kalerkantho

রবিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৮। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৮ সফর ১৪৪৩

বগুড়ায় ৭০০ পরিবারে হাসি ফোটাল কালের কণ্ঠ শুভসংঘ

রাজশাহী বিভাগে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু

লিমন বাসার ও নাজমুল হুদা, বগুড়া থেকে   

২৮ জুলাই, ২০২১ ১১:৫৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বগুড়ায় ৭০০ পরিবারে হাসি ফোটাল কালের কণ্ঠ শুভসংঘ

পথে পথে কাগজ কুড়াচ্ছিলেন আছিয়া খাতুন। একবেলা খাবারের খোঁজে তাকে খুঁজতে হয় পথের পরে থাকা কাগজ। সারাদিন কুড়িয়ে কুড়িয়ে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে বিকেলে বিক্রি করেন দোকানে। সেখান থেকে আয় করেন ৪০ থেকে ৫০ টাকা। তা দিয়েই একবেলা পেটপুরে খেতে পারেন আছিয়া। ৪০ বছর ধরে স্বামী হারিয়ে এভাবেই চলছে তার জীবনযাপন। এমনি একদিন তাকে পথের কোণে বস্তা হাতে বসে থাকতে দেখেন কালের কণ্ঠ শুভসংঘের সদস্যরা। হাতে তুলে দেন বসুন্ধরা গ্রুপের টোকেন। আছিয়া বুঝতে পারেন না কাগজের একটি ছোট টুকরা কেনো দেওয়া হলো। জিজ্ঞাসা করতেই শুভসংঘের সদস্যরা জানালেন, বুধবার সকালে তাকে ১০ কেজি চাল, ৩ কেজি ডাল আর ৩ কেজি আটা দেওয়া হবে। কথাটি শুনে খুশি হলেন আছিয়া। তাদের জন্য দোয়া করে আবার পথে পথে কাগজ কুড়াতে শুরু করলেন। 

আজ বুধবার সকালে সময় মতো ত্রাণ নিতে এসেছেন তিনি। টোকেন দেখে তার হাতে তুলে দেওয়া হলো বসুন্ধরা গ্রুপের খাদ্যসামগ্রী। খাবারের বস্তা হাতে পেয়ে কাঁদো কাঁদো হয়ে গেলেন তিনি। বললেন, বাসি মুখে দোয়া করি বসুন্ধরা গ্রুপের যেন ভালো হয়, ভালো থাকে। তারা আমাগো আরো বেশি বেশি দিতে পারে। 



বসুন্ধরা গ্রুপের ত্রাণ পেয়েছেন মানবেতর জীবনযাপন করা আজাজ আলী প্রামাণিক। তিনি বলেন, আমি এহন কাজমকাজ করতে পারি না। ছোট ছেলে স্বর্ণের দোকানে কাম করতো তাও এখন করতে পারে না। আমার স্ত্রী স্কুলে আয়ার কাম করে মাসে ২ হাজার টাকা পায় তা দিয়েই টুকটাক সংসার চলে। তোমাদের ত্রাণ পেয়ে আমাদের ৭-৮ দিনের দুঃখ ঘুচিল বাবা। এই অসময়ে তোমরা ত্রাণ দিছো আমি নামাজ পড়ে দোয়া করব।

আজ বুধবার আছিয়া-আজাজের মতো বগুড়া জেলার সদর উপজেলায় ৭০০ অসহায় ও দুস্থ পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগে কালের কণ্ঠ শুভসংঘের ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় পর্যায়ক্রমে বগুড়া জেলায় ৪ হাজার ও রাজশাহী বিভাগে ২৪ হাজার পরিবারকে এই খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হবে।

এদিন উপজেলার বগুড়া জিলা স্কুল মাঠে এই খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করে শুভসংঘের সদস্যরা। এছাড়া সকলের মাঝে মাস্ক বিতরণ ও করোনা সুরক্ষায় সচেতনতামূলক পরামর্শ দেওয়া হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলার পুলিশ সুপার মো. আলী আশরাফ ভূঞা। কালের কণ্ঠ শুভসংঘকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, শুভসংঘের 'শুভ কাজে সবার পাশে' এই স্লোগানটি খুব চমৎকার। আজকের ত্রাণ বিতরণের আয়োজনটি আমার কাছে মনে হয়েছে বাংলাদেশে যত ভালো কাজ হয়েছে তার মধ্যে এটি অন্যতম। আমাদের বগুড়া জেলার সদরে আজ ৭০০ অসহায় পরিবারকে ত্রাণ দিয়েছে। পুরো জেলায় মোট ৪ হাজার পরিবারকে এই সহায়তা দিবে। করোনা অতিমারি সময়ে বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় শুভসংঘ এত চমৎকার একটি আয়োজন করে আমাদের ভাই-বোনদের অন্তত কিছুদিন ধরে থাকার জন্য খাদ্যসামগ্রী দিয়েছে এর জন্য আমরা তাদেরকে প্রাণ থেকে সাধুবাদ জানাই, ধন্যবাদ জানাই এবং কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনারা সবাই করোনার মহামারির এই সময়ে কেউ অযথা ঘর থেকে বের হবেন না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন। মাস্ক পরে থাকবেন।  সবাই ভালো থাকবেন।

এছাড়া ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে আরো উপস্থিত ছিলেন দৈনিক করোতোয়ার সম্পাদক মোজাম্মেল হক লালু, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেলিম উল্লাহ, কালের কণ্ঠ শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান, শুভসংঘের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শরীফ মাহ্দী আশরাফ জীবন, শুভসংঘের বগুড়া জেলার উপদেষ্টা আব্দুল মান্নান আকন্দ ও আলহাজ্ব মোস্তাফা মাহমুদ শাওন, জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) শ্যামপদ মুস্তফী, নিউজ টোয়েন্টিফোরের জেলা প্রতিনিধি আবদুস সালাম বাবু, শুভসংঘের বগুজান্নাত আক্তার, মিনা ইসলাম, জেলা শাখার সভাপতি ডা. সিরাজুল ইক ফাহিম, সহ সভাপতি ডা. শফিক আমিন কাজল, সাধারণ সম্পাদক শিশির মুস্তাফিজসহ অন্যান্যদের মধ্যে মশিউর রহমান জুয়েল, আশফাকুর রহমান চন্দন, আমজাদ হোসেন, শরিফুর রশিদ, আল আদোল আপন, রাকিব আহমেদ, রুমানা ইয়াসমিন, মিনা ইসলাম, নাহিদ সৌরভ, আব্দুর রহিম, জান্নাত আক্তার বর্ষা, রাফসান সাকিন, মিনা ইসলাম, বগুড়া মহিলা কলেজের সাধারণ সম্পাদক ইরা মনি, উত্তরা ইউনিভার্সিটির সাবেক সভাপতি আলমগীর হোসেন রনি ও গণবিশ্ববিদ্যালয় শাখার অর্থ সম্পাদক মিম খান প্রমুখ।

এর আগে রংপুর বিভাগের ৮টি জেলায় ২৪ হাজার অসহায় ও অতিদরিদ্র পরিবারকে বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করে কালের কণ্ঠ শুভসংঘ।



সাতদিনের সেরা