kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা

ঝুঁকিপূর্ণ ১৭ পাহাড়ের বসতি এক মাসের মধ্যে সরানোর নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৭ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঝুঁকিপূর্ণ ১৭ পাহাড়ের বসতি এক মাসের মধ্যে সরানোর নির্দেশ

চট্টগ্রামের ঝুঁকিপূর্ণ ১৭ পাহাড়ে বসবাসকারীদের আগামী এক মাসের মধ্যে সরিয়ে নিতে মালিকদের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। একই সঙ্গে এসব পাহাড়ে বসবাসরতদের অবৈধ গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ ১৫ দিনের মধ্যে বিচ্ছিন্ন করা না হলে সেবা সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার হুমকিও দেওয়া হয়। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির ১৯তম সভায় এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বিভাগীয় কমিশনার ও পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে সভায় ৩০ এপ্রিলের মধ্যে ১০ ব্যক্তি ও ৭টি সরকারি মালিকানাধীন পাহাড়ে বিদ্যুৎ, গ্যাস এবং পানিসহ সেবা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং ১৫ মে এর মধ্যে সব ধরনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাস করা ৮৩৫ পরিবারবারকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

সভার শুরুতে পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দেলোয়ার হোসেন জানান, চট্টগ্রামে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি মালিকানাধীন মিলিয়ে ১৭টি পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ৮৩৫টি পরিবার বসবাস করছে। এর মধ্যে ৭টি সরকারি পাহাড়ে ৩০৪ পরিবার এবং ১০টি বেসরকারি পাহাড়ে ৫৩১ পরিবার বসবাস করছে। এসব পাহাড়ের মধ্যে ১০টি ব্যক্তি মালিকানাধীন এবং বাকি সাতটির মালিক সিটি করপোরেশন, রেলওয়ে, চট্টগ্রাম ওয়াসা, গণপূর্ত ও জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ।

সভার সভাপতি বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নান বলেন, ‘আগামী ১৫ মের মধ্যে এসব পাহাড় অবৈধ দখলমুক্ত করতে হবে। সরকারি যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে তাদের নিজ উদ্যোগেই পাহাড়কে অবৈধ দখলমুক্ত করতে হবে। এ ছাড়া ব্যক্তি মালিকানাধীন পাহাড়গুলোকে তাদের অবৈধ বসতি সরিয়ে নিতে চিঠি দেওয়া হবে।’

সভায় ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে অবৈধ সংযোগ বিছিন্ন না করলে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি লিমিটেড, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং চট্টগ্রাম ওয়াসার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন। তিনি বলেন, ‘ইউটিলিটি সার্ভিস প্রোভাইডার (কেজিডিসিএল-পিডিবি-ওয়াসা) যারা আছে, তাদের কিন্তু এখন থেকেই কাজ শুরু করতে আমরা চিঠি দিয়েছি। তারা যদি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নের কাজ শুরু না করে, এসব পাহাড়ে যদি দুর্ঘটনায় কারও প্রাণহানি ঘটে-তাহলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে আমি বাদি হয়ে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করব।’

তিনি আরো বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ ১৭ পাহাড়ের মধ্যে ১০টি ব্যক্তি মালিকানাধীন। দুর্যোগকালীন সময় ছাড়া এসব পাহাড়ে জেলা প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে পারে না। তাই ব্যক্তি মালিকানাধীন পাহাড়গুলো রক্ষণাবেক্ষণের, সেখানে অবৈধ স্থাপনা সরানোর দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্টদের। মালিকরা যদি দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন না করেন তাঁদের বিরুদ্ধেও মামলা করা হবে।’

উচ্ছেদের পর সংশ্লিষ্টদের পুনর্বাসন প্রসঙ্গে মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘এতোগুলো পরিবারকে শহরের মধ্যে ঘর বানিয়ে পুনর্বাসন সম্ভব নয়। এভাবে করতে থাকলে অন্যরাও লোভে পড়ে এখানে চলে আসবে। গৃহহীনদের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। দেশের একটি মানুষও যাতে গৃহহীন না থাকে সে জন্য একটি বাড়ি, একটি খামার, গুচ্ছগ্রামসহ নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এখানে যাঁরা উচ্ছেদ হবেন তাঁরা এসব প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারেন।’

মন্তব্য