kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

তদবির এড়াতে আত্মগোপনে থেকে পদায়ন তালিকা করলেন শিক্ষা কর্তা

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৭ জুন, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তদবির এড়াতে আত্মগোপনে থেকে পদায়ন তালিকা করলেন শিক্ষা কর্তা

সুনামগঞ্জে তদবিরের চাপ এড়াতে আত্মগোপনে থেকে ৫০৩ জন শিক্ষকের পদায়ন তালিকা প্রস্তুত করেছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পঞ্চানন বালা। আত্মগোপনের পাঁচ দিন পর গত সোমবার মুঠোফোন চালু করেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার অফিস চলাকালীন সময়ের মধ্যে পদায়নপ্রাপ্ত ৯০ শতাংশ শিক্ষক দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে। তবে শিক্ষাকর্তার এমন কাজে ও পছন্দের স্কুলে পদায়ন না পাওয়ায় অনেক শিক্ষক ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ওপরের মহলে অভিযোগ করেছেন।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কার‌্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সুনামগঞ্জের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫০৩ জন সহকারী শিক্ষককে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে চলতি দায়িত্বে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে তালিকা প্রকাশ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। পরে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে তাঁদের দায়িত্বভার বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে টানা পাঁচ দিন আত্মগোপনে থেকে পদায়নের কাজ সম্পন্ন করে গত সোমবার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ৫০৩ শিক্ষকের চলতি দায়িত্বের স্কুলগুলোর নাম উল্লেখসহ তালিকা প্রকাশ করেন।

জানা গেছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তালিকা প্রকাশের পরই পছন্দের স্কুলে দায়িত্ব নিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা নানামুখী তদবির শুরু করেন। তাঁরা মন্ত্রী, এমপিসহ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের দিয়ে জোড়ালো তদবির শুরু করেন। অনেকে প্রশাসনিক তদবিরও করেন। একপর‌্যায়ে নানামুখী চাপ সহ্য করতে না পেরে শিক্ষা কর্মকর্তা পঞ্চানন বালা গত ২০ জুন থেকে অফিসে আসা ও মুঠোফোন বন্ধ করে দেন। পরে সুনামগঞ্জের একটি গোপন স্থান থেকে যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করেন।

এদিকে নীতিমাল লঙ্ঘন করে অন্তরালে থেকে পদায়নের কাজ সম্পন্ন করায় তাঁর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ করেন বঞ্চিত শিক্ষকরা। তাঁরা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় উপপরিচালক তাহমিনা খাতুন বরাবরে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগও করেছেন। উপপরিচালক তাহমিনা খাতুন বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে লিখিতভাবে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে লম্বাবাক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলতি দায়িত্বের নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মালাঘোষ চৌধুরী বলেন, ‘আমি কোনো তদবির বা অনিয়মের সুযোগ নিইনি। আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নীতিমালার আলোকে আমার কাছের এলাকার স্কুলে দায়িত্ব দিয়েছেন। তবে যাঁরা বঞ্চিত হয়েছেন তাঁরা ক্ষুব্ধ হয়ে নানা কথা বলছেন।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, ‘আমার কাছে কৌশলে পছন্দের স্কুলে পদায়নের জন্য ঘুষ চাওয়া হয়েছিল। আমি দিইনি বলে আমাকে পছন্দের স্কুলে দেওয়া হয়নি।’

সদর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সোলেমান মিয়া বলেন, ‘আমরা নীতিমালা মেনে কাজ করেছি। মঙ্গলবার পদায়নপ্রাপ্ত ৯০ শতাংশ শিক্ষক দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন।’

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পঞ্চানন বালা বলেন, ‘আমি নানামুখী তদবিরের চাপ এড়িয়ে জেলা শহরে থেকেই শতভাগ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে ও নীতিমালা মেনে পদায়নের কাজ সম্পন্ন করেছি। মুঠোফোন বন্ধ রাখলেও অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছি। স্বচ্ছতার কারণে আমি কোনো শিক্ষক ও তদবিরকারীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখিনি। তবে যাঁরা পছন্দের স্কুলে পদায়ন পাননি, তাঁরাই আমার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনেছেন।’

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় উপপরিচালক তাহমিনা সুলতানা বলেন, ‘পাঁচ দিন ধরে সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার ফোন নম্বর বন্ধ ছিল। আমাদের সঙ্গে তিনি কোনো যোগাযোগ করেননি। চলতি দায়িত্বের প্রধান শিক্ষকদের পদায়ন বিষয়ে কোনো আলাপও করেননি। আমার কাছে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের নানা অভিযোগ এসেছে। বিষয়টি আমি মহাপরিচালককে লিখিতভাবে জানিয়েছি।’

 

মন্তব্য