kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

মেলার প্রথম সপ্তাহের নির্বাচিত ৫ বই
অগ্নিমানুষ

উপন্যাসের আঙ্গিকে ইতিহাসের সরল ভাষ্য

তুহিন ওয়াদুদ

৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



উপন্যাসের আঙ্গিকে ইতিহাসের সরল ভাষ্য

অগ্নিমানুষ : মোস্তফা কামাল। প্রকাশক : পার্ল পাবলিকেশন্স। প্রচ্ছদ : ধ্রুব এষ। মূল্য : ৫০০ টাকা

ইতিহাসবিষয়ক গভীর অনুধ্যানের সরল ভাষ্য মোস্তফা কামালের ‘অগ্নিমানুষ’ উপন্যাস। এ জাতীয় উপন্যাস তাঁর এটাই প্রথম নয়, এরও আগে তিনি ‘অগ্নিকন্যা’ ও ‘অগ্নিপুরুষ’ নামে দুটি উপন্যাস পাঠকের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। পাঠকনন্দিত হওয়ায় তিনি তৃতীয় উপন্যাস ‘অগ্নিমানুষ’ রচনায় ব্রতী করেছেন।

বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কালখণ্ডের শুরুর কয়েক বছর বাদ দিলে বাকি সময়জুড়ে সব পাকিস্তানের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে সব ঘটনাপ্রবাহ। সেসব ঘটনাই মোস্তফা কামালের তিনটি উপন্যাসের উপজীব্য। বাস্তব আর কল্পনার মিশ্রণেই গড়ে উঠেছে এ তিনটি উপন্যাসের অবয়ব। এ প্রসঙ্গে ভূমিকাপর্বে লেখকের বক্তব্য এখানে প্রণিধানযোগ্য—‘এ কথা স্বীকার করতেই হবে, ইতিহাস-আশ্রিত উপন্যাস রচনার কাজটি খুবই কঠিন। ঐতিহাসিক চরিত্র ও ঘটনাপ্রবাহ সত্য। কিন্তু লিখতে হয়েছে উপন্যাস। চরিত্র ও ঘটনাপ্রবাহ ঠিক রেখে আমাকে কল্পনা করতে হয়েছে সেই সময়কে। আত্মস্থ করতে হয়েছে সেই সময়ের মানুষের চরিত্র, তাদের কর্মকাণ্ড এবং ইতিহাস-রাজনীতির নানা প্রেক্ষাপট।’

পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, হাজার বছরের পরাধীনতায় বাঙালিরা পাকিস্তানি শাসনপর্বে সবচেয়ে বেশি শোষণ, পীড়ন, নির্যাতনের শিকার হয়েছে। লেখক মোস্তফা কামাল এই কালখণ্ড ধরেই তিনটি উপন্যাস রচনা করেছেন। তিনটি উপন্যাসের বিষয় এক হলেও সময়টি এক নয়, ধারাবাহিক। প্রথম উপন্যাস ‘অগ্নিকন্যার’ প্রধান চরিত্র মতিয়া চৌধুরী। ১৯৪৭ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত ব্যাপ্ত এর পরিসর। ‘অগ্নিকন্যা’র পর ‘অগ্নিপুরুষ’-এর সময়। এর প্রধান চরিত্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তৃতীয় উপন্যাস ‘অগ্নিমানুষ’। উপন্যাসে অগ্নিমানুষ হিসেবে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আরো কয়েকজন শীর্ষ রাজনীতিবিদকে পেলেও প্রধান চরিত্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এ উপন্যাসের খলচরিত্র ইয়াহিয়া খান। উপন্যাসটি শুরুই হয়েছে ইয়াহিয়া খানের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে। উপন্যাসটির শেষাংশে ইয়াহিয়া খানকে দায়িত্ব ছেড়ে দিতে দেখা যায়। ঔপন্যাসিক মোস্তফা কামাল ইয়াহিয়া খানের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার মাধ্যমে উপন্যাসের শেষ দেখাননি। কারণ ইয়াহিয়া শাসনভার গ্রহণ করার মধ্য দিয়ে পাকিস্তান রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলেও তা মূলত আইয়ুব খানের শাসনের মুদ্রার অন্য পিঠ মাত্র। আর উপন্যাসের প্রধান চরিত্র যেহেতু বঙ্গবন্ধু শেখ মুুজিবুর রহমান, তাই যুদ্ধে জয়লাভ করার মধ্য দিয়েও উপন্যাস শেষ হয়নি। পাকিস্তানের জেল থেকে মুক্ত হয়ে যখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন দেশে আসেন, তখন কাহিনির যবনিকাপাত হয়। প্রকৃত অর্থে যেখানে এ উপন্যাসের সমাপ্তি টানা জরুরি, সেখানেই টানা হয়েছে। উপন্যাসের শুরু এবং শেষ যে স্থান থেকে শুরু হয়েছে, দুটিই খুব তাত্পর্যপূর্ণ।

ইতিহাসের গভীর পাণ্ডিত্য নিয়ে এ উপন্যাস রচনায় প্রয়াসী হয়েছেন মোস্তফা কামাল। ভাষার গাম্ভীর্যের পরিবর্তে আশ্রয় নিয়েছেন ইতিহাসের দ্যোতনার। নিরীক্ষাধর্মী ভাষা কিংবা নতুন আঙ্গিক সৃষ্টি করার ব্রত নিয়ে লেখক এ উপন্যাস রচনা করেননি। ভাষার সারল্য এ উপন্যাসের শিল্পগুণ। সাড়ে তিন শতাধিক পৃষ্ঠার এ উপন্যাসের পরতে পরতে ইতিহাস বিছানো। অগ্নিদগ্ধ সময়ের অযুত ঘটনা থেকে তিনি একটি পথরেখা সৃষ্টি করেছেন এ উপন্যাসের। প্রধান চরিত্রকে কেন্দ্র করেই কাহিনি পরিণতির দিকে এগিয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফা ঘোষণার পর ছয় দফা থেকে একচুলও সরে আসেননি। তাঁর কর্মকাণ্ড বাংলাদেশকে মুক্ত করার এক অসমসাহসী প্রত্যয়ে জ্বলে উঠেছিল। তিনি সারা দেশের মানুষকে একটি অভিন্ন স্বপ্নে বিভোর করে তুলতে পেরেছিলেন। দেশবাসী তাঁর কথার ওপর শতভাগ আস্থা রেখেছিল। তিনি ইয়াহিয়াকে নির্বাচন দিতে বাধ্য করেছিলেন। সঙ্গে থাকা রাজনীতিবিদদের সঙ্গে পরামর্শ করে অনেক সিদ্ধান্ত নিতেন। এগুলো হচ্ছে ইতিহাসের পাঠ। কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কী মনে মনে ভাবছেন, তাঁর উদ্বেগ কোন মাত্রার কিংবা ঘটনা অনুযায়ী পরিবেশ সৃষ্টি করা, উপযুক্ত আবহ দান করার মধ্যে লেখকের কৃতিত্ব নির্ভর করে। মোস্তফা কামাল এসব সৃষ্টিতে তাঁর শক্তিশালী লেখকসত্তার পরিচয় দিয়েছেন।

ইয়াহিয়া খান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দুরভিসন্ধি আঁটতে থাকেন। কিভাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আন্দোলন নস্যাৎকরা যায়, কিভাবে নির্বাচন না দিয়ে নিজের ক্ষমতা দীর্ঘ করা যায়, কিভাবে কূটকৌশলের আশ্রয় নিয়ে দেশের পরিবর্তে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করা যায়—এসব নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। ঔপন্যাসিক এসব ঘটনার বস্তুনিষ্ঠ বর্ণনা হাজির করেছেন। এখানে লেখকের কৃতিত্ব পরস্ফুিট হয়েছে। কিন্তু সেই সঙ্গে লেখক পারঙ্গমতার পরিচয় দিয়েছেন—ইয়াহিয়ার মনোজগতে কী ঘটছে তার বর্ণনায়। দৃশ্যমান ঘটনার বয়ান ইতিহাসের পাঠ। কিন্তু চরিত্রগুলোর মানসে কী ঘটছে তার রূপায়ণটাই হচ্ছে লেখকের শিল্পনৈপুণ্য। মোস্তফা কামাল অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে সেই কাজটি সম্পন্ন করেছেন।

ইয়াহিয়া খান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে পেরে ওঠেননি কখনো। বাধ্য হয়ে যখন ইয়াহিয়া নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছেন, তখনো মনে মনে নানা ফন্দি আঁটার চেষ্টা করে গেছেন। ১৯৭০ সালের অক্টোবরে নির্বাচনের সময় ঘোষণা করা হয়। দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ইয়াহিয়া খান তিন মাস নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ইয়াহিয়া খানের মধ্যে কথোপকথনের সময় কার মনে কোন চিন্তার উদয় হচ্ছে, লেখক তার বর্ণনা দিয়েছেন এভাবে—‘শেখ মুজিব মনে মনে ভাবেন, আমার এখনো অনেক এলাকায় যাওয়া হয়নি। পশ্চিম পাকিস্তানেও কিছু সভা-সমাবেশ করা দরকার। আর তিন মাস সময় পেলে মন্দ হয় না। আর ইয়াহিয়া ভাবেন, নির্বাচনী প্রচার করতে করতে শেখ মুজিব টায়ার্ড হয়ে যাবে। পয়সা-কড়িও শেষ হয়ে যাবে। সেই সুযোগে মুসলিম লীগসহ ইসলামি দলগুলোকে টাকা-পয়সা দিয়ে চাঙা করব। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে টানতে ধর্মীয় ঢাল ব্যবহার করতে হবে। তাতে কাজ হবে।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মনে এই কথা ভাবলেও অভিব্যক্তিতে তার চিহ্নমাত্র রাখেন না। বরং সতর্ক করে দেন—‘আপনি যখন বলছেন ডিসেম্বরে করবেন; আমার আপত্তি নেই। তবে এর পর আর পেছাবেন না। তাহলে কিন্তু সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করব।’ এ কথার উত্তরে ইয়াহিয়া খান বলেন—‘না না! পেছানোর প্রশ্নই আসে না। আপনি নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন।’

মোস্তফা কামাল ইতিহাস রচয়িতা নন। তিনি প্রধানত কথাসাহিত্যিক। ফলে তিনি কথাসাহিত্যই রচনা করেছেন। লেখক কল্পনার আশ্রয় নিয়ে কাহিনি ও চরিত্র তৈরি করেন। মোস্তফা কামালও অন্যান্য উপন্যাসে এভাবেই কাহিনি বিনির্মাণ করেছেন। শুধু ইতিহাসনির্ভর উপন্যাসের কাহিনি বিনির্মাণের ক্ষেত্রে তিনি ইতিহাস থেকে কাহিনি সংগ্রহ করেছেন। ইতিহাসের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তিনি স্বমহিমায় বিন্যস্ত করেছেন।

মহাকাব্যিক এক বিস্তর বিষয়কে তিনি উপন্যাসে তুলে ধরেছেন। ইতিহাসের এক দীর্ঘ বয়ান নাতিদীর্ঘ পরিসরে সম্পূর্ণ তুলে আনা কষ্টসাধ্য। কিন্তু সামান্যের মাঝে অসামান্যকে তুলে ধরাই প্রকৃত লেখকের কাজ। মোস্তফা কামাল সে কাজটিই করেছেন। আমরা লক্ষ করি, নির্বাচনের তারিখ ঠিক হওয়ার পর নির্বাচনকালীন যে দীর্ঘ ঘটনাপঞ্জি, লেখক তা একেবারেই ফলাফলের ঘটনা দ্বারাই তুলে ধরেছেন। ইয়াহিয়ার কাছে যতবার গোয়েন্দা সংস্থা প্রতিবেদন দিয়েছে, প্রতিবারই দেখা গেছে, সেখানে আওয়ামী লীগের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। মাত্র কয়েকটি আসনে জেতার সম্ভাবনা রয়েছে। মাঠের প্রকৃত খবর ইয়াহিয়াকে না দিয়ে যে খবর শুনলে ইয়াহিয়া খুশি হবেন, সেই খবর দেওয়ার চেষ্টা করেছে সরকারি সংস্থা। গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ইয়াহিয়া খান নির্বাচন দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই নির্বাচনে যে এমনভাবে আওয়ামী লীগ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবে, এটি কিছুতেই ধারণা করতে পারেননি ইয়াহিয়া খান। নির্বাচনকালীন কোনো ঘটনার উল্লেখ না থাকলেও ফলাফলের মধ্যেই আওয়ামী লীগের শক্তি নির্ধারিত হয়ে যায়।

একইভাবে ঔপন্যাসিক মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযুদ্ধের অবস্থা বোঝানোর জন্য সামান্য ঘটনার আশ্রয় নিয়েছেন। বরং ইয়াহিয়ার উত্কণ্ঠার মধ্যে তাঁর অবশ্যম্ভাবী পরাজয়ের দিকটিই টের পাওয়া যাচ্ছিল। যুদ্ধকালীন তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী, এ এইচ এম কামরুজ্জামান, খন্দকার মোশতাক আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, মওলানা ভাসানীসহ অনেকের ভূমিকা স্বল্পায়তনেও উঠে এসেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের অবস্থাও উঠে এসেছে অল্পবিস্তর।

