kalerkantho

রবিবার। ১৬ জুন ২০১৯। ২ আষাঢ় ১৪২৬। ১২ শাওয়াল ১৪৪০

মানিকছড়িতে স্বামী খুন, স্ত্রী আটক

নোয়াখালীতে হাত পা বাঁধা লাশ

হাতিয়ায় সোনা ব্যবসায়ী শিপ্লব খুুনের ঘটনায় সব আসামি গ্রেপ্তার হয়নি

খাগড়াছড়ি ও নোয়াখালী প্রতিনিধি   

২২ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মানিকছড়ি উপজেলার উত্তর চেঙ্গুছড়া গ্রামে নিজের বাড়িতেই খুন হলেন রফিকুল ইসলাম (৩৭) নামে এক ব্যক্তি। মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১১টার দিকে তাঁকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। পুলিশ খবর পেয়ে রাত দেড়টার দিকে লাশ উদ্ধার করে। ঘটনার ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্ত্রী রোকসানা বেগমকে রাতেই আটক করেছে পুলিশ। 

জানা গেছে, ওই গ্রামের মো. ওহাব মিয়ার ছেলে মো. রফিকুল আলম চট্টগ্রামের একটি রেস্তোরাঁয় কাজ করতেন। রমজানের হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সপ্তাহখানেক আগে বাড়িতে এসেছিলেন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সবাই ঘুমিয়ে পড়লে কে বা কারা রফিকুল ইসলামকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় কুপিয়ে হত্যা করে। রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে রফিকুলের স্ত্রী কান্নাকাটি শুরু করলে একই ঘরের পাশের কক্ষে ঘুমানো তাঁর নানি ও আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। নিহতের বড় মেয়েও বাবার গোঙানি শুনে ঘুম থেকে জেগে দেখে চিৎকার করে লোকজনকে ডাকাডাকি করে। নিহতের স্ত্রী ছাড়াও দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।

মানিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ রশিদ জানান, পারিবারিক কলহের কারণেও এই খুনের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। সে কারণে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত রফিকুল ইসলামের স্ত্রী রোকসানা বেগমকে আটক করা হয়েছে।

নোয়াখালী : চাটখিল উপজেলার নোয়াখলা থেকে নুরুল আমিন (৫১) নামে এক ব্যক্তির হাত পা বাঁধা অবস্থায় লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে নিহতের বাড়ির (শ্রীনগর মাইজের বাড়ি) সুপারিবাগান থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা হয়। নুরুল আমিন ওই ইউনিয়নের দক্ষিণ শ্রীনগর গ্রামের মৃত আলী আকবরের ছেলে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জসিম উদ্দিন রানা ও রুবেল হোসেন নামে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, লাশের পাশে একটি হাতুড়ি পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে হাতুড়িটি দিয়ে পিটিয়ে এবং শ্বাসরোধ করে তাঁকে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে নুরুল আমিন স্থানীয় মসজিদে তারাবি নামাজ শেষে বাড়িতে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন। এমনকি তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। পরে নিহতের ঘরের পাশের সুপারিবাগানে লাশটি পাওয়া যায়। এলাকাবাসীর ধারণা সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধে তিনি খুন হতে পারেন।

চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ারুল ইসলাম জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে হাতিয়া উপজেলার আফাজিয়া বাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ী শিপ্লব চন্দ্র বণিক হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত টাকা-স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তাঁর স্ত্রী পাখি রাণী বণিক। মঙ্গলবার নোয়াখালী প্রেস ক্লাব ভবনে শিপ্লব চন্দ্র বণিকের দুই শিশু সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে তিনি সংবাদ সম্মেলন করেন।

লিখিত বক্তব্যে পাখি রাণী বণিক বলেন, ‘১৩ এপ্রিল রাতে হাতিয়ার আফাজিয়া বাজারে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সততা স্বর্ণ শিল্পালয়ে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা শিপ্লবকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর তারা দোকান থেকে নগদ ২২ লাখ টাকা ও ৫০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করলেও তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাকি আসামিদেরকে গ্রেপ্তার ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করতে পারেনি। উল্টো আসামিরা দুই সন্তানসহ আমাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে।’

সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদেরকে দ্রুত গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং লুণ্ঠিত টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধারের দাবি জানানো হয়।

এ ব্যাপারে হাতিয়া থানার ওসি আবুল খায়ের জানান, হত্যায় জড়িতদের প্রত্যেককে গ্রেপ্তার ও মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা