kalerkantho

সোমবার। ২৭ মে ২০১৯। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২১ রমজান ১৪৪০

পটিয়ার চাঁনখালী খালের এক কিলোমিটার ভরাট

ইন্দ্রপুলের লবণ কারখানা হুমকির মুখে

আবদুল হাকিম রানা, পটিয়া (চট্টগ্রাম)   

২৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ইন্দ্রপুলের লবণ কারখানা হুমকির মুখে

পটিয়ার কেরিঞ্জা এলাকায় ভরাট চাঁনখালী খাল। ছবি : কালের কণ্ঠ

পটিয়ার দুঃখখ্যাত চাঁনখালী খাল খননের ১০ বছর না যেতেই খালটির কেরিঞ্জা এলাকা আবার ভরাট হয়ে গেছে। এতে খাল ঘিরে ইন্দ্রপুলে গড়ে উঠা অর্ধশতাধিক লবণ কারখানা হুমকির মুখে পড়েছে।

জানা যায়, চাঁনখালী খাল শত শত বছর ধরে খরস্রোতা খাল হিসেবে এ অঞ্চলের কৃষি, মৎস্য ও শিল্প উন্নয়নে অবদান রেখে আসছে। এক সময় খালের নাব্যতা থাকায় নৌপথে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নৌকায় মালামাল আনা নেওয়া করা হত। এমনকি খালের পানি দিয়ে কৃষি ও বিভিন্ন মৎস্য প্রকল্পে মাছের চাষাবাদ হত। গত কয়েক বছর ধরে পলি জমে খালটির পটিয়ার ভাটিখাইন-বড়লিয়া এবং ঠেগরপুঁনির কেরিঞ্জা এলাকার প্রায় এক কিলোমিটার ভরাট হয়ে ফসলি জমিতে পরিণত হয়েছে। এতে এ অঞ্চলের কৃষক, মৎস্যচাষি ও বিভিন্ন শিল্প কারখানা হুমকির মুখে পড়ে। বর্তমানে খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় পটিয়ার ইন্দ্রপুল শিল্পাঞ্চলের অর্ধশতাধিক লবণ শোধনাগার বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

২০০৯ সালে তৎকালীন সরকার চাঁনখালী খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেয়। এতে স্থানীয় জনসাধারণ অবৈধ দখলকৃত খালের অংশ ছেড়ে দিয়ে এর গতিপ্রবাহ পুনরায় ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতা করে। বর্তমানে খালটি আবারও ভরাট হয়ে যাওয়ায় গতিপ্রবাহ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এমনকি এখানে নৌ-চলাচলও বন্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে ইন্দ্রপুল শিল্পাঞ্চলের অর্ধ শতাধিক লবণ কারখানায় চকরিয়া, কুতুবদিয়া ও মহেশখালী থেকে আসা লবণের কাঁচামাল বোঝাই নৌকাগুলো সহজে প্রবেশ করতে পারছে না।

লবণ কারখানার মালিকরা জানান, নৌকাগুলো বর্তমানে বাধ্য হয়ে কর্ণফুলী নদী হয়ে বোয়ালখালী খাল বেয়ে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে ইন্দ্রপুল আসছে। এতে বাড়ছে লবণের কাঁচামাল পরিবহন ব্যয়। যার প্রভাব পড়ছে লবণ উৎপাদনে। কারণ সারা বাংলাদেশ মোট লবণের চাহিদার ৩৮ ভাগ জোগান দেওয়া হয় পটিয়া ইন্দ্রপুল লবণ শিল্পাঞ্চল থেকে। বর্তমানে লবণের পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এখানে উৎপাদিত লবণের দাম বৃদ্ধি করতে মিল মালিকরা বাধ্য হচ্ছেন।

ইসলামাবাদ সল্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়াদুিচ্ছমদ হেলাল বলেন, ‘খাল খননের পর প্রায় ১২ বছর পার হয়েছে। কিন্তু পুনরায় খনন না হওয়ায় এটি আবারও ভরাট হয়ে পড়েছে। ফলে এখানে কোনো নৌকা চলাচল করতে পারছে না।’ তিনি চাঁনখালী খাল খননের জন্য পটিয়ার সংসদ সদস্য হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর সুদৃষ্টি কামনা করেন।

কারখানার মালিক মোহাম্মদ আলী, নাজিম উদ্দিন ও মোহাম্মদ ফারুক বলেন, ইন্দ্রপুল শিল্প এলাকায় নানাভাবে ৫ হাজার শ্রমিক জীবন-জীবিকা নির্বাহ করেন। বর্তমানে কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হওয়ায় তাঁদের জীবন-জীবিকা যেমন হুমকির মুখে পড়েছে, তেমনি আমরা লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করে ঋণখেলাপিতে পরিণত হওয়ার প্রহর গুনছি।

পটিয়া লবণ মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কমিশনার ফজলুল হক বলেন, ‘আমরা অনেক চেষ্টা তদবিরের মাধ্যমে ২০০৯ সালে খাল খননের প্রচেষ্টা নিয়েছিলাম। সরকার আমাদের আহ্বানে তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা পাওয়ায় সাড়া দিয়েছিল। খালের বন্ধ হওয়া গতিপ্রবাহ সেই সময় খননের মাধ্যমে ফিরে আসলেও আবার খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় আমরা সমস্যায় পড়েছি।’

পটিয়া ইন্দ্রপুল লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি ও পৌর মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশীদ বলেন, ‘খালটি খনন করা না হলে এটি আবারও ধানি জমিতে পরিণত হবে।’

জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পটিয়ার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শওকত ইবনে সাহিদ বলেন, ‘পটিয়ার শ্রীমতি খালের বালু সব সময় নিচের দিকে নেমে আসায় চাঁনখালী খালের ভাটিখাইনের ঠেগরপুঁনি এলাকায় কেরিঞ্জা খালের মুখে বর্তমানে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা ভরাট হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। আশা করি, তারা এ ব্যাপারে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিলে খালটি খননে আর বাধা থাকবে না।’

মন্তব্য