kalerkantho

বুধবার । ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭। ৩ মার্চ ২০২১। ১৮ রজব ১৪৪২

বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের উদ্যোগ

পাঠ্যবইসহ শিক্ষা উপকরণ হাতে পেয়ে কাঁদলেন অনেক শিক্ষার্থী

রংপুর অফিস ও নীলফামারী প্রতিনিধি   

২৩ জানুয়ারি, ২০২১ ২১:৫৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পাঠ্যবইসহ শিক্ষা উপকরণ হাতে পেয়ে কাঁদলেন অনেক শিক্ষার্থী

'একমাস আগে এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষে উত্তীর্ণ হয়েছি। আমার বাবা এখন পর্যন্ত বই কিনে দিতে পারেনি, তাই পড়াও শুরু হয়নি। কখন কিনে দিতে পারবেন সেটাও ছিল অনিশ্চিত। আজকে বই পেয়ে খুবই ভালো লাগছে। লেখাপড়ায় মনযোগী হওয়ার আগ্রহ বাড়ছে'।

ক্লাসের নতুন বই-খাতা ও ব্যাগ পেয়ে এমন অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন নীলফামারীর রামগঞ্জ কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের (মানবিক) শিক্ষার্থী জহুরা আকতার। আজ শনিবার বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের উদ্যোগে ও বসুন্ধরা নুডলসের সহযোগিতায় কালের কণ্ঠ শুভসংঘের দেওয়া পাঠ্যবইসহ শিক্ষা উপকরণ পেয়ে চোখের জল ফেলেন দরিদ্র পরিবারের অনেক শিক্ষার্থী। 

নীলফামারী সদর থেকে ১২ কিলোমিটার দুরে প্রত্যন্ত অঞ্চল রামগঞ্জ বাজার। ধুলোমাখা মেঠোপথ পেরিয়ে রামগঞ্জ কলেজ। কয়েক শ শিক্ষার্থীর পদভারে মুখরিত হয়ে ওঠে কলেজ চত্বর। দরিদ্র পরিবারের এসব শিক্ষার্থীর নতুন জামা-কাপড়তো নেই, নতুন বই কেনারও সামর্থ্য নেই তাদের। কালের কণ্ঠ শুভসংঘের দেওয়া পূর্ণ সেট বইসহ খাতা ও ব্যাগ পেয়ে ওই কলেজের ২৫০ শিক্ষার্থীর মধ্যে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়।

কলেজটির প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী লিয়ন ইসলাম। তার অনুভূতির ভাষায় বলেন 'পাঠ্যবইয়ের সহযোগিতা পাওয়া আমার কাছে একেবারেই ব্যতিক্রম। সরকার ছাড়া এমন মহতি উদ্যোগ আমার চোখে পড়েনি। বই না থাকায় থেমে যাচ্ছিল আমার লেখাপড়া। এখন বই পেলাম, আমার লেখাপড়ার গতিও বেড়ে গেল। ধন্যবাদ জানাই কালের কণ্ঠ শুভসংঘ ও বসুন্ধরা নুডলসকে। তাদের উদ্যোগের শরীক হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আগ্রহ জাগরিত করেছে আমার'।

অপর শিক্ষার্থী সুলতানা রাজিয়া এইচএসসি প্রথম বর্ষে উত্তীর্ণ হয়েছে এর আগে শুভসংঘের দেওয়া বই পেয়ে। ওই সহযোগিতা না পেলে হয়তো থেমে যেত তার লেখাপড়া। এবারে দ্বিতীয় বর্ষের বই পেয়ে আনন্দিত ওই শিক্ষার্থী। এ বিষয়ে সুলতানা বলেন, 'কলেজের শিক্ষার্থীরা সকলেই দরিদ্র পরিবারের। শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই দিনমজুরিসহ বিভিন্ন কাজ করে বই কেনার টাকা যোগাড় করে। এখন বই কেনার জন্য আর সেটি করতে হবে না। শুভসংঘের দেওয়া বইয়ে এখন আমাদের সকলের লেখাপড়া চলবে'।

বেলা ১২টার দিকে রামগঞ্জ কলেজ চত্বরে আয়োজন করা হয় শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানের। নীলফামারী জেলা শুভসংঘের আয়োজনে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মশিউর রহমান ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সরওয়ার মানিক, রামগঞ্জ কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সফিয়ার রহমান, বসুন্ধরা গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের এরিয়া সেলস ম্যানেজার আব্দুল কাদের, শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান, কালের কণ্ঠের রংপুর ব্যুরোপ্রধান স্বপন চৌধুরী, নীলফামারী প্রতিনিধি ভুবন রায় নিখিল, রংপুর আঞ্চলিক প্রতিনিধি সীমান্ত সাথী, ডোমার প্রতিনিধি আবু ফাত্তাহ কামাল পাখি, জলঢাকা প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান স্টালিন, পাটগ্রাম প্রতিনিধি মামুন ইসলাম, পীরগাছা প্রতিনিধি সরকার রবিউল আলম বিপ্লব, কেন্দ্রীয় শুভসংঘের যুগ্ম সম্পাদক সোহেল রানা স্বপ্ন।

নীলফামারী শুভসংঘের সভাপতি ও রামগঞ্জ কলেজের অধ্যক্ষ মো. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে রংপুর ও নীলফামারী শুভসংঘের বন্ধুরা উপস্থিত ছিলেন।

এমন মহতি উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে নীলফামারী জেলা প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, কালের কণ্ঠ শুভসংঘের এমন উদ্যোগ আলোর দুয়ার খুলে দেওয়ার কাজ করেছে। যে আলোতে শুধু শিক্ষার্থীরাই আলোকিত হবে না, আলোকিত হবে সকল স্তরের মানুষ। আর সে আলো একটি শিক্ষিত এবং উন্নত জাতি গঠনে কাজ করবে।

শিক্ষাবিদ সরওয়ার মানিক বলেন, শিক্ষাজীবনে সফলতা আনতে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবই বড় একটি সম্বল। বই না থাকলে অসহায় হয়ে পড়ে শিক্ষার্থীরা। আবার অনেককে শিক্ষাজীবন থেকে ঝড়ে পড়তে হয়। কালের কণ্ঠ শুভসংঘ এসব শিক্ষার্থীকে সহায়তা করার যে মহতি উদ্যোগ নিয়েছে সেটি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানাচ্ছি। হতদরিদ্র পরিবারেরর শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়া একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা উল্লেখ করে তিনি কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন ও বসুন্ধারা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা