kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

অসহায় চা দোকানির পাশে শেরপুর শুভসংঘ

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৮:৩০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অসহায় চা দোকানির পাশে শেরপুর শুভসংঘ

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের মামুরশাহী গ্রামের বাসিন্দা চাঁন মিয়া (৪৬)। পেশায় একজন চা বিক্রেতা। জায়গা-জমি নেই বললেই চলে। বাবার দেওয়া তিন শতক জায়গায় দোচালা জরাজীর্ণ ঘরেই স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বসবাস করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

আর এক কোণায় টিনের ছাপড়া তুলে সেখানে চা-বিক্রি করেন। প্রতিদিন এই চা বিক্রি করে যে টাকা আয় হয় তা দিয়েই সংসার চালান। গত কয়েকমাস আগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। এরপর তার জীবন ও পরিবারে নেমে আসে অন্ধকার। পরিবারের চার সদস্যের মুখে দুবেলা খাবার জোগার করাই কঠিন হয়ে যায় তার। তাই স্থানীয় লোকজনের নিকট থেকে সাহায্য তুলে কোনো রকমে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন ওই চা বিক্রেতা।

তবে মাস দুয়েক আগে মোটামুটি সুস্থ হয়ে আবারো চা বিক্রি শুরু করেন। এরই মধ্যে দোকানের প্রধান উপকরণ ফ্লাস্কটি নষ্ট হয়ে যায়। টাকার অভাবে সেটি কিনতে না পারায় চা বিক্রি বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। এমন অবস্থায় আবারো বিপাকে পড়েন তিনি। শুরু হয় দুর্বিসহ জীবন। পরে এই বিষয়টি জানতে পারেন বৃহৎ সামাজিক সংগঠন কালেরকণ্ঠ শুভসংঘের সদস্যরা। মুর্হুতের মধ্যেই ওই চা-বিক্রেতার পাশে দাঁড়ালেন তারা। নতুন একটি ফ্লাস্ক ও নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয় তার হাতে।

শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কালেরকণ্ঠ শুভসংঘের শেরপুর উপজেলা কমিটির উদ্যোগে মামুরশাহী পশ্চিমপাড়া গ্রামস্থ চাঁন মিয়ার বাড়ি ও সংলগ্ন দোকানে উপস্থিত হয়ে তাকে ওই নতুন ফ্লাস্ক ও নগদ অর্থ তুলে দেন শুভসংঘের বন্ধুরা।  

বিতরণ অনুষ্ঠানে উপজেলা কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল হাই বারী, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের মজনু, উপদেষ্টা দৈনিক কালেরকণ্ঠের শেরপুর প্রতিনিধি আইয়ুব আলী, উপদেষ্টা ডা. এসএম গোলাম সারোয়ার, শুভসংঘের উপজেলা কমিটির সহ সভাপতি আব্দুল আলীম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাওছার আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ওমর ফারুক, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম রব্বানী, দপ্তর সম্পাদক হুমায়ুন কবির, অর্থ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মুন্টু, সদস্য রমিছা খাতুন প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

নতুন ফ্লাস্ক ও নগদ অর্থ পেয়ে চাঁন মিয়া আনন্দে কেঁদে ফেলেন। তিনি বলেন, আমার অভাবের সংসার। চা বিক্রির টাকায় পেটে ভাত জুটে। ফ্লাস্কটি ফেটে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চা বিক্রি বন্ধ হয়ে যায়। কালেরকণ্ঠ শুভসংঘ ফ্লাস্ক কিনে দেবেন তা ভাবতেও পারি নাই। তারা যে সহযোগিতা করলেন এটি কোনো দিন ভুলবো না। তাদের জন্য দোয়া করা ছাড়া আমার কিছুই করার নেই। আমি ও আমার পরিবারের লোকজন যতদিন বাঁচবো ততদিন কালেরকণ্ঠ শুভসংঘের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করে যাব।

উপজেলা কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের মজনু বলেন, শুভ কাজে সবার পাশে থাকাই হলো কালেরকণ্ঠ শুভসংঘের কাজ। আমরা সেই কাজ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি মাত্র। চা বিক্রেতা চাঁন মিয়া খুবই কষ্টে দিনাতিপাত করেন। চা বিক্রির টাকায় কোনো রকমে সংসার চালাতেন। এরই মধ্যে অসুস্থ হয়ে যান। আবার সুস্থ হয়ে চা বিক্রি শুরু করতেই ফ্লাস্কটি ফেটে যায়। চায়ের দোকান চালানোর পুঁজিও নেই। বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। পরে তার দোকানটি চালু করতে যেসব সামগ্রী প্রয়োজন তা কিনে দেওয়া হয়। সেইসঙ্গে দোকানের পুঁজি হিসেবে তাকে নগদ অর্থও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তারা।



সাতদিনের সেরা