kalerkantho

সোমবার । ২৯ চৈত্র ১৪২৭। ১২ এপ্রিল ২০২১। ২৮ শাবান ১৪৪২

পঞ্চগড়ে শীতার্তদের পাশে শুভসংঘ

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

১৬ জানুয়ারি, ২০২১ ১৮:৩৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পঞ্চগড়ে শীতার্তদের পাশে শুভসংঘ

'কাহো কম্বল দেয় নাই বা। হামার সামনত মানসিক কম্বল দেছে হামাক দেয় না। বড়লোকক দেছে। এনং জারত আর রহা যায় না। ঠাণ্ডাত আতিত নিন আইসে না। তোমরা কম্বল দিলেন খুব ভালো হইল বা। এলা কনেক আরামে ঘুমাবা পারিমো বা।' কালের কণ্ঠ শুভসংঘের শীতবস্ত্র পেয়ে এভাবেই অনুভূতি ব্যক্ত করছিলেন পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার খোঁচাবাড়ি এলাকার বৃদ্ধ ক্ষেতমজুর অশ্বনি কুমার রায়।

তার মতো ক্ষেতমজুর আশাবালা বলেন, 'হামার গরিব নোকক কাহো দেখে না। সরকার যা সুযোগ সুবিধা দেহে সব পাছে বড়নোক। তোমরা হামাক খুঁজে খুঁজে কম্বল দিছেন ভগবান তোমারলার ভালো করুক।' তাদের মতো শুভসংঘের শীতবস্ত্র পেয়ে খুশি অন্যরাও।

আজ শনিবার শুভসংঘের আয়োজনে পঞ্চগড়ের চার উপজেলার দুই শতাধিক দরিদ্র শীতার্তকে শীতবস্ত্র হিসেবে একটি করে কম্বল তুলে দেওয়া হয়েছে। সকালে পঞ্চগড় জেলা শহরের পঞ্চগড়-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে পঞ্চগড় সদর উপজেলার অসহায় দরিদ্র শীতার্তদের হাতে শীতবস্ত্র তুলে দেন পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হাসনুর রশিদ বাবু। এ সময় পত্রিকার হকারসহ ৬৫জন দরিদ্র শীতার্তের হাতে কম্বল তুলে দেওয়া হয়।

পরে দেবীগঞ্জ উপজেলার খোঁচাবাড়ি এলাকার ৫০জন ক্ষেতমজুরের হাতে শীতবস্ত্র তুলে দেন স্থানীয় স্কুলশিক্ষক শামছুল হক। এরপর বোদা পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলার দরিদ্র ৪০জন শীতার্তের হাতে শীতবস্ত্র তুলে দেন ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামিউল হক।

বিকেলে তেঁতুলিয়া উপজেলার ব্রহ্মতল এলাকায় ৪৫জন শীতার্তের হাতে শীতবস্ত্র তুলে দেওয়া হয়। শীতবস্ত্র পেয়ে নিম্ন আয়ের অসহায় এই মানুষগুলোর মুখে ফোটে হাসি। শীতবস্ত্র বিতরণে সহযোগিতা করে শুভসংঘের জেলা ও উপজেলা কমিটির বন্ধুরা।

স্থানীয়রা জানায়, উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে বরাবরই শীতের প্রকোপ থাকে। বেশির ভাগ সময় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা অবস্থান করে এই জেলায়। এবার ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকেই চলছে শীতের দাপট। জানুয়ারির শুরু থেকে ঘন কুয়াশা আর উত্তরের হাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এ জেলায় অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রকোপ না থাকলেও শীতে চরম দুর্ভোগে পড়েন এ জেলার নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষেরা। অনেকে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। সরকারিভাবে জেলায় ২২ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু জেলার বিরাট অঙ্কের দরিদ্র শীতার্তের তুলনায় বরাদ্দে হার খুবই কম। আবার বরাদ্দ হওয়া শীতবস্ত্র বিতরণে স্বজনপ্রিতি ও অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে প্রকৃত দরিদ্রদের কাছে শীতবস্ত্র পৌঁছাচ্ছে না।

এই পরিস্থিতিতে কালের কণ্ঠ শুভসংঘ পঞ্চগড়ের সদস্যরা প্রকৃত দরিদ্রদের খুঁজে তাদেরকে শীতবস্ত্র তুলে দেওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে সচেতন মহল।

পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হাসনুর রশিদ বাবু বলেন, এই শীতে পঞ্চগড়ের অনেক মানুষ কষ্টে রাত কাটাচ্ছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক শীতবস্ত্র না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা। এই পরিস্থিতিতে শুভসংঘ শীতবস্ত্র নিয়ে পঞ্চগড়ের অসহায় শীতার্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে। তাদের এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। আশা করি কালের কণ্ঠ শুভসংঘ এভাবেই মানুষের বিপদে আপদে তাদের শুভ কাজের ঝুলি নিয়ে হাজির হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা