kalerkantho

সোমবার । ৯ কার্তিক ১৪২৮। ২৫ অক্টোবর ২০২১। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

শব্দ দূষণ রোধে সোচ্চার শুভসংঘ

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৭:৪৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শব্দ দূষণ রোধে সোচ্চার শুভসংঘ

মানচিত্রে দেশের সর্ব উত্তরের শান্ত ও শান্তিপ্রিয় শহর পঞ্চগড়। কিন্তু গত কয়েক বছরে শান্ত এই শহরে শব্দ দূষণ মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। শহরের বাসিন্দা ও চলাচলকারী মানুষেরা এখন সীমাহীন শব্দ সহ্য করছেন। আগে কেবল বড় যানবাহনে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার করা হলেও এখন তা ইজিবাইক, অটোরিকশাসহ ব্যাটারি চালিত রিক্সা ভ্যান পর্যন্ত পৌছে গেছে। কারণে অকারণে চালকরা যেমন খুশি বাজাচ্ছেন হর্ন। ক্রমাগত হর্ন বাজায় শান্ত শহরটি হয়ে উঠেছে হর্নের শহর হিসেবে।

করোনা কালেও কমেনি যানবাহন চলাচল। কমেনি এ যন্ত্রণাও। শব্দ দূষণের মাত্রা দিন দিন বাড়তে থাকায় চলাচলকারী মানুষেরা অসুস্থ্য হয়ে পড়ার পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে নানা সমস্যার। নব্য এই সংকট বাড়লেও সংশ্লিষ্ট কোন প্রতিষ্ঠানকে এ বিষয়ে কোন উদ্যোগ নিতে দেখা যায় নি। বিষয়টি নিয়ে প্রথম বারের মতো সরব হয়ে উঠেছে পঞ্চগড় শুভসংঘের সদস্যরা। গতকাল রবিবার বিকেলে তারা জেলা শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে মহাসড়কের পাশে শব্দ দূষণ বন্ধের দাবিতে মানবন্ধন কর্মসূচি পালন করে। 

মানববন্ধনে শুভসংঘের সদস্যরা জানান, উত্তরের সীমান্ত ঘেঁষা শহর পঞ্চগড়। শান্ত ভোর বেলা বাড়ার সাথে সাথে হয়ে উঠে সরব। ঘর থেকে বের হতে থাকে মানুষ। ক্রমেই বেড়ে যায় শহরের পথ দিয়ে মানুষের যাতায়াত। ছোট্ট শহরটিতে মানুষের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকে যানবাহনের সংখ্যাও। শুরু হয় ভেপু বাজানো। বাড়তে থাকে শব্দ দূষণও। ছোট থেকে বড় হাজারো যানবাহনের হর্নের কর্কশ শব্দে শহরের সড়কগুলো গমগম করতে থাকে।

বাস, মিনিবাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার, ট্রাক, লরি, পিকআপ, ট্রাক্টর, মোটরসাইকেল, থ্রি হুইলার (পাগলু) ইজিবাইক, অটোরিকশা, ব্যাটারি চালিত রিক্সা ভ্যান, নসিমন, করিমন, ভটভটি সব একসাথে চলছে সড়কগুলোতে। যানবাহনের শব্দের পাশাপাশি প্রত্যেক শ্রেণির এই যানবহনগুলোতে রয়েছে উচ্চ শব্দের হর্ন। 

অদক্ষ ও স্বল্পশিক্ষিত চালকরা কারণে অকারণে বাজিয়ে চলেছেন হর্ন। হর্নের এই শব্দ তাদের কানে সুমধুর ঠেকলেও তা সরাসরি পথচারী থেকে শুরু করে যাতায়াতকারী মানুষের কানে গিয়ে বিধে। এছাড়া প্রতিদিন বিভিন্ন সুখবরের মাইকিং চলছে। স্থানীয়রা জানান, জেলা শহরের চৌরঙ্গী মোড় থেকে দক্ষিণে সুগারমিল ও সিঅ্যান্ডবি মোড়, উত্তরে তেঁতুলিয়া বাস স্ট্যান্ড, পূর্বে জালাসী মোড় পর্যন্ত শব্দ দূষণের মূল ক্ষেত্র। পঞ্চগড় চৌরঙ্গী থেকে বানিয়াপট্টি পর্যন্ত সড়কটিতে শব্দ দূষণের মাত্রা সবচেয়ে বেশি। সকাল ১০ টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত এবং বিকেল ৪ টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অসহনীয় মাত্রায় শব্দ দূষণ হয়ে থাকে। যানবাহনের হর্নের শব্দে পুরো শহর যেন হর্নের শহরের পরিণত হয়।

নতুন কেউ এলে ভাবতে পারেন ‘হর্ন বাজানোর প্রতিযোগিতা চলছে।’ ৪০ থেকে ৫০ ডেসিবেল শব্দ মানুষের সহনীয় হলেও এখানে বেশির ভাগ সময় শব্দ থাকে ১০০ ডেসিবেলের বেশি। দিন দিন এই সংকট আরও বাড়ছে। শব্দের তিব্রতায় শহরের কোথাও দাঁড়িয়ে দুদণ্ড কথা বলার সুযোগ নেই। উচ্চ শব্দের কারণে অনেকেই অসুস্থ্য হয়ে পড়ছেন। এমনকি এমনটা চলতে থাকলে স্থায়ী বধিরতা হওয়াসহ নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। 

জেলা শহরের সড়ক ঘেঁষে বসবাসকারী মানুষেরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। সড়কের পাশ ঘেঁষে থাকা দোকানপাট, অফিস, আদালতসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও প্রভাব পড়ছে। শিক্ষার্থীরা মনোযোগ হারাচ্ছে পড়ায়। কিন্তু দিনের পর দিন এমনটা চললেও সরকারি বেসরকারি কোন প্রতিষ্ঠানকেই কোন উদ্যোগ নিতে দেখা যায় নি। হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার বন্ধের পাশাপাশি অবিলম্বে শব্দ দূষণ বন্ধ করার দাবি তোলেন তারা।

মানববন্ধনে শুভসংঘ পঞ্চগড় জেলা শাখার সভাপতি ফিরোজ আলম রাজিব, সাধারণ সম্পাদক নুর ইসলাম আলিফ, সহসভাপতি হৃদয় চন্দ্র সিংহ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের রহমান বাপ্পী, কোষাধ্যক্ষ ইয়ানুর আক্তার, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক নওমীন জাহান ঝুমুর, নারী বিষয়ক সম্পাদক হুমাইরা জান্নাত নিশা, সদস্য এমএএম আকাশ, সামিউল, আলী আহসান, ইসমাইল হোসেন, শিউলি আক্তার, হুমাইরা আক্তার হ্যাপি, রুমানা আক্তার, জান্নাতুল মিরানা মিরা। 

 



সাতদিনের সেরা