উপন্যাসের অনিবার্য কাহিনিবিন্যাসে গণমাধ্যমের অবস্থাও জানা যায়। সংবাদ, ইত্তেফাক পত্রিকার ওপর পাকিস্তান সরকারের চাপ থাকা সত্ত্বেও সাহসিকতার সঙ্গে খবর পরিবেশিত হয়েছে। সাংবাদিক শহীদুল্লা কায়সার, বজলুর রহমান, সিরাজুদ্দীন হোসেনসহ অনেকের আলাপচারিতায় সময়চিত্র উঠে এসেছে। মতিয়া চৌধুরীর প্রসঙ্গও এসেছে। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে লেখক-শিল্পীদের একাত্মতা প্রকাশের বিষয়টিও লক্ষ করা যায়।

মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, চীনের ভূমিকাও উঠে এসেছে। রাশিয়া, ভারতের অবস্থাও তুলে ধরা হয়েছে। যুদ্ধের সময় ভারতের অশেষ সহযোগিতা পরিষ্কারভাবেই উঠে এসেছে।

মোস্তফা কামাল সহজ সরল বর্ণনায় ইতিহাস পাঠকে পাঠকের কাছে দারুণভাবে উপস্থাপন করেছেন। এমন হূদয়গ্রাহী করে তুলেছেন, তা সব শ্রেণির পাঠককেই আকৃষ্ট করবে। যাঁরা এই ইতিহাস জানেন না, তাঁরাও একটিমাত্র উপন্যাসের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ইতিহাস জানতে পারবেন। যিনি ইতিহাস লেখেন, তাঁর পক্ষে মানুষের হূদয় বিশ্লেষণ করার সুযোগ থাকে না। কিন্তু যিনি উপন্যাস রচনা করেন, তিনি ইতিহাসের মধ্যে প্রাণ সঞ্চার করতে পারেন। সে জন্য ইতিহাসের পাঠ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে হলে প্রাণিত ইতিহাস পাঠই হয়ে ওঠে। মোস্তফা কামাল সেই কাজটি অনেক নির্মোহভাবে সম্পন্ন করেছেন। তিনি আবেগের স্রোতে ভেসে বিষয়ের সৌন্দর্য ক্ষুণ্ন করেননি। পক্ষপাতিত্ব করে ইতিহাসের স্বরূপ নষ্ট করেননি।

সাহিত্য আর ইতিহাস ‘অগ্নিমানুষ’ উপন্যাসে সমান্তরাল চলেনি। একটি অন্যটিকে এমন নিবিড় আলিঙ্গনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে গেছে যে এর কোনোটিকেই আলাদা করা যাবে না। সাহিত্য ও ইতিহাস এখানে স্বতঃস্ফূর্ত বিকশিত।

লেখক মোস্তফা কামাল ‘অগ্নিকন্যা’, ‘অগ্নিপুরুষ’ ও ‘অগ্নিমানুষ’—এই তিনটি উপন্যাস পাঠকের কাছে পৌঁছে দিয়ে লেখক হিসেবে অনেক বড় কাজ করেছেন। সামাজিক দায়বদ্ধতার অনন্য স্মারক হয়ে থাকবে এ তিনটি উপন্যাস। পাঠক ইতিহাস পড়বেন, ইতিহাসের চরিত্রগুলো বিশ্লেষণ করার সুযোগ পাবেন। সাদামাটা ইতিহাস পাঠ অনেক পাঠককেই বিমুখ করে তোলে। কিন্তু মোস্তফা কামালের এই সৃষ্টিত্রয় বিমুখ পাঠককেও পাঠে মনোনিবেশ করাবে। লেখকের দীর্ঘ পরিশ্রমে এ সৃষ্টির গোড়ার কথা। ভূমিকাকথনে লেখক সেই কথাও বলেছেন। দীর্ঘ ১৮ বছরের পরিশ্রম আছে সৃষ্টিত্রয়ে। মোস্তফা কামালের এ তিনটি উপন্যাস একটি অন্যটির খণ্ড নয়; স্বতন্ত্র উপন্যাস। যে কেউ যেকোনোটি পড়লেও রস আস্বাদনে অসুবিধা হবে না। তবে একটি পড়লে অন্যটি পড়তে পাঠক আগ্রহী হবেন। এখানেই লেখকের বড় সার্থকতা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা