kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

সন্দ্বীপে সূর্যমুখী চাষে কৃষকের হাসি

রহিম মোহাম্মদ, সন্দ্বীপ (চট্টগ্রাম)   

১৮ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সন্দ্বীপে সূর্যমুখী চাষে কৃষকের হাসি

সন্দ্বীপে এই প্রথম ছয় কৃষক সূর্যমুখী চাষ করেছেন। ছবি : কালের কণ্ঠ

সন্দ্বীপে পরিবেশবান্ধব ও জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর কথা বিবেচনা করে লবণ ও দুর্যোগ সহনশীল জাতের ব্যতিক্রম কিছু ফসল চাষাবাদে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসডিআইর রি-কল প্রকল্পের উদ্যোগে কৃষি বিভাগের সমন্বয়ে এসব চাষে কৃষকদের আগ্রহী করে তুলতে ইতোমধ্যে কয়েকটি কৃষিপণ্যের প্রদর্শনী চাষ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে জার্মান ঘাস চাষ, ভুট্টা চাষ, সূর্যমুখী ফুলের প্রদর্শনী চাষ করে কৃষক ও নতুন উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় এবার প্রথমবারের মতো ছয়জন কৃষককে সূর্যমুখী চাষ প্রদর্শনীর জন্য অর্থ সহায়তা করেছে সংস্থাটি। আর কৃষকরা আবাদ করে তাতে সফলতার মুখ দেখছেন। এবার সূর্যমুখীর বাম্পার ফলন এবং এর সুদৃশ্য ফুল দেখে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। উত্সুক জনতার কাছে প্রদর্শনী প্লটগুলো রূপান্তর হয়েছে বিনোদন কেন্দ্রে। পথিক থমকে দাঁড়াচ্ছেন নয়নাভিরাম এ দৃশ্য দেখে।

রিকল প্রজেক্টের প্রকল্প সমন্বয়কারী অতুল কৃষ্ণ মজুমদার বলেন, ‘সূর্যমুখীর ফলন ভালো হওয়ায় এবং অন্য ফসলের চেয়ে সূর্যমুখীর চাষ সহজলভ্য ও উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় চাষিদের মাঝে আগ্রহ বাড়বে বলে আমাদের বিশ্বাস।’

উপজেলা কৃষি সমপ্রসারণ কর্মকর্তা আব্দুর রউফ বলেন, ‘ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সূর্যমুখী আবাদ ও তোলার মৌসুম। সন্দ্বীপে রিকল প্রজেক্টের তত্ত্বাবধানে এটির চাষাবাদ শুরু হয়েছে বলে তারা প্রশংসার দাবি রাখে। তবে সন্দ্বীপে তেলের ঘানি না থাকায় এর বাজার তৈরি করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। এ জন্য নোয়াখালীর ব্যবসায়ীদের সাথে সংযোগ স্থাপন করে দিতে পারলে এটি একটি ভালো ও লাভজনক কৃষি খাতে রূপান্তরিত হবে।’

তিনি জানান, দেশি প্রজাতির সূর্যমুখী থেকে হেক্টরপ্রতি ৪০০ কেজি ও হাইব্রিড প্রজাতিতে হেক্টরপ্রতি ৫০০ কেজি কোলেস্টরেলমুক্ত তেল উৎপাদন সম্ভব। যা অন্য তেলজাতীয় ফসলের চেয়ে বহুগুণ পুষ্টিমান সমৃদ্ধ।

রি-কল প্রজেক্টের কর্মকর্তা বাদল রায় বলেন, ‘আমরা এটির বাজারজাতকরণের জন্য নোয়াখালীর ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। উৎপাদন বেশি হলে তারা সন্দ্বীপে এসে কেনার সন্মতি দিয়েছেন’। তিনি জানান,  দ্বীপে এর ব্যবহার না থাকলেও বাইরের বাজারে প্রতিকেজি সূর্যমুখী তেল ২৮০ টাকা দামে বিক্রি করা যায়। আর সরাসরি ঘানি থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত লিটার বিক্রি হয়। সূর্যমুখী তেল ছাড়াও খৈল দিয়ে মাছের খাবার তৈরি এবং গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

সরেজমিনে সন্দ্বীপের আজিমপুর, মুছাপুর ও কালাপানিয়া ইউনিয়নের প্রদর্শনী প্লটগুলো ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ ফসলের ক্ষেতে সূর্যমুখীর সমারোহ। হিমেল হাওয়ায় মাঠে মাঠে সবুজের বিছানায় দোল খাচ্ছে হলুদ সূর্যমুখী। প্রতিটি ফুলের সঙ্গে জড়িয়ে আছে কৃষকের হাসি। কেননা আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সূর্যমুখীর বাম্পার ফলন হয়েছে। তাই বাজারজাত করতে পারলে কৃষকদের লাভবান হওয়ার আশা করছেন তারা।

আজিমপুরের কৃষক মাঈন উদ্দীন বলেন, ‘আমার জমিনে ফুল ফোটার পর থেকে প্রতিদিন শতাধিক নারী-পুরুষ দেখতে আসছেন, ছবি তোলে আমার কাজের প্রশংসা করছেন’। তিনি আরো বলেন, ‘অন্য ফলের তুলনায় সূর্যমুখীর উৎপাদন অনেক সহজ, পোকা-মাকড়ের কোনো আক্রমণ নেই।’

আজিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ বলেন, ‘মাঈন উদ্দীন রাস্তা সংলগ্ন জমিতে এ ফসলের চাষ করে  প্রাকৃতিক শোভাবর্ধন করেছেন। পথিকরা আসা যাওয়ার সময় মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন।’

তিনি সূর্যমুখী চাষকে সন্দ্বীপের কৃষি বিভাগের নতুন সম্ভাবনা বলে মনে করছেন।

এসডিআই কর্তৃক বিনা মূল্যে প্রদত্ত আজিমপুর ইউনিয়নের মাঈন উদ্দীন (১) ৩০ শতাংশ, মাঈন উদ্দীন (২) ২০ শতাংশ, মুছাপুর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল কাসেম ২৮ শতাংশ, রহমান ৪০ শতাংশ, দিদার ২৫ শতাংশ ও  কালাপানিয়ার জসিম ৩০ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখী চাষ করে সফলতার হাতছানিতে মহাখুশি।

মন্তব্য