kalerkantho

শনিবার । ২৫ বৈশাখ ১৪২৮। ৮ মে ২০২১। ২৫ রমজান ১৪৪২

শুভসংঘকে পাশে পেয়ে সহায়-সম্বলহীন বৃদ্ধার চোখে আনন্দাশ্রু

শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি    

৩১ মার্চ, ২০২১ ১৫:৩৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শুভসংঘকে পাশে পেয়ে সহায়-সম্বলহীন বৃদ্ধার চোখে আনন্দাশ্রু

মুজিবর্ষের এই স্বাধীনতার মাসে মেরিনা বেগম নামে সহায়-সম্বলহীন শারীরিক প্রতিবন্ধী এক অসহায় বৃদ্ধার পাশে দাঁড়িয়েছে কালের কণ্ঠ শুভসংঘের বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা শাখার বন্ধুরা।

আজ বুধবার দুপুরে শুভসংঘের বন্ধুরা নিজেদের অর্থায়নে আগামী ছয় মাসের খাবার হিসেবে চাল, ডাল, মাছ, মাংস, ছোলাবুট, মুড়ি, গুড়, পেঁয়াজ, আদা, রসূন, কাঁচা তরকারি ও তেল, লবণ, সাবান নিয়ে মেরিনা বেগমের আশ্রয়স্থলে ছুটে যান। এ ছাড়া মেরিনা বেগমের চিকিৎসার জন্য নগদ পাঁচ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা করেন তারা।

মেরিনা বেগম উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের রহিমাবাদ দক্ষিণপাড়ার মৃত আছির উদ্দিন প্রামানিকের মেয়ে।

সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধা মেরিনা বেগমের বিয়ে হয় অল্প বয়সেই। সংসার জীবনে তার একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। সন্তানের বয়স যখন ৯ বছর তখন হঠাৎ করে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন মেরিনা বেগম। সারা শরীরে গুটি গুটি টিউমারের মতো দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন তিনি। ক্রমেই রোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বাভাবিক কাজকর্ম ও চলাফেরায় সমস্যার পাশাপাশি স্বামীর সংস্পর্শ বাধাগ্রস্ত হয় তার। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়ে যায়। কিছুদিনের ব্যবধানে মারা যান মেরিনা বেগমের বাবা-মা। দিশেহারা হয়ে পড়েন তিনি। বড় ভাই আব্দুস সামাদ তার অভাবের সংসার থেকে যতটুকু সম্ভব মেরিনা বেগমকে সহযোগিতা করে আসছিলেন।

সেখানেও বিধিবাম! বড় ভাই মারা যাওয়ার পর সেই ভরসাটুকুও চিরদিনের মতো হারিয়ে যায়। বাবার কোনো জমি-জমা না থাকায় মামাতো ভাই মোজাহার উদ্দিনের একখণ্ড জমিতে টিনের একটি ঝুপড়ি ঘর তৈরি করে দেয় স্থানীয়রা। শত কষ্টেও কারো কাছে হাত পাতেননি তিনি। এই অসহায় মানুষটির দুঃখ-দুর্দশা দেখে স্থানীয়রা সহযোগিতার হাত বাড়ালে অভাবের তাড়নায় না করেননি। মেয়ে বিবাহযোগ্য হলে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পাত্রস্থ করা হয়।

মেয়েরও অভাবের সংসার। মায়ের দেখভাল দূরে থাক, অভাবী সংসারে দুই সন্তান নিয়ে তাদেরই জীবন চলে না। ৪০ বছর ধরে এই শারীরিক প্রতিবন্ধিতা নিয়ে ঝুপড়ি ঘরে একাকী জীবনে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটে মেরিনা বেগমের।

হঠাৎ করে এতসব নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও নগদ টাকা পেয়ে হতবাক হয়ে যান বৃদ্ধা মেরিনা বেগম। চোখে মুখে ফুটে উঠে আত্মতৃপ্তি আর আনন্দের ছাপ। ঝরে পড়ে আনন্দাশ্রু।

মেরিনা বেগম জানান, সামনে রমজান মাস। কিভাবে এই মাসটি পাড়ি যাবে তা নিয়ে চিন্তায় ছিলেন। এই সহায়তা পেয়ে অনেক বেশি উপকৃত হয়েছেন। পাশাপাশি শুভসংঘের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে দোয়া করেন তিনি।

মেরিনা বেগমের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন শুভসংঘ উপজেলা শাখার উপদেষ্টা অধ্যক্ষ আবু জাফর আলী, ঠিকাদার সিরাজুল হক রিক্তা, আব্দুল মোত্তালিব, সভাপতি সাবেক কাউন্সিলর খোরশেদ আলম, সহসভাপতি শিক্ষক আব্দুল হালিম দুদু, ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক শিক্ষক জিয়াউল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ ঠিকাদার মোশারফ হাসান, নির্বাহী সদস্য আলমগীর হোসেন আলম, এনামুল হক, আসলাম হোসাইন, আলমাস আলী, মামুনুর রশিদ, কালের কণ্ঠ উপজেলা প্রতিনিধি জিয়াউর রহমান প্রমুখ।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইদুর রহমান বলেন, কালের কণ্ঠ শুভসংঘের কথা এর আগে শুনেছি। আজ বাস্তবতা দেখে শুভসংঘের প্রতি ভক্তি শ্রদ্ধা বেড়ে গেল। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি সমাজের ভালো কাজ করার ধারাবাহিতকা অব্যাহত থাকায় মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে শুভসংঘ।



সাতদিনের সেরা