kalerkantho

রবিবার । ২৬ জুন ২০২২ । ১২ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৫ জিলকদ ১৪৪৩

স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে এগিয়ে যাবে মুসলেমিনা

রানা মিত্র    

৭ মে, ২০২২ ১১:০২ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে এগিয়ে যাবে মুসলেমিনা

মুসলেমিনা সুলতানা

উত্তরবঙ্গের গাইবান্ধা জেলার মুসলেমিনা সুলতানা। বর্তমানে পড়াশোনা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) গার্হস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট, গভ. কলেজ অব অ্যাপ্লায়েড হিউম্যান সায়েন্সের সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগে। বাবা মোকলেসুর রহমানের অভাবের সংসার। জমি বর্গা দিয়ে যেটুকু অর্থ পান তাতেই সংসার চালানো দায় হয়ে পড়ে অসহায় এই মানুষটির।

বিজ্ঞাপন

তিন ছেলেমেয়ের পড়াশোনার খরচ চালানো তাঁর কাছে অলীক কল্পনা। মুসলেমিনা মোকলেসুর-জীবন নাহার দম্পতির দ্বিতীয় সন্তান। পড়াশোনায় ছোটবেলা থেকেই মেধার ছাপ রেখে আসছিলেন তিনি। দারিদ্র্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলেও বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি মুসলেমিনার জীবনে। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে মুসলেমিনা ছাপরহাটি এসসি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এসএসসি এবং গাইবান্ধা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে জিপিএ ৫ পেয়ে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। কিন্তু উচ্চশিক্ষার স্বপ্নে আবারও মুসলেমিনার জীবনে বাধা হয়ে দাঁড়ায় দারিদ্র্য। নিজের চেষ্টায় ভর্তির সুযোগ পান ঢাবির গার্হস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট গভ. কলেজ অব অ্যাপ্লায়েড হিউম্যান সায়েন্সের সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগে। কিন্তু ঢাকায় থাকার এত খরচ কিভাবে সামলাবেন বুঝে উঠতে পারছিলেন না তিনি। হতাশায় দিন কাটছিল তাঁর। ভেবেছিলেন আর বুঝি পড়াশোনা এগিয়ে নিতে পারবেন না। ঠিক তখনই মুসলেমিনার পাশে এসে দাঁড়ায় শুভসংঘ। প্রতি মাসে তাঁর জন্য ব্যবস্থা করা হয় শিক্ষাবৃত্তির। শুভসংঘের এই বৃত্তি মুসলেমিনার জীবনে যেন আশীর্বাদ হয়ে আসে। উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন তিনি।

মুসলেমিনা তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ‘প্রত্যেক মানুষ স্বপ্ন দেখে, কিন্তু সব স্বপ্ন বাস্তবে রূপ পায় না। আমিও স্বপ্ন দেখছি, স্বপ্ন দেখতে দেখতে আজ এ পর্যন্ত। কিন্তু এমন কিছু প্রতিকূলতা জীবনে আসে, মনে হয় এই বুঝি সব শেষ, কিন্তু আসলে তা নয়। শুভসংঘ আমার ভেঙে যাওয়া স্বপ্নগুলোকে নতুন করে সজীব করে তুলেছে। কিছুদিন আগেও নিজের স্বপ্ন থেকে প্রায় বিচ্যুত হয়ে ছিলাম। ভেবেছিলাম এই বুঝি ইতি টানতে হবে পড়াশোনার। কিন্তু শুভসংঘ আমার পাশে এসে যেভাবে দাঁড়িয়েছে। আমি চিরকৃতজ্ঞ শুভসংঘের প্রতি। আমি বিশ্বাস করি, শুভসংঘের আলোয় আলোকিত হবে প্রিয় বাংলাদেশ, আলোকিত হবে আমাদের এই সমাজ, আর স্বপ্ন পূরণ হবে আমার মতো হাজারো মুসলেমিনার। জয়তু শুভসংঘ। ’



সাতদিনের সেরা