kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

ঈদ বাজার ঘিরে নারী প্রতারকচক্র সক্রিয়

আসাদুজ্জামান দারা, ফেনী   

২১ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঈদ বাজার ঘিরে নারী প্রতারকচক্র সক্রিয়

ফেনীতে গ্রেপ্তার নারী প্রতারকচক্রের পাঁচ সদস্য। ছবি : কালের কণ্ঠ

ওরা নারী প্রতারক। কখনো ভিক্ষুকের বেশে, কখনো যাত্রীবেশে গণপরিবহনে আবার কখনো ক্রেতা সেজে বিপণি বিতানে ঘুরে বেড়ায়। সুযোগ পেলে হাতিয়ে নেয় টাকা, সোনার গহনা। বিশেষ করে নারী যাত্রী ও বিপণি বিতানের নারী ক্রেতারাই ওদের টার্গেট। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এরা আসে। ভিড় করে বিভিন্ন বড় বিপণি বিতানে।

নারী ক্রেতারা যখন বিভিন্ন সামগ্রী মনোযোগ সহকারে দেখেন-তখন সুযোগ বুঝে তাঁকে সর্বস্বান্ত করে দেয় ওরা। সম্প্রতি ফেনী থানা পুলিশের কাছে ধরা পড়ে নারী প্রতারক চক্রের পাঁচ সদস্য। গোটা জেলায় এ ধরনের কয়েক শ নারী নানা বেশে ও কৌশলে সক্রিয় রয়েছে বলেও জানায় পুলিশ।

সম্প্রতি পুলিশের কাছে আটক হওয়া প্রতারকরা হলেন-ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার পারভীন বেগম (৩৫), আকলিমা বেগম (৩০), শারমিন বেগম (৩২), রোজিনা বেগম (২৫) ও মমতাজ বেগম (১৯)। সম্প্রতি এরা ফেনী থেকে বারৈয়ারহাটগামী আনন্দ সুপার সার্ভিসের একটি বাসে নারী যাত্রীর চেইন ছিনতাই চেষ্টাকালে অপরাপর যাত্রীদের হাতে ধরা পড়ে। এ সময় যাত্রীরা এই ৫ নারী প্রতারককে পুলিশে সোপর্দ করে।

ফেনী মডেল থানার ওসি তদন্ত সাজেদুল পলাশ জানান, ঈদকে সামনে রেখে এমন নারী প্রতারকচক্র বিভিন্ন স্থানে রয়েছে। এরা কখনো যাত্রীদের অজ্ঞান করে আবার কখনো নানা কৌশলে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা ও দামী গহনা হাতিয়ে নিয়ে সটকে পড়ে। অনেক সময় এরা যানবাহনে ভিড় লাগিয়ে ফায়দা হাসিল করে থাকে। আবার বাসা-বাড়িতে গিয়ে কাজের লোক পরিচয় দিয়ে পরিবারের লোকজনকে চেতনানাশক ব্যবহার করে অজ্ঞান করেও লুটপাট করে পালিয়ে যায়। তাই এদের কাছ থেকে সবসময় সতর্ক থাকা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে সোনাগাজীতে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে ৫ ভরি সোনার গহনা খুইয়েছেন এক গৃহবধূ। সোনাগাজী জিরো পয়েন্টের হাজি রহিম উল্যাহ মার্কেটের পাশে অটোরিক্সা স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় গৃহবধূ বিবি কুলসুমকে অজ্ঞান করে ৫ ভরি গহনা, মোবাইল সেট নিয়ে যায় চক্রের সদস্যরা। তিনি রবিবার দুপুরে চরচান্দিয়ার পূর্ব বড়ধলি গ্রামের আতর আলী মিস্ত্রি বাড়ি থেকে এসে কেনাকাটা করতে বিপণি বিতানে যাচ্ছিলেন। শুরু থেকে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা তাকে অনুসরণ করছিল। এক পর্যায়ে তারা সুযোগ বুঝে মালামাল লুটে পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে সোনাগাজী থানায় মামলা করেন বিবি কুলসুম।

ফেনী মডেল থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘সাধারণত ঈদ মৌসুমে এদের উৎপাত বেড়ে যায়। এরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়ায়। বড় বিপণি বিতানগুলোতে যেখানে ক্রেতার ভিড় লেগে থাকে-ওই ধরনের বিপণি টার্গেট করে তারা। ক্রেতা যখন পছন্দের পোশাক নিয়ে ব্যস্ত থাকে অথবা বিক্রেতার সাথে দর কষাকষি করে, তখনই সুযোগ বুঝে এরা ভ্যানিটি ব্যাগ, পার্স, মোবাইল ফোন ও সোনার গহনা নিয়ে চম্পট দেয়।’ ফলে অপরিচিত কাউকে আশপাশে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখলে অধিক সতর্ক হবার পরামর্শ দেন তিনি।

ফেনীর পুলিশ সুপার কাজী মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ঈদ ঘিরে এ ধরনের অপরাধ বেড়ে যায়। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিয়ে সকল বিপণি বিতানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। আবার সাদা পোশাকে নারী পুলিশও রয়েছে।’ কোনো সন্দেহভাজনকে দেখলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের সহায়তা নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি। পাশাপাশি এসব বিষয়ে দোকান মালিক সমিতি ও বিপণি বিতানের মালিক কর্তৃপক্ষেরও ভূমিকা পালন জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

মন্তব্য