kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

শুভসংঘের হানাদারমুক্ত দিবস পালন, স্মৃতিচারণ করলেন মুক্তিযোদ্ধারা

বামনা (বরগুনা) প্রতিনিধি   

২৫ নভেম্বর, ২০২১ ১৭:০২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শুভসংঘের হানাদারমুক্ত দিবস পালন, স্মৃতিচারণ করলেন মুক্তিযোদ্ধারা

বরগুনার বামনা উপজেলা দৈনিক কালের কণ্ঠ শুভসংঘ এর উদ্যোগে নানান আয়োজনে নবম সেক্টরের সাব সেক্টর হেডকোয়ার্টা এর বামনা থানা হানাদারমুক্ত দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে সেদিনের ভয়াবহ যুদ্ধের স্মৃতি স্মরণ করেন মুক্তিযোদ্ধারা। দিবসটি পালনে শুভসংঘ ছাড়াও বামনা উপজেলা যুব রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আমাদের পাঠাশালা অংশ গ্রহণ করে। গতকাল বুধবার সকাল ১১টায়  দিবসটি উপলক্ষে একটি বর্নাঢ্য শোভাযাত্রা উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন শেষে গোলচত্ত্বরে অবস্থিত স্মৃতিসৌধে মুক্তিযোদ্ধাদো নিয়ে  স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। 

এসময় উপস্থিত ছিলেন, মুক্তিযোদ্ধা আমীর হোসেন খান, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য সুভাষ চন্দ্র হাওলাদার, বামনা থানার অফিসার ইন চার্জ মো. বশিরুল আলম, বামনা প্রেসক্লাব সভাপতি ওবায়দুল কবির আকন্দ দুলাল, দৈনিক কালের কণ্ঠ বামনা প্রতিনিধি মনোতোষ হাওলাদার, কালের কণ্ঠ শুভসংঘ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রাহবার, বামনা উপজেলা যুব রেডক্রিসেন্ট সভাপতি মো. হাসিবুর রহমান, আমাদের পাঠশালার সভাপতি শেখর হাওলাদারসহ শুভসংঘ, রেডক্রিসেন্ট ও আমাদেও পাঠশালার সদস্যবৃন্দ।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধা আমীর হোসেন খান বলেন, ২৪ নভেম্বর ১৯৭১ ভোর রাতে মুক্তিকামী যোদ্ধারা পাকিস্থানিদের হাত থেকে বামনা কে মুক্ত করার জন্য থানা ভবনে তিনিসহ আরো বেশ কিছু মুক্তিযোদ্ধারা আক্রমন চালায়। থানার অভ্যান্তর থেকে পুলিশ ও রাজাকার বাহিনী প্রচন্ড ভাবে তাদেরকে প্রতিহত করার চেষ্টা করে, কিন্তু অদম্য মুক্তিযোদ্ধারা থানার উত্তর দিকে আকনবাড়ির বাগান ও দক্ষিণ দিকে সারওয়ারজান হাইস্কুল ও পশ্চিমে সদর মসজিদের চারদিকে একটি বেষ্টনী বলয় গড়ে থানাকে লক্ষ্য করে তুমুল বেগে গুলি চালায়। থানা অভ্যান্তর থেকেও পাল্টা গুলি ছোড়া হয় মুক্তিযোদ্ধাদের দিকে। দু পক্ষের মধ্যে প্রায় দুই ঘন্টা গোলাগুলি চলে। 

পরে আমীর হোসেন খান (গেরিলা আমীর) জীবনের ঝুকি নিয়ে থানার মুল ফটক থেকে মাত্র ২০-২৫ গজ দুরত্ব থেকে থানা ভবনে দিকে প্রথমে একটি গ্রেনেড ছুড়ে মারেন। কিন্তু সেটি বিস্ফোরিত না হওয়ায় পুনরায় আর একটি গ্রেনেড ছুড়লে রাজাকার ও পাক বাহিনী ভয়ে তাদের অস্ত্র ফেলে দিয়ে ছুটাছুটি করতে থাকে। এর কিছুক্ষণ পরই তারা অদম্য শক্তির কাছে পিছু হটে বাধ্য হয়ে পাক সেনারা আত্মসমর্পন করে। এসময় কয়েকজন রাজাকার ও পাকিস্তানী সেনা নিহত হয়। ওই দিনই বামনা থানার পতাকা স্তম্ভে উল্লাসিত মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশের লাল সবুজ পতাকা উত্তোলন করে বিজয় উল্লাস করে বামনা শত্রু মুক্ত করে।  

এদিকে বামনা উপজেলা প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বামনা’র উদ্যোগে পৃথক আরেকটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। পরে তারা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ হলরুমে আলোচনা সভা করেন।



সাতদিনের সেরা