kalerkantho

শনিবার । ২৫ মে ২০১৯। ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৯ রমজান ১৪৪০

নবীগঞ্জে বালু উত্তোলন চলছে, কুশিয়ারা ভাঙছে

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

৩০ মে, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



নবীগঞ্জে বালু উত্তোলন চলছে, কুশিয়ারা ভাঙছে

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামে কুশিয়ারা নদীর বুকে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে প্রভাবশালীরা; (ডানে) এ কারণে প্রতিনিয়ত গ্রাম ভাঙছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামে কুশিয়ারা নদীর বুকে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন চলছেই। এতে নদীর তীর ভাঙন দেখা দিয়েছে ব্যাপকভাবে। এরই মধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে তীরবর্তী ফসলি জমি, অনেক ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট। আরো অনেক স্থাপনা ভাঙনের মুখে রয়েছে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

এলাকাবাসী সিলেট বিভাগীয় কমিশনার, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দিয়েছে; কিন্তু প্রতিকার পায়নি। ভূমিমন্ত্রী বরাবর অভিযোগ দিয়েও কাজ হয়নি।

স্থানীয় লোকজন জানায়, কুশিয়ারায় অবৈধ বালু উত্তোলনে সংশ্লিষ্টতা থাকায় আউশকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান হারুন, সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রব, সাবেক চেয়ারম্যান কবির উদ্দিন আহমেদ, আউশকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হাজী দুলাল, সুমন আহমেদসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর পক্ষে অভিযোগ করেন আব্দুল কুদ্দুছ। কিন্তু পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। নদীর তীরবর্তী বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে প্রশ্ন তোলেন, এই ব্যক্তিদের এত ক্ষমতার উৎস কোথায় যে প্রশাসন তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না?

গত শুক্রবার সকালে গিয়ে দেখা যায়, আউশকান্দির পাহাড়পুরে কুশিয়ারা নদী থেকে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছে। এ প্রতিনিধি ক্যামেরায় এর ছবি ধারণের চেষ্টা করলে উত্তোলনকারীরা ড্রেজার মেশিন নিয়ে পালিয়ে যায়।

আলাপকালে এলাকাবাসী জানায়, বর্ষাকালে নদীর স্রোতে বা শুষ্ক ঋতুতে পানি নেমে যাওয়ার সময় ভাঙন দেখা দেয়। এর মধ্যে পারকুল, বনগাঁও, পাহাড়পুর গ্রামের বিবিয়ানা বিদ্যুৎ প্লান্টসংলগ্ন কুশিয়ারার গভীর তলদেশ থেকে ড্রেজার মেশিনের পাইপের মাধ্যমে সারা দিন, এমনকি রাতেও অবাধে বালু তুলছে দুর্বৃত্তরা।

সমাজকর্মী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বালু উত্তোলনকারীদের হাত অনেক লম্বা।’

নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদ বিন-হাসান বলেন, ‘হোতাদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

 

মন্তব্য