kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

জয়পুরহাটে শুভসংঘের উদ্যোগে হা-ডু-ডু খেলার আয়োজন

এম রাসেল আহমেদ, জয়পুরহাট   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৬:৫১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জয়পুরহাটে শুভসংঘের উদ্যোগে হা-ডু-ডু খেলার আয়োজন

গ্রাম বাংলার হারানো ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতে জয়পুরহাট জেলার কালাই শাখার শুভসংঘ হা-ডু-ডু খেলার আয়োজন করেছে। জয়পুরহাট জেলা শহর থেকে সাত কিলোমিটার দূরে প্রত্যন্ত গ্রাম রাংতা ঘোনাপাড়ায় চলে এ আয়োজন। শুক্রবার সকাল থেকে চলে খেলার মাঠে মানুষের সমাগম। মানুষের মধ্যে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু ছিল হা-ডু-ডু খেলা।

বিজ্ঞাপন

 

গ্রামীণ ঐতিহ্যের এক সময়ের জনপ্রিয় খেলা হা-ডু-ডু এখন অনেকটাই বিলুপ্তির পথে। গ্রামের কাঁচা রাস্তায়, মাঠ, বাগানে বা খোলা স্থানে জমজমাট ও উৎসবমুখর পরিবেশে হতো এ হা-ডু-ডু খেলা। কিন্তু কালের আবর্তে সেই খেলা এখন আর দেখা যায় না। আধুনিক খেলা এবং যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততার কাছে হেরে গেছে গ্রাম বাংলার জনপ্রিয় এ খেলাটি।

এখন আর কোনো উৎসবে বা বিশেষ দিবসে এ খেলার আয়োজন হয় না বললেই চলে। তাই নতুন প্রজন্ম জানে না এ খেলা সম্পর্কে। ভুলতে বসছেন অন্যরাও। নতুন করে খেলোয়াড়ও তৈরি হচ্ছে না। খেলাটির প্রচলন করতে জয়পুরহাট জেলা ও কালাই শাখার কালের কণ্ঠ শুভসংঘের বন্ধুরা বিভিন্ন গ্রামে হা-ডু-ডুর আয়োজন করছেন। তারই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার ৮টি দল নিয়ে এই খেলার আয়োজন চলে জয়পুরহাট রাংতা ঘোনা পাড়ায়। উদ্বোধনী খেলায় অংশগ্রহণ করে রাংতা ঘোনাপাড়া ও দন্ডপানি গ্রামের তরুণ দল। হা-ডু-ডু খেলার আয়োজনকে ঘিরে গ্রামজুড়ে চলে মাইকিং, প্রচার-প্রচারণা।

কালাই শাখার সভাপতি এম রাসেল আহমেদ বলেন, ‘এখন আর গ্রামে সেই দৃশ্য চোখে পড়ে না। কেরাম, ক্রিকেট-ফুটবলসহ আধুনিক বিভিন্ন খেলা, মোবাইল গেম, ফেসবুক, ইন্টারনেট ও স্যাটেলাইটে আসক্ত হয়ে পড়েছে যুব সমাজ। তাই হা-ডু-ডু খেলা অনেকেই ভুলে গেছেন। তাই আমরা আবার এই খেলার প্রচলন ঘটাতে এ আয়োজন করেছি। ’

হা-ডু-ডু খেলাটি দেখতে ভিড় জমান অনেকে। তাদের মধ্যে একজন আ. গাফ্ফার বলেন, হা-ডু-ডু খেলাটি গ্রামের অনেক জনপ্রিয় খেলা। কিন্তু এখন আর তেমন দেখা যায় না। হঠাৎ করেই মানুষের সমাগম দেখে কাছে এসে দেখি হা-ডু-ডু খেলা হচ্ছে। বহু বছর পর খেলা দেখে খুব ভালো লাগে।  

আরেক দর্শক মোস্তাক আহমেদ বলেন, সকালে মাইকে প্রচার হচ্ছিল হা-ডু-ডু খেলা হবে, তাই দেখতে চলে যাই, মনে হচ্ছিল সেই পুরনো দিনে ফিরে এসেছে। শত নারী-পুরুষ এ খেলা উপভোগ করেন।  

খেলায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জয়পুরহাট জেলার কালের কণ্ঠ শুভ সংঘের জয়পুরহাট জেলা শাখার সভাপতি তিতাস মোস্তফা, উপদেষ্টা কালের কণ্ঠ পত্রিকা জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধি মো. আলমগীর হোসেন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব, জয়পুরহাট জেলার শাখার ক্রীড়া সম্পাদক আমানুল্লাহ আমানসহ শুভসংঘের সদস্যবৃন্দ।

হা-ডু-ডু খেলায় বিজয়ী দল রাংতা ঘোনাপাড়া দলের অধিনায়ক আলম ও রানার্সআপ মুরারি পুর দলের অধিনায়ক তৌহিদুল ইসলামকে পুরস্কৃত করেন শুভসংঘের কালাই শাখা সভাপতি এম রাসেল আহমেদ। বাকি খেলোয়াড়দের ক্রেস্ট  প্রদান করে সন্মানিত করেন সহ সভাপতি রাব্বিউল হাসান জিন্নাহসহ কালাই শাখার সকল সদস্যবৃন্দ।



সাতদিনের সেরা