kalerkantho

রবিবার । ৪ আশ্বিন ১৪২৮। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১১ সফর ১৪৪৩

ঠাকুরগাঁওয়ে ৪০০ অসহায়ের ঘরে কালের কণ্ঠ শুভসংঘের ত্রাণ

পার্থ সারথি দাস ও নাজমুল হুদা, ঠাকুরগাঁও থেকে   

৭ জুলাই, ২০২১ ১২:২৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঠাকুরগাঁওয়ে ৪০০ অসহায়ের ঘরে কালের কণ্ঠ শুভসংঘের ত্রাণ

'মুই অটোরিকশা চালায় খাও, মোর বাড়িত মোর মাইয়া আছে, আর মোক দেখার মতো কেহ নাই। দুইটা বেটি ছিল ওমাক বিয়া দিছু রিকশা চালায়। এলা মোর মাইয়া আর মুই আছু। তয় করোনার তাহে লকডাউন দিছে এলা রিকশা চালাবা পারু না। রিকশা নিয়া বাহির হলে খালি পুলিশ লা ধরে। কিন্তু আইজ বসুন্ধরা গ্রুপ ভেইল্লা সাহায্য দিল। অনেক দিন খাবা পারিম মোর মাইয়াসহ।' কালের কণ্ঠ শুভসংঘের ত্রাণ পেয়ে অশ্রুসিক্ত হয়ে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন অটোরিকশাচালক রমিজ উদ্দিন। তার মতো করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ৪০০ পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন কালের কণ্ঠ শুভসংঘের সদস্যরা। আজ বুধবার (৭ জুলাই) সদর উপজেলার ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় বড় মাঠে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় এই ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মো. মাহবুবুর রহমান, পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম, পৌর মেয়র আঞ্জুমান আরা বন্যা, কালের কণ্ঠ শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান, কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শামীম আল মামুন, সদস্য শরীফ মাহ্দী আশরাফ জীবন, ঠাকুরগাঁও জেলা শুভসংঘের সভাপতি শফিকুল ইসলাম, সহসভাপতি তাপস দেবনাথ, সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল আলমসহ আমিনুল ইসলাম, মুসা রাখাল, আসাদুজ্জামান, মৌমি, মেহরাব হোসেন, দিশা, সোহানি, সামিন, মাহি, শরিফা আক্তার, অন্নিকা, শিউলিসহ ঠাকুরগাঁও জেলার শুভসংঘের অন্য সদস্যরা।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, করোনা মোকাবেলায় আমাদের বাধ্য হয়ে কঠিন হতে হয়। করোনা এমন একটি রোগ যেটা অতিসংক্রমণ। এটা বেশি মানুষের দেহে ছড়িয়ে পড়লে মোকাবেলা করা সম্ভব হবে না। তাই করোনা অতিরিক্ত মাত্রায় ছড়ানোর আগে আমরা আপনাদেরকে ঘরে রাখার জন্য চেষ্টা করছি। বসুন্ধরা গ্রুপ আজ আপনাদেরকে যে খাদ্যদ্রব্য দিল, তা দিয়ে আপনারা কিছুদিন খেতে পারবেন। এই সময় আপনারা লকডাউনের মধ্যে অযথা বাইরে ঘোরাঘুরি করবেন না। ঘরে থাকবেন। 

ঠাকুরগাঁও জেলার পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমাদের জেলায় প্রতিদিনই করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। আপনারা আমাদেরকে করোনা মোকাবেলা করতে সহায়তা করুন। আপনারা সহায়তা না করলে আমরা করোনা মোকাবেলা করতে পারব না। ধীরে ধীরে আমাদের জেলার পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকবে। আপনারা সবাই সতর্ক থাকবেন, সচেতন থাকবেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হবেন না। যারা এই ত্রাণ সহায়তা দিয়েছে তাদের অনেক ধন্যবাদ। 

ত্রাণ সহায়তা পেয়ে নন্দ্রী বান নামের এক উপকারভোগী বলেন, 'মুই গরিব মানুষ মুই মানুষের বাড়ি জন দেও। দিন আনু দিন খাও, বসে থাকিলে মোক কেহ খিলাবেনি। মোক পেটের দায়ে মানুষের বাড়ি জন খাটিবা বের হবা হয়। কিন্তু লকডাউনের তাহে এলা মানুষের বাড়িত কাজ করিবা পারুনা। তিন-চার দিন থেকে একবেলা খাইলে আর একবেলা না খায় থাকিবা হয়। এই তাই মোর নুন আনতে পান্তা ফুরায়। এইলা সাহায্য দিয়া মোর ১০ দিন চলে যাবে।'

মঙ্গলবার জন্ম হওয়াও তার নাম হয়েছে মঙ্গলি খুজুর। বয়স ৮০ ছুঁয়েছে। স্বামী মারা গেছেন যুদ্ধের পরই। দুই ছেলে থাকলেও তাকে দেখে না কেউ। ছাগল পালন করেই পেট চালান তিনি। পান না কারো থেকে কোনো ধরনের সাহায্য। বসুন্ধরার ত্রাণ পেয়ে তিনি বলেন, 'এখন খেতে খেতে আবার কিছু জোগাড় করমু। হামরা বসুন্ধরা গ্রুপের তায় দোয়া করিমু।'



সাতদিনের সেরা