kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

দুর্গম পাহাড়ে পানির জন্য হাহাকার

জাকির হোসেন, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি)   

২০ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুর্গম পাহাড়ে পানির জন্য হাহাকার

খাগড়াছড়ির দীঘিনালার আটমাইল মরা ছড়া থেকে পাহাড়িদের খাবার পানির সংগ্রহের ছবিটি সম্প্রতি তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

পাহাড়ের দুর্গম এলাকায় পানির সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে উঁচু পাহাড়ের বাসিন্দারা পানির তীব্র সংকটে ভুগছে। সাম্প্রতিক খরায় ছড়া ও ঝিরির মতো পানির উৎস শুকিয়ে যাওয়ায় এ সংকট চরমে পৌঁছেছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

জানা গেছে, উঁচু এলাকাগুলোতে নলকূপ বসানোর সুযোগ নেই। এসব এলাকার বাসিন্দারা দূরবর্তী ছড়া বা ঝিরি থেকে প্রয়োজনীয় পানি সংগ্রহ করে থাকেন। খাবার পানিও সংগ্রহ করা হয় ছড়া বা ঝিরিতে তৈরি করা কূপ থেকে। এখন তীব্র গরমে শুকিয়ে গেছে কাছের সব ছড়া। দুই থেকে তিন কিলোমিটার দূরে কোনো মৃতপ্রায় ছড়ায় সামান্য পানি চুঁইয়ে বের হলেই অন্তত খাবার পানি সংগ্রহের জন্য ভিড় জমান কয়েক পাড়ার বাসিন্দারা। এতে সকালে পানির পাত্র নিয়ে ছড়ায় গিয়ে ফিরতে কারো বিকেলও হচ্ছে।

অবশ্য পানির সংকটের সংবাদে সেনাবাহিনীর গাড়ি যাতায়াত করতে পারে এমন কিছু এলাকায় খাবার পানি বিতরণ করছে সেনাজোন।

দেখা যায়, আটমাইল মরা (মৃতপ্রায়) ছড়ায় পানি সংগ্রহে এসেছেন চন্দ্রকিরণ কার্বারিপাড়ার ডলি ত্রিপুরা (৪০) এবং আটমাইল যৌথখামার এলাকার হতেন বৈষ্ণবসহ (৬০) অনেকে। সেই ছড়ার একটি অংশে উপর থেকে সামান্য পানি চুঁইয়ে পড়ছে। সেখানে এক চিলতে বাঁশ দিয়ে পানি ধরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সারিবদ্ধ হয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে লোকজনদের।

ডলি ত্রিপুরা ও  হতেন বৈষ্ণব জানান, আশপাশে এ উৎসটির বাইরে পানি সংগ্রহ করার মতো আর কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেই। তাই অতি কষ্ট হলেও এখান থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। গোসলতো আপাতত কয়েকদিনেও করার সুযোগ হয় না।

স্থানীয় রাজেশ ত্রিপুরা (৩৫) জানান, পানির এ সামান্য উৎসটি থেকে চন্দ্রকিরণ কার্বারিপাড়া, আমতলী এবং আটমাইল যৌথখামার এলাকার প্রায় ৪৫০ পরিবার খাবার পানি সংগ্রহ করে।

নয়মাইল ত্রিপুরাপাড়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তপু ত্রিপুরা জানান, পানি সংকটের কারণে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও বিরাট সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বলা হয়েছে খাবার পানি বাড়ি থেকে নিয়ে আসার জন্য। কিন্তু তাদেরও অনেক কষ্টে সংগৃহীত পানি। তাই তাদের কেউ কেউ সামান্য পানি নিয়ে আসে। যা দিয়ে শিক্ষার্থীদের খাবার পানির চাহিদা মেটে না। এর ওপর শৌচাগার ব্যবহার করা সম্ভব হয় না পানি না থাকার কারণে। এতে ছাত্রীদের ভোগান্তি এখন চরমে। পানির সংকট উত্তরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেছেন তপু ত্রিপুরা।

মন্তব্য