতিটিকে দ্বৈপায়ন নামেই চিনবে বেশি।’ ‘অন্যরা যে নামেই ডাকুক, আমি কিন্তু কৃষ্ণ নামেই ডাকব তাকে।’

‘ডেকো ডেকো! কৃষ্ণ কৃষ্ণ। দ্বৈপায়ন দ্বৈপায়ন।’ বাঁধনহারা কণ্ঠে বলতে থাকল সিন্ধুচরণ।

পর্ণকুটিরটির ভেতরে অন্য দৃশ্য।

মত্স্যগন্ধা পলকহীন চোখে তাকিয়ে আছে কৃষ্ণের দিকে। এ কে? এ কি তার সন্তান? একেই কি সে দশ মাস পেটে ধারণ করে ছিল? এই ছেলে কি তার বৈধ সন্তান? না না। এ তার বৈধ সন্তান হতে পারে না! এ তো বলাত্কারের ফসল!

  চলবে ►

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা