kalerkantho

শনিবার । ২৫ মে ২০১৯। ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৯ রমজান ১৪৪০

আজমিরীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা

চেয়ার ফাঁকা মাস শেষে তোলেন টাকা

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

৬ জুন, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষার বেহাল দশা। প্রতি বছর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফলাফলে জেলার সবচেয়ে নিচের তালিকায় থাকে এ উপজেলা। কর্তৃপক্ষের যথাযথ তদারকির অভাবেই এমনটি হচ্ছে বলে মনে করে স্থানীয়রা।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামসহ সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা প্রায়ই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। তাঁরা অফিসেই যান না বলে অনেকে অভিযোগ করেছে। এ কারণে স্কুলগুলোর ঠিকমতো তদারকি হয় না। বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শুধু বেতন তুলতেই উপজেলায় যান বলে অভিযোগ রয়েছে।

হবিগঞ্জের নতুন জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবীর মুরাদ গত ৯ মার্চ পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিতে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা পরিদর্শনে যান। এ সময় তিনি বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তার সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সেই সভায়ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না। এমনকি কোনো সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাও সভায় অংশ নেননি। তখন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা জেলা প্রশাসককে জানান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অনুমতি ছাড়া প্রায়ই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। মাস শেষে শুধু বেতন তোলার জন্য কর্মস্থলে আসেন।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ এপ্রিল জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবীর মুরাদ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম সরকার ও সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহফুজ মিয়ার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর চিঠি পাঠান। এর অনুলিপি দেওয়া হয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, সিলেটের উপপরিচালক প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানান, তিনি হবিগঞ্জে নতুন এসেছেন। দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের চিঠিও পেয়েছেন। তবে এর আগেই তিনি দুই কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তিনি আরো জানান, যেদিন জেলা প্রশাসকের সমন্ব্বয় সভা হয়েছিল, সেদিন কোনো শিক্ষা কর্মকর্তা তাঁর কাছ থেকে ছুটি নেননি। পরে তাঁরা ই-মেইলে আবেদনপত্র পাঠান।

হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবীর মুরাদ বলেন, ‘জেলার শিক্ষা উন্নয়নে প্রশাসন থেকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আজমিরীগঞ্জের বিষয়টির ব্যাপারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদারকি বাড়ানো হয়েছে।’

গতকাল মঙ্গলবার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে গিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামকে পাওয়া যায়নি।

 

 

মন্তব্য