kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

বামনা শুভসংঘের দপ্তর সম্পাদকের ওপর কিশোর গ্যাংয়ের হামলা, গ্রেপ্তার ১

বামনা (বরগুনা) প্রতিনিধি   

৬ অক্টোবর, ২০২২ ১৩:৫১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বামনা শুভসংঘের দপ্তর সম্পাদকের ওপর কিশোর গ্যাংয়ের হামলা, গ্রেপ্তার ১

হামলার শিকার প্রসেনজিত মিত্র প্রান্ত

বরগুনায় কালের কণ্ঠ শুভসংঘের বামনা উপজেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক প্রসেনজিত মিত্র প্রান্ত (১৭) কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় শিকার হয়েছেন। বামনা সরকারি ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী ও যুব রেডক্রিসেন্ট সরকারি কলেজ দলনেতা প্রান্ত গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।  

এ ঘটনায় বুধবার (৫ অক্টোবর) রাতে প্রান্তের পিতা উপজেলা কৃষি অফিসের বীজ সংরক্ষণ কর্মকর্তা প্রতিক মিত্র বামনা থানায় দুজনকে নামে আসামি ও বাকিদের অজ্ঞাতনামা আসামি করে বামনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার নামীয় আসামিরা হলেন-  উপজেলার নিজ আমতলী গ্রামের মন্টু খানের ছেলে মো. ইমন (২০) ও একই গ্রামের বাচ্চু চৌকিদারের ছেলে তুষার (১৮)।

বিজ্ঞাপন

বামনা থানা পুলিশ বুধবার সন্ধ্যায় সোনাখালী বাজার এলাকা থেকে মামলার আসামি ইমনকে গ্রেপ্তার করে। তবে অপর আসামী বর্তমানে পলাতক রয়েছেন বলে পুলিশ জানায়।  

এর আগে গত সোমবার (৩ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গা উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বাসায় ফেরার পথে রাত সাড়ে ১১টার দিকে বামনা উপজেলা সদরের হাসপাতাল সড়কে দৈনিক সাগরকূল পত্রিকা কার্যালয়ে কাছে হামলার শিকার হন প্রান্ত। তবে কী কারণে তার ওপর হামলা হয়েছে সেটি নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না স্বজনরা।  

প্রান্তের পিতা প্রতিক মিত্র জানান, বামনা সদর মন্দির থেকে অষ্টমীর পূজা শেষে রাত সোয়া ১১টার দিকে তারা বাসার উদ্দেশে রওনা হন। প্রচণ্ড বৃষ্টি থাকায় ছেলে প্রান্ত একটি ছাতা নিয়ে তাদের থেকে কিছুটা সামনে হাঁটতে থাকেন। পথে তারা একটি দোকানে কয়েকজন লোকের সাথে কথা বলার কারণে প্রান্ত অনেকটা সামনে হেঁটে চলে যান। এর মধ্যে সাগারকুল অফিস পার হয়ে যাওয়ার পরে প্রাপ্তের চিৎকার শুনে তারা সামনে এগিয়ে যান। এসময় তাদের পাশ দিয়েই কয়েকজন ছেলেকে তারা দৌড়ে চলে যেতে দেখলেও চিনতে পারেননি। পরে তারা গিয়ে তার সন্তানকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখেন। সেখান থেকে প্রান্তকে হাসপাতালে নেয়া হয়। তার মাথায় ও গালে ধারাল অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হয়েছে। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজে নেওয়া হয়।  

আহত প্রান্ত বলেন, আমাকে মন্দিরে বসে একজন বলেছিল, আমাকে কারা যেন মারবে। তবে আমি কখনো কারো সাথে কোনো খারাপ আচারণ করিনি। কাজেই বিষয়টি আমি বিশ্বাস করিনি। আমি ভেবেছি অন্য এক প্রান্ত আছে তাকে হয়তো বলেছে। আম পূজা শেষে বাসায় যাওয়ার সময় প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যে আমার পেছন থেকে তারা আঘাত করে। আমি রাস্তায় পড়ে যাই। বৃষ্টির কারণে আমি তেমন ভালো করে কাউকে চিনতেও পরিনি। পরে যখন তারা দৌড়ে কিছুটা সামনে সাগরকূল পত্রিকা অফিসের কাছে যায়, তখন দুজনকে মোটামুটি চিনেছি। এর আগে তাদের দুজনকে উপজেলা রেজিস্ট্রি অফিসের কাছে আমি দেখেছিলাম। তবে কী কারণে আমার ওপর হামলা করা হয়েছে তা এখনো আমি বুঝে উঠতে পারছি না।

এ ব্যাপারে বামনা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. বশিরুল আলম বলেন, প্রসেনজিত মিত্র প্রান্ত একজন ভালো ও মেধাবী শিক্ষার্থী। তার ওপর দুর্বৃত্তরা হামলা করেছে। আমরা ইতিমধ্যে একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি। বাকি আসসামিদের গ্র্রেপ্তার করা হবে। এছাড়াও সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে কে কে এই হামলায় জড়িত ছিলো তা শনাক্ত করা হবে।  



সাতদিনের সেরা