kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

ইতু ও তার পরিবারের পাশে বসুন্ধরা (ভিডিওসহ)

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া   

১৬ এপ্রিল, ২০২২ ১২:৫৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইতু ও তার পরিবারের পাশে বসুন্ধরা (ভিডিওসহ)

এক ছেলে আর এক মেয়ে নিয়ে সুখেই দিন কাটছিল ইলিয়াস হাওলাদার ও শাহরিনা পারভীন দম্পতির। নবম শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী ইতু ও তৃতীয় শ্রেণিতে পড়া সিফাত নামের তাদের দুই সন্তান। মেয়েকে পড়ালেখা শিখিয়ে ডাক্তার বানানোর স্বপ্নে বিভোর ছিলেন তাঁরা।

বলা হচ্ছে, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের এক্সকেভেটর চালক ইলিয়াস হাওলাদারের কথা।

বিজ্ঞাপন

সুখ-শান্তি আর ভালোবাসার মধ্য দিয়ে সুখী পরিবারটি বেশ ভালোই চলছিল। কিন্তু ওই যে কথা আছে, কপালে সুখ বেশিদিন টেকে না। এক দুর্ঘটনায় এই সুখ আর স্বপ্ন ভেঙেচুরে তছনছ হয়ে যায় তাঁদের। গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর কাজ শেষে ঢাকা থেকে ফেরার পথে আরিচায় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান ইলিয়াস হাওলাদার। সুখের সংসার মুহূর্তেই তছনছ হয়ে যায়। এরপর দুই সন্তান নিয়ে অথই সাগরে পড়েন ইলিয়াসপত্নী শাহরিনা পারভীন। দুচোখে শুধুই ঘোর অন্ধকার। মারা যাওয়ার আগে সহায়-সম্বল কিছুই ছিল না; শুধু এক টুকরো জমি ছাড়া। তবুও সে জমিতে কোনো ঘর না থাকায় বিপাকে পড়তে হয়। তবে এমন সংবাদ শুনে তাদের সহায়তার জন্য এগিয়ে আসে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প গ্রুপ বসুন্ধরা। আর সহযোগিতা করে কালের কণ্ঠ শুভসংঘ।

সম্প্রতি কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামে ইতুদের বাড়ি গিয়েছিলেন দুই বাংলার জনপ্রিয়তম কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন। বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে মেয়েটির পড়াশোনার সব দায়িত্ব নেন তিনি। তাদের পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে যা যা করা প্রয়োজন, তা করবেন বলে কথা দেন। এক অনুষ্ঠানে ইতুর মা শাহরিনা পারভিনের হাতে তুলে দেওয়া হয় সেলাই মেশিন। সেলাই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজের পায়ে দাঁড়াবেন তিনি। সংসার চালাতে যাতে অন্যের দ্বারস্থ হতে না হয়।

তাদের দুই শতাংশ জমিতে ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেয় বসুন্ধরা গ্রুপ। আজ শনিবার এ ঘর নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন কালের কণ্ঠ শুভসংঘ পরিচালক জাকারিয়া জামান। এ সময় কালের কণ্ঠের নিজস্ব প্রতিবেদক তারিকুল হক তারিক, নিউজ টোয়েন্টিফোরের স্টাফ রিপোর্টার জাহিদুজ্জামানসহ শুভসংঘের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জাকারিয়া জামান বলেন, ইতু ও তার মায়ের সঙ্গে কথা বলেছি। ইতু পড়ালেখা শিখে মানুষের মতো মানুষ হবে। ইতু বড় হয়ে ডাক্তার হবে এ স্বপ্ন ছিল ওর বাবার।

বাবার ইচ্ছা পূরণে মেয়েও যেন বদ্ধপরিকর। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দরিদ্রতা। তাদের এই দরিদ্রতা দূর করতে সব ধরনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বসুন্ধরা গ্রুপ। কারণ, বসুন্ধরা কাজ করে দেশ ও মানুষের জন্য।



সাতদিনের সেরা