kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

চট্টগ্রামে নাগরিক ইস্যুতে সরব আ. লীগ নেতারা

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

১৮ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চট্টগ্রামে নাগরিক ইস্যুতে সরব আ. লীগ নেতারা

নাগরিক জীবনের নানা সমস্যা নিয়ে সাধারণত সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলোকে মানুষের দাবি আদায়ে সোচ্চার হতে দেখা যায়। বিপরীতে ক্ষমতাসীন দল ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলো রাজপথে সরব থাকে নিজ দল ও সরকারের উন্নয়ন প্রচার নিয়ে। পাশাপাশি সরকারবিরোধীরা যাতে নাগরিক বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে রাজনীতির মাঠে ‘ইস্যু’ নিয়ে নামতে না পারে সে ব্যাপারে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়ে থাকে।

কিন্তু বন্দরনগর চট্টগ্রামে এখন উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। নগরে যত্রতত্র খোঁড়াখুঁড়ি, সেই সঙ্গে পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাসের সংকটসহ নানা সমস্যা নিয়ে ক্ষমতাসীন দল ও তাদের সহযোগী এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বর্তমানে সক্রিয় রয়েছেন। এসব নাগরিক সমস্যার পাশাপাশি পবিত্র রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ রাখাসহ পচা, বাসি ও ভেজাল খাবার বিক্রি ও পরিবেশন থেকে বিরত রাখার দাবিতে নানা কর্মসূচি পালন করছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। অনেকের মতে, জাপার সাংগঠনিক দুর্বলতা ও বিএনপির নিষ্ক্রিয়তা কারণে আওয়ামী লীগ নেতারাই অনেকটা ‘বিরোধী দলের’ ভূমিকা পালন করছেন। ‘চট্টগ্রাম নাগরিক উদ্যোগ’ ও ‘চট্টগ্রাম নাগরিক আন্দোলন’ নামে দুটি সংগঠনের ব্যানারে এই ভূমিকা পালন করে আসছেন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

‘জনদুর্ভোগ লাঘবে জনতার ঐক্য চাই’ স্লোগানকে সামনে রেখে ‘নাগরিক উদ্যোগের’ নানা কর্মসূচি এখন চোখে পড়ছে। এ সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন। তিনি সংগঠনটির প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্বে আছেন। এ সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নঈম উদ্দিন চৌধুরীসহ দল ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদেরও দেখা যাচ্ছে।

গত প্রায় তিন সপ্তায় ‘নাগরিক উদ্যোগ’ চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশনের মেয়র, নগরের সেবা সংস্থা ওয়াসা, বিদ্যুৎ, সিডিএসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে নাগরিক সমস্যা সমাধানে মতবিনিময় সভা করেছে। রমজানের শুরু থেকে ‘দ্রব্যমূল্য নিয়ে কারসাজি রুখে দাঁড়ান’ শিরোনামে লিফলেট নিয়ে নগরের বিভিন্ন বাজারে প্রচারণা চালাচ্ছেন সুজনের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতারা। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ভেজাল খাদ্য উৎপাদনকারী, মাদক বিক্রেতা, ধর্ষক ও জঙ্গি সম্পৃক্ততাকারীদের আইনি সহায়তা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

এই সংগঠনের পক্ষ থেকে সর্বশেষ গত বুধবার চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি, গত ১৩ মে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র, ১২ মে নগরের কর্ণফুলী বাজার ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, ৯ মে সিডিএ চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ, ৮ মে রেয়াজউদ্দিন বাজারের ব্যবসায়ী, ৬ মে খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী, ৫ মে চট্টগ্রামের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, ২৮ এপ্রিল চট্টগ্রাম ওয়াসার এমডি, ২৪ এপ্রিল বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রামের প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে মতবিনিময় সভা করা হয়।

অপর সংগঠন চট্টগ্রাম নাগরিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম রেজাউল করিম চৌধুরী। তিনি এ সংগঠনের আহ্বায়ক। তিনি মাঠে নেমেছেন চট্টগ্রামের কর্ণফুলী গ্যাস গ্রাহক-ঠিকাদার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে। প্রায় ২৫ হাজার গ্রাহকের আবাসিক গ্যাস সংযোগের দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে লিফলেট বিতরণ ও ব্যানার সাঁটানো কার্যক্রম। ওই পরিষদের আন্দোলন কর্মসূচিতে রেজাউল করিমের পাশাপাশি সংগঠনের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড কমিটির সাবেক-বর্তমান নেতারা সক্রিয় রয়েছেন।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা খোরশেদ আলম সুজন গত বৃহস্পতিবার বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ গণমানুষের দল। জনগণের পাশে থাকাকে আমরা নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করি।’ তিনি বলেন, ইতিমধ্যে নাগরিকদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আমরা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যেসব বৈঠক করেছি তার সুফলও পাচ্ছি। মানুষ আওয়ামী লীগের দিকে তাকিয়ে থাকে। আমরা চেষ্টা করছি সেবা সংস্থার পাশাপাশি প্রশাসনের সঙ্গে নানা বিষয়ে সমন্বয় করে যাতে নাগরিক সমস্যার দ্রুত সমাধান হয়।’

নাগরিক আন্দোলনের আহ্বায়ক এম রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ডিমান্ড নোট ইস্যু ও ব্যাংকের টাকা জমা দেওয়ার পরও গত পাঁচ বছরে প্রায় ২৫ হাজার গ্রাহক আবাসিক গ্যাসের সংযোগ পাচ্ছে না, কর্ণফুলী গ্যাস কম্পানির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের কারণে। তাই তারা ইতিমধ্যে গ্যাস গ্রাহক ও ঠিকাদার ঐক্যপরিষদের ব্যানারে প্রতিবাদসভা, স্মারকলিপি প্রদান, সংবাদ সম্মোলনের পর এখন প্রচারপত্র বিতরণ করছি।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে চট্টগ্রামে উন্নয়নের জোয়ার বইছে। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে পরিকল্পিত উন্নয়ন না হওয়ায় মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। মানুষের দুর্ভোগ-ভোগান্তি হলে সরকারকে দোষারোপ করা হয়। তাই সরকার ও দল যাতে কোনো প্রশ্ন ও সমালোচনার সম্মুখীন না হয় সে জন্য তাঁরা যার যার অবস্থানে থেকে কাজ করছেন বলে জানান।

মন্তব্য