kalerkantho

বুধবার । ২০ শ্রাবণ ১৪২৮। ৪ আগস্ট ২০২১। ২৪ জিলহজ ১৪৪২

গাইবান্ধায় হকার-রিকশাচালক-অতিদরিদ্রদের মাঝে শুভসংঘের ত্রাণ বিতরণ

অমিতাভ দাস হিমুন ও নাজমুল হুদা, গাইবান্ধা থেকে   

১৩ জুলাই, ২০২১ ১১:২০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গাইবান্ধায় হকার-রিকশাচালক-অতিদরিদ্রদের মাঝে শুভসংঘের ত্রাণ বিতরণ

গাইবান্ধা জেলার সদর উপজেলায় ৩০০ অসহায় হকার ও রিকশাচালকের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছে কালের কণ্ঠ শুভসংঘ। এ ছাড়া সবার মাঝে মাস্ক বিতরণ ও করোনা সুরক্ষায় সচেতনতামূলক পরামর্শ দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) গাইবান্ধার শাহ্ আব্দুল হামিদ স্টেডিয়াম মাঠে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় এই ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন শুভসংঘের সদস্যরা।

আজহার আলী। ৪৩ বছর ধরে সংবাদপত্র বিক্রি করেন। তার এই রোজগার দিয়েই সুন্দরভাবে জীবন চলে যেত। তবে দেশে করোনা হানা দেওয়ার পর থেকে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সংবাদপত্র বিক্রি করে আগে যেখানে এক হাজার টাকা রোজগার করতেন, এখন সেখানে ২০০ টাকাও হয় না। শুভসংঘের খাদ্য সহায়তা নিতে এসে জানালেন তার মনের কষ্টের কথা। ত্রাণ পেয়ে আজহার বলেন, 'মানুষ এখন অনলাইনে পত্রিকা দেখে। কেউ কিনতে চায় না। আমাদের আয় কমে গেছে। খুব অভাবে সংসার চলছে। কেউ কোনো সাহায্য করে না। কালের কণ্ঠ'র সাহায্য পেলাম আজ। তাদের জন্য দোয়া রইল।'

ব্যাটারিচালিত রিকশা চালিয়ে সংসার চালান ছকমাল মিয়া। পরিবারে ছেলে-মেয়ে নিয়ে তার সাত সদস্য। সবার দেখভালের দায়িত্ব একাই বহন করতে হয়। কিন্তু করোনায় করুণ সময় পার করছেন তারা। ছকমাল বলেন, 'বাইরে গাড়ি চলবার দেয় না। কোনো কর্ম নাই। ছোটখাটো রাস্তা দিয়া ১০০-১৫০ টাকা কামাই করি। ওইটা দিয়া কোনোমতে খেয়ে বেঁচে আছি। বসুন্ধরা গ্রুপ আজকে সাহায্য দিল। তাদের মালিকের জন্য দোয়া করি। তারা যেন বড় কিছু করবার পারে।'

বসুন্ধরা গ্রুপের ত্রাণ বিতরণে অংশ নিয়ে গাইবান্ধা জেলার পুলিশ সুপার মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপ খুব আন্তরিকতার সঙ্গে আপনাদেরকে খাদ্যদ্রব্য উপহার হিসেবে দিয়েছে। আমি বসুন্ধরা গ্রুপকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই আপনাদের মাঝে এই সহায়তা দেওয়ার জন্য। তারা সব সময় আর্ত মানবতার কাজ করে। দেশের বিভিন্ন দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ায়। যারা ত্রাণ সহায়তা পেয়েছেন তারা করোনার এই সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন। মাস্ক পরবেন। ঘর থেকে বের হবেন না। বাইরে থেকে ঘরে এলে সাবান-পানি দিয়ে হাত ধুবেন। কারো জ্বর-কাশি হলে একা থাকবেন। সবাই ভ্যাকসিন নেওয়ার চেষ্টা করবেন।

ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রমে আরো উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা পৌরসভার সাবেক মেয়র শাহ্ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবির মিলন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক তাবিউর রহমান, কালের কণ্ঠ শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান, কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শামীম আল মামুন, সদস্য শরীফ মাহ্দী আশরাফ জীবন, গাইবান্ধা জেলার সভাপতি তৌহিদা মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস লতা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সামিউল ইসলাম সাকিব, সাংগঠনিক সম্পাদক রওজাতুন্নাহার লাবণ্য, দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুর রহমান নয়ন, প্রচার সম্পাদক সারাফ সোহাইবা নিহা, শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক উম্মে কুলছুম তালুকদার, সাংস্কৃতিক সম্পাদক দেবী সাহা, নারী ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক রেহানা আক্তার রিসাত, সদস্য উম্মে সালমা বৃষ্টি, তানহা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শুভসংঘের সাধারণ সম্পাদক আবু হুরাইরা আতিক, সাংগঠনিক সম্পাদক ফরহাদ আহমেদ, জসিম উদ্দীন, আরবি আক্তার প্রমুখ।



সাতদিনের সেরা