kalerkantho

মঙ্গলবার । ১ আষাঢ় ১৪২৮। ১৫ জুন ২০২১। ৩ জিলকদ ১৪৪২

শুভসংঘের করোনা সামগ্রী পেয়ে এতিমরা বলল, 'সবার ভালোবাসা চাই'

গাইবান্ধা প্রতিনিধি   

২৩ এপ্রিল, ২০২১ ১৯:০৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শুভসংঘের করোনা সামগ্রী পেয়ে এতিমরা বলল, 'সবার ভালোবাসা চাই'

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের কেতকীর হাটে ৫০ এতিম শিশু কিশোর, শিক্ষক ও স্থানীয় মানুষের মধ্যে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও সাবান বিতরণ করেছে কালের কণ্ঠ শুভসংঘ।

আজ শুক্রবার বিকেলে এ উপলক্ষে জয়নুদ্দিন মেমোরিয়াল বাগে জান্নাত নূরানী হাফেজিয় মাদরাসা ও এতিম খানা চত্বরে এক করোনায় করণীয় শীর্ষক আলোচনাসভা ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ফুলছড়ি উপজেলা শুভসংঘ এসবের আয়োজন করে।

উপজেলা শুভসংঘের সভাপতি মো. শাহরিয়ার নাফিসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কঞ্চিপাড়া এম এ ইউ একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. আলতাফ হোসেন সরকার ও প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক হাফেজ ক্বারী মো. বজলুর রহমান।

এতে মূল আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহসভাপতি মো. শিমুল হাউলিদার। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. পাপেল, জেলা শুভসংঘের সহ সম্পাদক মো. সামিউল ইসলাম সাকিব, মো. তানজিমুল ইসলাম তৌহিদ, উপজেলা কমিটির সহ সম্পাদক মো. মুন্না সরকার, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মো. শাহী হোসেন শাকিল, ক্রীড়া সম্পাদক মামুন সরকার ,  উপ ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মো. সোহান হাউলিদার প্রমুখ।

প্রবীণ শিক্ষক মো. আলতাফ হোসেন সরকার বলেন, করোনা সংকটের ভয়াবহ এই সময়ে এতিম শিশুদের সুরক্ষায় শুভসংঘের কর্মীদের পরামর্শ ও সামগ্রী বিতরণের এই অনুষ্ঠান একটি ভালো উদ্যোগ। এই এলাকায় গত বন্যায় শুভসংঘ ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিল। এ ছাড়া করোনার প্রথম ধাক্কাতেও তারা মাস্ক ও স্যানেটাইজার বিতরণ করেছে। যা ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।

জয়নুদ্দিন মেমোরিয়াল বাগে জান্নাত নূরানী হাফেজিয় মাদরাসা ও এতিম খানার প্রধান শিক্ষক হাফেজ ক্বারী মো. বজলুর রহমান বলেন, এবার করোনায় এতিম শিশুরা অন্যবারের মতো মানুষের আনুকূল্য পাচ্ছে না। তাই শুভসংঘের বন্ধুরা তাদের নিয়ে ইফতার মাহফিলের যে আয়োজন করেছে তাতে এতিম শিশুরা আনন্দিত।

বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. পাপেল মিয়া বলেন, গত এক বছরে ফুলছড়ির নদী ভাঙ্গণকবলিত এলাকার অসহায় মানুষদের পাশে শুভসংঘের  ন্ধুদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তরুণরাই শুভসংঘের প্রাণ শক্তি। এলাকাবাসী ও বিত্তবানরা তাদের পাশে থাকলে অসহায় ও দুস্থ মানুষ উপকৃত হবে।

শুভসংঘের সহসভাপতি শিমুল হাউলিদার বলেন, দেশের বৃহত্তম সামাজিক সংগঠন হিসেবে শুভসংঘ সকল শুভ কাজে সবার পাশে থাকবে। আমরা করোনাকালে মানুষের জন্য আরো কিছু কাজের পরিকল্পনা করেছি।

এতিম আবদুল্যাহ বলে, শুভসংঘের বড় ভাই ও স্যাররা আমাদের খোঁজ নিতে এবং আমাদের সাথে ইফতার করতে এখানে এসেছেন, এতেই মন ভরে গেছে। আমরা যারা এতিমখানায় আছি, তাদের আর কোথাও চলে যাওয়ার সুযোগ নেই। আমরা সবার ভালোবাসা চাই।

পরে এতিম শিশুরা হামদ ও নাত পরিবেশন করে। ইফতার পূর্ব দোয়া পরিচালনা করে এতিম খানার ছোট্ট মো. সিয়াম। এ সময়  বিশ্বের করোনা মুক্তি ও কালের কণ্ঠ পরিবার এবং শুভসংঘের সার দেশের কর্মীদের জন্য দোয়া করা হয়। শুভসংঘের ইফতারে খেঁজুর, মুড়ি, বুট, বুঁদিয়া, বেগুনি, পিঁয়াজু, আলুর চপ ছাড়াও আপেল, কলা ও আঙুরের ব্যবস্থা রাখা হয়। 



সাতদিনের সেরা