kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে মাতামুহুরী দ্বিতীয় সেতু

নির্মাণকাজ বন্ধের উপক্রম

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া (কক্সবাজার)   

২২ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নির্মাণকাজ বন্ধের উপক্রম

বহুল প্রতীক্ষিত চকরিয়ার চিরিঙ্গায় মাতামুহুরী নদীর ওপর ছয় লেনের দ্বিতীয় সেতুর নির্মাণযজ্ঞ বন্ধের উপক্রম হয়েছে। নিয়ম রয়েছে সেতুর নির্মাণস্থল থেকে এক কিলোমিটার করে উজান ও ভাটি থেকে কোনো ধরনের বালু বা মাটি কাটা যাবে না। কিন্তু গত দুই মাস ধরে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে স্কেভেটর দিয়ে কেটে প্রতিদিন শত শত ডাম্পারভর্তি করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বালু ও মাটি। এই অবস্থায় বিদ্যমান পুরনো সেতু এবং নতুন সেতুর নির্মাণকাজ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। কিন্তু দুর্বৃত্তদের অপতৎপরতার মুখে অসহায় হয়ে পড়েছে সেতু নির্মাণে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। এমনকি সেতু নির্মাণ প্রকল্প ব্যবস্থাপকের পক্ষ থেকে এসব অপতৎপরতা বন্ধে পর পর দুবার অনুরোধ জানিয়ে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পত্র দেওয়া হলেও কোনো কাজ হয়নি।

পুরনো সেতু দিয়ে যান চলাচল সচল রাখতে এবং স্থায়িত্ব ধরে রাখতে সেতুটির নদীর উজান এবং ভাটির এক কিলোমিটার এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও মাটি কাটা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন ছয় লেনের দ্বিতীয় মাতামুহুরী সেতুর প্রকল্প পরিচালক।

এ সংক্রান্ত একটি চিঠি কক্সবাজার জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করেছেন প্রকল্পর ব্যবস্থাপক (পূর্ব) সুপ্তা চাকমা। চিঠিতে বিষয়টি অতীব জরুরি এবং এই তৎপরতা অব্যাহত থাকলে অবকাঠামোগত দিক দিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলেও অবহিত করা হয়। গত এপ্রিল মাসের ১৮ তারিখ চিঠিটি দেওয়া হলেও এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সেতুর একেবারে কাছ থেকে স্কেভেটর দিয়ে অবৈধভাবে বালু ও মাটি কেটে ১০ চাকার ৩০ টন ওজনের ডাম্পারভর্তি করে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর ওপর দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জাইকার অর্থায়নে ক্রস বর্ডার রোড নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট (বাংলাদেশ) এর আওতায় মাতামুহুরী নদীর ওপর নতুন সেতু নির্মাণের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্পেক্ট্রা ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডকে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। বর্তমানে সেতু নির্মাণের স্থানে নদীশাসন ও নদীর নাব্যতা রক্ষার জন্য নিয়োজিত ঠিকাদার কর্তৃক যথাযথ ডিজাইন অনুসরণ করে কনসালটেন্ট ও সওজর প্রতিনিধির নির্দেশনা মোতাবেক বালু উত্তোলন বন্ধ ও নদী খননসহ অন্যান্য কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কিন্তু কতিপয় লোকজন কনসালটেন্ট ও সওজর নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নিয়ম বহির্ভূতভাবে সেতুর সন্নিকটে বালু উত্তোলন করছে এবং মাটি কেটে অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছে। যা সেতুটির জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

সেতুর এক কিলোমিটার উজান এবং ভাটির মধ্যে বালু উত্তোলন ও মাটি কাটা অবকাঠামোগত দিক দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। এমতাবস্থায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার জাতীয় মহাসড়কে অবস্থিত এই গুরুত্বপূর্ণ মাতামুহুরী সেতুর নিরাপত্তার স্বার্থে উজান এবং ভাটির এক কিলোমিটার করে এলাকা থেকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে বালু উত্তোলন ও মাটি কাটা বন্ধ করাসহ প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতার জন্য অনুরোধ করা হয়।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আশরাফুল আফসার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মাতামুুহুরী নদী থেকে বালু উত্তোলনের জন্য কাউকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। ছয় লেনের মাতামুহুরী সেতু নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক কর্তৃক দেওয়া পত্রটি হস্তগত হওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।’

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আশরাফুল আফসার আরো বলেন, ‘কোনো অবস্থাতেই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও মাটি কাটতে দেওয়া হবে না কাউকে। এজন্য কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

মন্তব্য