kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

মেলার প্রথম সপ্তাহের নির্বাচিত ৫ বই
বিষণ্ন শহরের দহন

কালের প্রতিচ্ছবি

মুহিল কবির

৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কালের প্রতিচ্ছবি

বিষণ্ন শহরের দহন : সেলিনা হোসেন। প্রকাশক : ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ। প্রচ্ছদ : ধ্রুব এষ। মূল্য : চারশত টাকা।

সমকালীন কথাসাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম সেলিনা হোসেন। চলতি বইমেলায় প্রকাশিত হলো তাঁর উপন্যাস ‘বিষণ্ন শহরের দহন’।

উপন্যাসের নামকরণে কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন বেছে নিয়েছেন তিনটি মাত্র শব্দ। কিন্তু তিনটি শব্দ যে অর্থে অর্থময় হয়ে ওঠে, তা অন্য রকম। মূলত এখানে শহরই প্রধান। তাকে বলা হচ্ছে বিষণ্ন। এই বিষণ্ন শহরের আবার দহন। আমরা জানি শহর কোনো জান্তব প্রাণী নয়। নয় মানুষ। তাই তার কোনো আবেগ থাকতে পারে না। কিন্তু সেলিনা হোসেন এই অপ্রাণীকে প্রাণ দান করেছেন। তারপর বের করে এনেছেন এর দহন। তা করেছেন এমনভাবে যেন কোনোভাবেই এই উপন্যাসের নামকরণ অন্য কিছু হওয়ার দাবি করতে পারে না। এমনকি উপন্যাসজুড়ে এই শহরের প্রাণময় আবেগী যুক্তিপ্রবণ উপস্থিতি এমনভাবে ঘটিয়েছেন যে শহরটিই হয়ে উঠেছে এই উপন্যাসের একটি চরিত্র। বিশ্বসাহিত্যে কোনো শহরের কোনো উপন্যাসের চরিত্র হয়ে ওঠার উদাহরণ আছে কি না সন্দেহ। তবে বাংলা সাহিত্যে এ রকম উদাহরণ যে একেবারেই নতুন তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

তো শহর কিভাবে চরিত্র হয়ে উঠল তা ভাববার বিষয় বৈকি। এই শহর তো ধারণ করে আছে শত-সহস্র মানুষকে। যত মানুষ তত রকম মানুষ। কারো সঙ্গে কারো মিল নেই। ভালো মানুষ-খারাপ মানুষ সব ধরনের মানুষই এখানে বসবাস করে। এরই মধ্যে স্বাভাবিক বসবাসের মাঝেই ঘটে যায় অস্বাভাবিক ঘটনা। তখনই শহর জেগে ওঠে। মানুষের মতো কথা বলে। মানুষের মতো যুক্তি দেখায়। মানুষের মতো মমতাময় হয়ে ওঠে। রেগে ওঠে। আবার চলে যায়।

কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন এসব চরিত্র এবং বিষণ্ন শহরের উপস্থিতির মাধ্যমে মূলত সমকালীন সামাজিক ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব-সংঘাতের চিত্র এঁকেছেন, যা তাঁর কলমের ছোঁয়ায় অপরূপ বাস্তবতায় মূর্ত হয়ে উঠেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা