kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

লে খা র ই শ কু ল

নিখুঁত শৈলীর লেখক ফ্লবেয়ার

৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



 নিখুঁত শৈলীর লেখক ফ্লবেয়ার

ফরাসি ঔপন্যাসিক গুস্তাভ ফ্লবেয়ারের জন্ম ১৮২১ সালে উত্তর ফ্রান্সের আপার নরমান্ডিতে। ফরাসি কথাসাহিত্যে বাস্তবতাবাদের অগ্রপথিকদের অন্যতম তিনি। তাঁর ওপরে লক্ষণীয় প্রভাব পড়ে দার্শনিক স্পিনোজার। স্পিনোজাভক্ত গ্যেটে ও আইনস্টাইনের মতো তিনিও সর্বেশ্বরবাদে বিশ্বাস করতেন।

লেখার শৈলীর দিক থেকে ফ্লবেয়ার ছিলেন খুব খুঁতখুঁতে। লেখা ঘষামাজা করে বারবার লিখতেন। বাক্যের মধ্যে সামান্য বেমানান কথাও তাঁর পছন্দ ছিল না। বাক্যে সঠিক ও যথাযথ শব্দটিই ব্যবহারের চেষ্টা করতেন। লেখার মধ্যে শিল্পের ছোঁয়া আনতে চাইলে প্রথমত শব্দের যথাযথ ব্যবহার করাটাই জরুরি বলে মনে করতেন তিনি। নিঃসঙ্গ পরিবেশে কঠিন মনোযোগের সঙ্গে সাধনা করে লেখা চালিয়ে যেতেন তিনি। কখনো কখনো গোটা এক সপ্তাহ ধরে মাত্র এক পৃষ্ঠা লিখতেন। তার পরও লেখার শেষ অবস্থাটা নিয়ে তিনি কখনো পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারতেন না। তাঁর পরিচিতজন ও বন্ধুদের তিনি অকপটে জানিয়েছেন, সঠিক গদ্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁর কলম থেকে বের হয়নি। তাঁকে বারবার পরিবর্তন-পরিমার্জন করেই শুধু পছন্দমতো গদ্য সাজাতে হতো। বালজাক কিংবা জোলার লেখার পরিমাণের সঙ্গে ফ্লবেয়ারের লেখার পরিমাণ তুলনা করে দেখলে যে কেউ বুঝতে পারবেন তাঁর সময় নিয়ে সাধনা করে লেখার বিষয়টি। তাঁর সমসাময়িক লেখকরা যে গতিতে লেখা প্রকাশ করতেন, ফ্লবেয়ারের লেখা প্রকাশের গতি কখনোই তেমনটা হতো না। এক বছরে একটি উপন্যাস লেখার মতো গতিও তাঁর ছিল না। তাঁর সমসাময়িকরা তাঁদের লেখার সর্বোচ্চ গতির সময়ে বছরে একটি উপন্যাস লিখে ফেলতে পারতেন। ফ্লবেয়ারের প্রথম উপন্যাস ‘ম্যাডাম বোভারি’। এটি প্রকাশ করেন ১৮৫৬ সালে। মফস্বলের জীবনের মামুলিত্ব থেকে উঠে আসার চেষ্টা চালাতে থাকা প্রধান চরিত্রের নাম এমা বোভারি। উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে ‘লা রেভিউ দে প্যারি’ ম্যাগাজিনে প্রকাশের সময়ই যৌনতার দায়ে অভিযুক্ত হয়। 

ফ্লবেয়ার তাঁর সমসাময়িক কবি-সাহিত্যিকদের সঙ্গে সরাসরি কিংবা চিঠিপত্রের মাধ্যমে লেখালেখি সম্পর্কে মতবিনিময় করেন। তাঁর দীর্ঘদিনের বান্ধবী কবি লুইসা কোলেতের সঙ্গে অনেক চিঠিপত্রের মাধ্যমে লেখালেখি সম্পর্কে মতামত বিনিময় করেন। ফ্লবেয়ারের উপন্যাস ‘ম্যাডাম বোভারি’ লেখার সময় অনেক তথ্যেরও জোগান পান লুইসার কাছে চিঠি লিখে। অন্যদিকে লুইসা তাঁর কবিতা প্রকাশ করতে দেওয়ার আগে ফ্লবেয়ারের মতামতের জন্য তাঁর কাছে পাঠাতেন। ফ্লবেয়ার লুইসার কবিতা সম্পর্কে দীর্ঘ মতামত জানিয়ে চিঠি লিখতেন। অনেক চিঠিতে লুইসার কবিতার প্রাণখোলা প্রশংসা থাকত। তবে লুইসার কবিতার মধ্যে রোমান্টিক ভাবালুতার মাত্রা ফ্লবেয়ারের পছন্দের ছিল না। তিনি খোলাখুলি সেটা জানিয়েও দেন।

ফ্লবেয়ার জীবনে বিয়েশাদি করেননি। জীবন সম্পর্কে তাঁর বিশেষ দর্শন ছিল। তিনি নিজের মতো জীবন যাপন করেছেন। ১৮৫২ সালের ডিসেম্বরের ১১ তারিখে তাঁর বান্ধবী লুইসা কোলেতকে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি বলেন, তিনি শিশু জন্মের বিরোধী। কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন, তিনি আর কারো কাছে অস্তিত্বের অবনমন ও কলঙ্ক চাপাতে চান না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা