kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

প্রথম দিন বিজয় ছাড়া সব ট্রেনের ৫০ শতাংশ টিকিট অবিক্রীত

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২৩ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রথম দিন বিজয় ছাড়া সব ট্রেনের ৫০ শতাংশ টিকিট অবিক্রীত

ঈদের ছুটিতে বাড়ি যেতে ট্রেনের আগাম টিকিট পেয়ে খুশি এক শিক্ষার্থী। গতকাল সকালে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন। ছবি : রবি শংকর

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ট্রেনের আগাম টিকিটের জন্য ঢাকায় হাহাকার শুরু হলেও চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে ছিল ভিন্ন চিত্র। পাঁচ দিনের আগাম টিকিট বিক্রির প্রথম দিনে গতকাল বুধবার আন্তঃনগর ট্রেন বিজয় এক্সপ্রেসের টিকিট দুই ঘণ্টায় বিক্রি হয়ে গেছে। তবে অপর সকল ট্রেনের ৫০ শতাংশ টিকিট অবিক্রীত থেকে যায়। বিজয় ছাড়া অপর ট্রেনগুলোর টিকিট সংগ্রহ করতে যাঁরা স্টেশনে গেছেন সবাই কাউন্টার থেকে টিকিট পেয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদ বুধবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আজকে (গতকাল) প্রথম দিনে বিজয় এক্সপ্রেস ছাড়া অপর ট্রেনগুলোর টিকিটের জন্য তেমন ভিড় ছিল না। বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত দেখা গেছে ময়মনসিংহগামী বিজয় ছাড়া অপর ট্রেনগুলোর ৫০ শতাংশ টিকিট অবিক্রিত আছে। তবে এরমধ্যে তূর্ণা নিশিতা ট্রেনের টিকিট রয়েছে কিছুটা কম। ২য় দিন থেকে টিকিটের জন্য ভিড় বেশি হতে পারে। প্রথম দিনের অবিক্রিত টিকিটগুলো কাউন্টারে রয়েছে। যাঁরা আসছেন তাঁরা টিকিট পাচ্ছেন।’

গতকাল বিক্রি হয়েছে আগামী ৩১ মের আগাম টিকিট। সকাল নয়টায় চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে প্রথম দিনের টিকিট বিক্রি শুরু হয়। তখন স্টেশনের বিভিন্ন কাউন্টারের সামনে টিকিটপ্রত্যাশী হাজারো মানুষ। শুরুতে দেখা গেছে বিজয়, তূর্ণা নিশিতায় দুই লাইনে উপচেপড়া ভিড়। বেলা যত বাড়তে থাকে ততই কাউন্টারগুলো ফাঁকা হতে থাকে। এরপর যাঁরা টিকিট কিনতে স্টেশনে গেছেন তাঁরা সহজে টিকিট পেয়েছেন। দুপুর একটার পর থেকে স্টেশনে যাওয়া টিকিট প্রত্যাশীদের লাইনে দাঁড়াতে হয়নি।

গতকাল বিক্রি হওয়া ৯টি আন্তঃনগর ট্রেন হচ্ছে-সুবর্ণ, তূর্ণা, গোধূলি, মেঘনা, মহানগর, সোনার বাংলা, পাহাড়িকা, উদয়ন এবং বিজয়। এছাড়া এবার ঈদে পূর্বাঞ্চলের যাত্রীদের যাতায়াতের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে এক জোড়া বিশেষ ট্রেন। ট্রেন দুটি চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটে চলাচল করবে। সবমিলে এবার ঈদ উপলক্ষে চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে বিভিন্ন রুটের জন্য প্রতিদিন গড়ে ১২ হাজার টিকিট বিক্রি করা হবে। এরমধ্যে রেলওয়ের অ্যাপসে ৫০ শতাংশ অর্থাৎ ৬ হাজার টিকিট এবং বাকি ৬ হাজার টিকিট রেলস্টেশনে বিক্রি করা হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার ২য় দিন বিক্রি হবে ১ জুনের আগাম টিকিট। 

আবদুল গণি নামে এক যুবক বলেন, ‘আমি সকাল ১১টায় লাইনে দাঁড়িয়ে সাড়ে ১২টায় তূর্ণা নিশিতার একটি টিকিট নিয়েছি। মনে করেছিলাম টিকিট পাব না। বেশি ভিড় হবে। কিন্তু এখানে এসে দেখি ভিড় বেশি নেই। টিকিট পেয়ে ভালো লাগছে।’

এভাবে গতকাল যাঁরা স্টেশনে গেছেন তাঁদের প্রায় সবাই ৩১ মের টিকিট সংগ্রহ করেছেন। তবে সকাল ১১টার দিকে বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট শেষ হয়ে গেলে অপর ট্রেনগুলোর আগাম টিকিটের তেমন ভিড় ছিল না।

এর আগে গতকাল সকালে চট্টগ্রাম রেলস্টেশন পরিদর্শন করেন পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক সৈয়দ ফারুক আহমেদ। তিনি স্টেশন থেকে যাওয়ার সময় বিভিন্ন কাউন্টারে টিকিটের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় কয়েকজন যাত্রী তাঁকে বিভিন্ন অভিযোগ জানান।

মাসুদ সরকার নামে একজন বলেন, ‘সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত মাত্র ৬ জন টিকিট পেয়েছে। কাউন্টারে খুব ধীরগতিতে কাজ চলছে। এতো সময় নেওয়ায় টিকিট  প্রত্যাশীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’

সৈয়দ ফারুক আহমদ তাঁকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘৫০ শতাংশ টিকিট অ্যাপসে দিলেও বাকি সব টিকিট এ লাইনে দেওয়া হবে। তাই চিন্তার কোনো কারণ নেই। টিকিট পাবেন।’

সাব্বির হোসেন নামে অপর এক ব্যক্তি বলেন, ‘অ্যাপসে অনেক চেষ্টার পরও টিকিট পাইনি। তাই ভোর চারটা থেকে দাঁড়াই। অ্যাপসের সমস্যার কারণে আমাদের ভোগান্তি হচ্ছে।’

এ সময় পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক বলেন, ‘এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্টের সময় অনলাইনে ডিস্টার্ব করে। কারণ সবাই একসঙ্গে রেজাল্ট জানার জন্য ঢুকে। ঠিক অ্যাপসেও সবাই টিকিট কাটার জন্য ঢুকছে, তাই সার্ভার ডাউন। তবু বিষয়টি নিয়ে রেলওয়ে কাজ করছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা