kalerkantho

সোমবার । ২০ মে ২০১৯। ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৪ রমজান ১৪৪০

ঘটনার সত্যতা না পাওয়া পর্যন্ত পুলিশ আসামি ধরতে বাধ্য নয় : ওসি

বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

১৬ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ঘটনার সত্যতা না পাওয়া পর্যন্ত পুলিশ আসামি ধরতে বাধ্য নয় : ওসি

মামলা হলেও ঘটনার সত্যতা না পাওয়া পর্যন্ত পুলিশ আসামি ধরতে বাধ্য নয় বলে জানিয়েছেন বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইরুল ইসলাম। সোমবার বোয়ালখালীতে গৃহবধূ ধর্ষণ মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে কালের কণ্ঠের কাছে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

এদিকে গৃহবধূ ধর্ষণ মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরলেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার না করে বাদীর পরিবারকে বেশি বাড়াবাড়ি না করতে বলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গৃহবধূর পরিবার জানিয়েছে, গত ১২ এপ্রিল নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ধর্ষিতা বাদী হয়ে মৌলানা কাজী আবদুল জলিলকে প্রধান আসামি করে বোয়ালখালী থানায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। আসামি আবদুল জলিল ও তাঁর পরিবার অত্যন্ত প্রভাবশালী। পুলিশ, রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধিসহ এলাকার ক্ষমতাশালী অনেকে জলিলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ফলে মামলা দায়েরের পর থেকে আসামিরা এলাকায় অবস্থান করে গৃহবধূর পরিবারকে নানাভাবে হয়রানি করছেন। বিষয়টি থানা পুলিকে জানানো হলে পুলিশ উল্টো বাদীর পরিবারকে বেশি বাড়াবাড়ি না করার জন্য বলেছে।

উপজেলার পোপাদিয়া ইউনিয়নের আকুবদণ্ডী গ্রামের শরীয়ত উল্লাহর ছেলে কাজী আবদুল জলিল (৩৫)। তিনি পোপাদিয়া ইউনিয়নের নিকাহ্ রেজিস্ট্রার ও একটি মসজিদের খতিব। এ ছাড়া তাঁদের টাইলস ও স্যানিটেশনের ব্যবসা রয়েছে।

ওই গৃহবধূর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২৬ মে উপজেলার পোপাদিয়া ইউনিয়নের আকুবদণ্ডী গ্রামের আবু তাহেরের সঙ্গে উক্ত গৃহবধূর বিয়ে হয়। বিয়ের দিন প্রবাসী তাহের একই গ্রামের তাঁর ভাগ্নে আবদুল জলিলের বাড়িতে নিয়ে যান। এর আটদিনের মাথায় আবু তাহের বিদেশে পাড়ি জমান। ২০১৮ সালের ১০ জুন জলিল রাত ১১টার দিকে ওই গৃহবধূকে প্রথম ধর্ষণ করেন। এরপর দফায় দফায় বিভিন্ন সময়ে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন করে আসছিলেন তিনি।

বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইরুল ইসলাম বলেন, ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় মামলা হয়েছে। কিন্তু মামলা হলেও ঘটনার সত্যতা না পাওয়া পর্যন্ত পুলিশ কোনো আসামি গ্রেপ্তার করবে না। করতে বাধ্যও নয়। ওই গৃহবধূকে পর্যাপ্ত আলামত দিয়ে প্রমাণ করতে হবে ঘটনা। তাই তদন্ত চলছে।’

মন্তব্য