kalerkantho

বুধবার । ১৩ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৮ জুলাই ২০২১। ১৭ জিলহজ ১৪৪২

ভাঙন কবলিত মানুষের দুয়ারে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিল কালের কণ্ঠ শুভসংঘ

অমিতাভ দাস হিমুন ও নাজমুল হুদা, গাইবান্ধা থেকে   

১৩ জুলাই, ২০২১ ১৮:৫২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভাঙন কবলিত মানুষের দুয়ারে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিল কালের কণ্ঠ শুভসংঘ

লক্ষ্য ছুঁতে ছুটছে কালের কণ্ঠ শুভসংঘের একদল সেচ্ছাসেবী। প্রান্তিক মানুষের দুয়ারে পৌঁছাতে হবে বসুন্ধরা গ্রুপের খাদ্য সহায়তা। বেলার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিকেল ৩টায় বালাসীঘাটে পৌঁছায় শুভসংঘ। একটি ট্রলার ভাড়া নিয়ে তাতে বহন করে ফজলুপুর ইউনিয়নের কোচ খালি চরে নেওয়া হয় বসুন্ধরা চাল, ডাল, আটার প্যাকেজ।

ব্রহ্মপুত্র নদীঘেরা চরটিতে বন্যা আসলেই নদীর স্রোতে কানে ভেসে আসে বানভাসি মানুষের আহাজারি। নদী ভাঙনে বিলীন হয়ে যায় মাথা গোঁজার ঘর। দুবেলা খেটে খাওয়া মানুষের একরের পর একর ফসলি জমিন চলে যায় নদী গর্ভে। নিঃস্ব হয়ে যায় চরাঞ্চলের মানুষগুলো। কেবল জীবন নিয়েই তারা ছুটে চলে নদীর এপাড় থেকে ওপাড়ের চরে। খোঁজে মাথা গোঁজার একটুখানি ঠাঁই। সেই নদী ভাঙনে কবলিত মানুষের দুয়ারে বসুন্ধরা গ্রুপের খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছে কালের কণ্ঠ শুভসংঘ।

আজ মঙ্গলবার গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি উপজেলার কোচ খালি ও গুপ্তমণি চরে ৩০০ অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা দিয়েছে কালের কণ্ঠ শুভসংঘ।

দুবছর ধরে গুপ্তমণি চরে থাকেন শাহাব উদ্দিন। এরআগে কতবার কত চরে পরিবার নিয়ে আশ্রয় করেছেন বলতে পারবেন না। তাদের করোনাকালীন সময়ে তাদের প্রান্তিক এই অঞ্চলে কখনো পৌঁছায়নি কোন ধরনের ত্রাণ সহায়তা। বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তা পেয়ে তিনি বলেন, এক চরে দুই-পাঁচ বছর এক চরে থাকি। এরপর আবার অন্যচরে চলে যাই। নদীর ভাঙনেই আমরা সর্বহারা। টাকা-পয়সা জমাতে পারি না। ঘর-দুয়ার গড়তে পারি না। দুবেলা খেতে পারি না। করোনার মধ্যে কেউ কোন সাহায্যও দেয় নাই এবার। আপনারা চাল-ডাল-আটা দিলেন। কয়দিন ছেলেমেয়ে নিয়ে খেতে পারব।

আলেয়া বেগম বলেন, সবসময় আমাদের বাড়ি ঘর ভাঙে। আমরা কখনও বাড়ি ঘর বানিয়ে টেকাতে পারছি না। তিন মাস চার মাস ধরে এখনো ভাঙছে। আমরা ঠিকমতো খাবার পাই না। কচুঘেচু শাকপাতা খাই। টাকা থুইয়া দেই। ভয়ে থাকি কহন ঘর ভেঙে যায়। কেউ খাবারো দেয় না। আজ আপনারা খাবার দিলেন। খুব উপকার হইলো। বসুন্ধরা গ্রুপের জন্য দোয়া করি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কালের কণ্ঠ শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান, কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শামীম আল মামুন, সদস্য শরীফ মাহ্দী আশরাফ জীবন, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মো. শফিউল ইসলাম, শুভসংঘের গাইবান্ধা জেলার সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস লতা, সামিউল ইসলাম, রওজাতুন্নাহার লাবণ্য, মিনহাজুর রহমান নয়ন, সারাফ সোহাইবা নিহা, উম্মে কুলছুম তালুকদার, দেবী সাহা, রেহানা আক্তার রিসাত, উম্মে সালমা বৃষ্টি ও তানহা প্রমুখ।



সাতদিনের সেরা