kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

বদলে যাচ্ছে সেই ত্রিপুরাপল্লী

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৭ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বদলে যাচ্ছে সেই ত্রিপুরাপল্লী

হাটহাজারীর মনাই ত্রিপুরাপাড়া। এখানকার বাসিন্দাদের যাতায়াতের কোনো সড়ক ছিল না। সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসন ১৫ ফুট প্রস্থের সড়কটি নির্মাণ করে। ছবি : কালের কণ্ঠ

হাটহাজারী উপজেলার ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের মনাই ত্রিপুরাপাড়া। একেবারেই অজপাড়াগাঁ। নেই কোনো সুযোগ-সুবিধা। রয়েছে বাসিন্দাদের অসচেতনতা। এখানে অজ্ঞাত রোগে একই পরিবারের তিনজনসহ মারা যায় চার শিশু। ছিল না বিদ্যুৎ। ছিল না যাতায়াতের কোনো সড়ক।

সেই মনাই ত্রিপুরাপাড়া বদলে যাচ্ছে। প্রায় ৩ লাখ ৭০ টাকা ব্যয়ে প্রধান সড়ক থেকে প্রায় দুই কিলোমিটারের আইলকে উন্নীত করা হয়েছে ১৫ ফুট প্রস্থের কাঁচা সড়কে। তৈরি হয়েছে আটটি কালভার্ট ও আটটি সেমিপাকা শৌচাগার। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা অর্থায়নে স্থাপন করা হয়েছে তিনটি গভীর নলকূপ, মন্দিরভিত্তিক স্কুল শিক্ষা কার্যক্রম চালু করতে করা হয়েছে টিনশেড ঘর, ব্যবস্থা করা হয়েছে সৌর বিদ্যুৎ। এসব উন্নয়নের নেপথ্যে যাঁর পরিশ্রম, তিনি হলেন হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ রুহুল আমীন।

জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মনাই ত্রিপুরা পাড়ার অবস্থান চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের হাটহাজারী ফরহাদাবাদ সড়ক থেকে পশ্চিমে গাড়িতে প্রায় ১০ কিলোমিটার। এরপরে হেঁটে যেতে হয় আরো এক কিলোমিটার। এমন একটি অজপাড়াগাঁয়ে আধুনিক নাগরিক জীবন বলতে কিছু ছিল না। কিন্তু এখন সেটি বদলে গেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের আন্তরিক সহযোগিতায় অনেক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।’

ইউএনও বলেন, ‘উন্নয়নের পূর্ব শর্ত উন্নত যোগাযোগ। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকলে সেখানে কোনো কাজ সহজে হয় না। তাই প্রথমেই তাদের যাতায়াতের আইলটি সড়কে উন্নীত করা হয়। তাছাড়া শিক্ষাসহ অবকাঠামোগত নানা উন্নয়ন করা হয়।’

ত্রিপুরাপল্লীর বাসিন্দা শচীন ত্রিপুরা বলেন, ‘এতদিন আমরা নাগরিক জীবনের সুবিধার বাইরে ছিলাম। এখন আমরা বিদ্যুৎ, সড়ক, নলকূপ, শিশুদের শিক্ষাসহ অনেক কিছু পেয়েছি।’      

জানা যায়, হাটহাজারীর এক নম্বর ফরহাদাবাদ এলাকার সোনাই ত্রিপুরাপাড়ায় ২০১৮ সালের ২৬ আগস্ট অজ্ঞাত রোগে চার শিশু মারা যায়। এরপর থেকে পল্লীটি আলোচনায় আসে। বের হয় সেখানে নাগরিকজীবন বলতে কিছু না থাকার নানা তথ্য। অজপাড়াগাঁয়ের এ পল্লীতে ৫৫টি পরিবারে বাস করে ৩৭৫ জন মানুষ। সেখানে ছিল না বিদ্যুৎ। মোবাইলে চার্জ দিতে হয় প্রতি ঘণ্টা পাঁচ টাকা করে। তবে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দেওয়া হয়েছে সৌরবিদ্যুৎ। ত্রিপুরা পল্লীতে দেওয়া হয় তিনটি বাতি এবং একটি মোবাইলে চার্জ দেওয়ার পয়েন্ট। পুরো পল্লীতে মাত্র একটি চায়ের দোকান আছে, সেখানেও লাগনো হয়েছে সৌরবাতি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা