kalerkantho

রবিবার । ৪ আশ্বিন ১৪২৮। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১১ সফর ১৪৪৩

মেম্বার টাকা নিয়েও ভাতাকার্ড দেয়নি, পাশে দাড়িয়েছে শুভসংঘ

রোকনুজ্জামান মানু, (উলিপুর) কুড়িগ্রাম   

২৪ জুলাই, ২০২১ ০৮:৫৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মেম্বার টাকা নিয়েও ভাতাকার্ড দেয়নি, পাশে দাড়িয়েছে শুভসংঘ

শৈশব টা ভালই কাটছিল। বাবা-মার আদরের একটুও কমতি ছিল না রাবেয়ার। পরিবারের পছন্দ মত বিয়েও হয় তার। স্বামীর সংসারে অভাব অনটন থাকলেও দাম্পত্য জীবন সুখের ছিল। এরই মধ্যে একটি পুত্র ও কন্যা সন্তানের মা হন তিনি। একসময় স্বামী সন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতে বেড়াতে (নাইওর) আসেন। এরপরই বিপত্তি ঘটে তার জীবনে।

বাবার বাড়ি থেকে স্বামী সন্তান নিয়ে দিনাজপুরে শ্বশুর বাড়ি যাওয়ার পথে স্বামী খাজি মোল্লা ৭ বছর বয়সী পুত্র সন্তান আলী হোসেনকে নিয়ে লাপাত্তা হন। অনেক খোঁজাখুজির পর আজও তাদের সন্ধান পাননি রাবেয়া বেগম। এখনও পথের পানে চেয়ে থাকেন নাড়ী ছেড়া ধন আলী হোসেনের জন্য। 

রাবেয়া বেগম (৬৭) জেলার উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ভেলুর খামারের আব্দুল্লাহর মেয়ে। কয়েক বছর আগে একমাত্র মেয়ে রাশেদা বেগম বিয়ে করে শ্বশুর বাড়ি চলে যায়। বাবা-মা মারা যাওয়ার পর ভাইদের অভাবের সংসার ছাড়তে বাধ্য হন রাবেয়া। এরপর ঠাঁই হয় একই গ্রামের জনৈক আবুল কালামের বাঁশঝাড়ে। এলাকাবাসীর সহায়তায় কয়েকটি টিনের একটি ছোট্ট ঘরে প্রায় ৮ বছর ধরে অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটছে তার। বয়সের ভারে ঠিকমত চলতেও পারেন না।

চাল-চুলাহীন অসহায় রাবেয়ার সন্ধান পেয়ে ছুটে যান দেশের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকা কালের কণ্ঠ শুভসংঘ। গতকাল শুক্রবার (২৩জুলাই) বিকেলে শুভসংঘের উলিপুর শাখার পক্ষ থেকে রাবেয়া বেগমকে দুটি ছাগল, তিনটি মুরগি, দুটি হাস, চাল,ডাল, তেল, চিনি, সাবান ও নগদ অর্থ সহায়তা করা হয়।

সরকার এসব অসহায় মানুষদের জন্য নানা সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করলেও তার কিছুই পাননি তিনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাবেয়া বেগমকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির আওতায় আনতে চার হাজার টাকা দাবি করেন সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য। গত একবছর পূর্বে ভিক্ষা করে দাবিকৃত টাকা পরিশোধ করলেও ভাতার কার্ড পাননি তিনি।

এসময় কথা হয় রাবেয়া বেগমের সাথে। তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, 'মোর কাইও নাই বা। ২৫ বছর আগে মোর বাপক (সন্তান) নিয়ে মোর স্বামী পলাইছে। কত খুঁজিছং, তবুও মোর বাপক (সন্তান) পাংনাই। আল্লাহ যদি মোর ছাওয়াটাক ফিরি দিলে হয়।'

অশ্রুসজল চোখে তিনি আরো বলেন, আগে শরীলত(শরীরে) বল (শক্তি) আছিল (ছিল) মানষের বাড়িত যায়া খুঁজি খাছনু(খাইছিলাম)। এখন হাটপেরও পাংনা, খাবারও পাংনা। কাইও দয়া করি দিলে খাং, না দিলে অনাহারি(অভুক্ত) থাকং। মোর বাপ (সন্তান) থাকলে সে খাওয়াইল হয়। আজ তোমরা এগলে আনছেন, তোমরায় মোর বাপ হন। মুই দোয়া করং আল্লাহ তোমাক মেলা(দিন) বাঁচে থুউক। এভাবে বলতে বলতে অঝোরে কেঁদে ফেলেন রাবেয়া বেগম। এসময় সেখানে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

সহায়তা বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন, কালের কণ্ঠ'র কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি আব্দুল খালেক ফারুক, উলিপুর উপজেলা প্রতিনিধি রোকনুজ্জামান মানু, শুভসংঘের কুড়িগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ মিলন, উলিপুর শাখার সহ-সভাপতি মাসুম করিম।

এছাড়াও ডা. মাইদুল ইসলাম, ইজ্ঞিনিয়ার মামুনুর রশিদ, স্থানীয় পাপন মিয়া, সানাউল্লাহ,সোহাগ রানা, রুবেল মিয়া প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকতার্ মশিউর রহমান বলেন, ভাতা কার্ড করতে কোন টাকা লাগে না। রাবেয়া বেগমের কাছ থেকে যদি কেউ টাকা নিয়ে থাকে, তাহলে সেটি নিতান্তই গর্হিত কাজ। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে যতদ্রুত সম্ভব তাকে ভাতা কার্ডের আওতায় আনা হবে।



সাতদিনের সেরা