kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

মৌলভীবাজার

দামে ধরা ধান চাষি

নিজস্ব প্রতিবেদক, মৌলভীবাজার   

৩০ মে, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এ বছর আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে থাকায় বোরোর বাম্পার ফলন পেয়েছে চাষিরা। দেশের বৃহত্তম হাকালুকিসহ কাউয়াদিঘি ও হাইল হাওরের ৯৫ শতাংশ ফসল এরই মধ্যে কাটা শেষ হয়েছে। শেষ দিকে এসে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ও ঘন ঘন বৃষ্টিতে ধান শুকাতে কিছুটা বিঘ্ন হলে বেশির ভাগ কৃষকই এরই মধ্যে ধান গোলায় তুলতে পেরেছে। কিন্তু সরকারিভাবে মৌলভীবাজার জেলায় ধান সংগ্রহ এখনো শুরু না হওয়ায় দেনাগ্রস্ত কৃষকরা মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে স্বল্পমূল্যে ধান বিক্রি করে ধারদেনা পরিশোধ করছে। এর ফলে ন্যায্য মূল্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ধান চাষিরা।

হাওর এলাকায় ধান শুকানো ও রক্ষণাবেক্ষণ সমস্যার কথা বিবেচনা করে সিলেট বিভাগের অন্যান্য জেলায় সরকারিভাবে বোরো ধান সংগ্রহ শুরু হয়েছে। প্রতি কেজি ধান ২৬ টাকা মূল্যে কিনছে সরকার। সে হিসেবে প্রতি মণ ধানের মূল্য দাঁড়ায় এক হাজার ৪০ টাকা। সরকারিভাবে মৌলভীবাজারে ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু না হওয়ায় মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে কৃষকরা প্রতি মণ ধান মাত্র ৫০০-৬০০ টাকা মূল্যে বিক্রি করছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর মৌলভীবাজার জেলায় ৫৪ হাজার ১২ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, যা সরকার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা থেকে দুই হাজার হেক্টর বেশি। সে হিসেবে চাল উত্পাদিত হবে দুই লাখ ছয় হাজার ৩২৫ মেট্রিক টন, যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে সারা দেশের চালের বাজারে যুক্ত হবে।

এ বছর প্রকৃতি কৃষকদের সঙ্গে খুব একটা বিরূপ আচরণ করেনি। ফসল কাটার আগ মুহূর্তে ব্লাস্ট রোগ ও বৃষ্টিতে কিছুটা ক্ষতি হলেও তা কৃষকদের তেমন ভোগান্তিতে ফেলতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ভালোভাবে ধান উঠাতে পারলেও তা বিক্রি করে প্রত্যাশিত মূল্য পাচ্ছে না কৃষকরা। বাম্পার উত্পাদন পেয়েও ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় কৃষক পরিবারের মধ্যে হাসি নেই।

কৃষকরা জানায়, তাদের এক বিঘা জমিতে ধান চাষ করতে খরচ হয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা। বর্তমান বাজারের দামে ধান বিক্রি করলে তাদের খরচই উঠবে না। তার পরও দিনমজুরের পাওনা ও দেনা পরিশোধের জন্য বাধ্য হয়েই কম দামে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের।

হাকালুকি হাওরপারের কৃষক জিয়াউর রহমান মিন্টু, নজরুল ইসলাম, তপন কুমার দাস; কাউয়াদিঘি হাওরপারের কৃষক সৈয়দ বয়তুল আলী, রমিজ উদ্দিন ও কামাল উদ্দিন জানান, সরকারিভাবে কেনা শুরু না হওয়ায় সার-বীজসহ বোরো আবাদের যাবতীয় দেনা পরিশোধ করতে ৫০০-৬০০ টাকা মণ দরে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। অথচ সরকারি দামে বিক্রি করলে এক হাজার ৪০ টাকা পাওয়া যেত। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মৌলভীবাজারের উপপরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘এ বছর খুব ভালো বোরো উত্পাদন হয়েছে। প্রায় ৯৫ শতাংশ ফসল এরই মধ্যে কেটে ঘরে তুলেছে কৃষকরা। এবারের ফলনে গত দুই বছর যে ক্ষতি হয়েছিল, চাষিরা তা অনেকটা পুষিয়ে নিতে পারবে বলে আশা করছি।’

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মনোজ কান্তি দাস চৌধুরী বলেন, ‘মৌলভীবাজারে ধান কেনার নির্দেশনা আসেনি। এ জন্য আমরা ধান কেনা শুরু করতে পারিনি। তা ছাড়া আমাদের এখনো লক্ষ্যমাত্রাও জানানো হয়নি। তবে নির্দেশনা পেলেই ধান কেনা শুরু করা হবে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা