kalerkantho

সীতাকুণ্ডে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ১৭ জন

সৌমিত্র চক্রবর্তী, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)   

১৮ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সীতাকুণ্ডে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ১৭ জন

নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে চট্টগ্রাম-৪ সীতাকুণ্ড আসনে ততই সরগরম হয়ে উঠছে রাজনৈতিক অঙ্গন। এ নিয়ে চরম টেনশনে আছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ১৭ জন। শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্যে জোটবে মনোনয়ন নামক সোনার হরিণ-এ নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। কৌতূহলের শেষ নেই সাধারণ মানুষেরও। ফলে মাঝে-মধ্যেই কারো কারো মনোনয়ন পেয়ে যাওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ মুখে মুখে। যা উত্তাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম-৪ সংসদীয় আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে এবার ১৭ জন দলীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তাঁরা হলেন বর্তমান এমপি দিদারুল আলম, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম আল মামুন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল বাকের ভূঁইয়া, কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তফা কামাল চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী, হায়দার আলী চৌধুরী, মোহাম্মদ ইমরান, আফচার মিয়া, অধ্যাপক নার্গিস আক্তার, আবুল খায়ের শাহাজাহান, আবিদা আজাদ, আবুল কালাম আজাদ আলেকজান্ডার চৌধুরী, পারভেজ উদ্দিন সান্টু, মহিউদ্দিন আহমেদ মঞ্জু, রতেন্দ্র ভট্টাচার্য, বদিউল আলম, নেচার উদ্দিন আহমেদ প্রকাশ প্রফেসর মঞ্জু। যদিও এসব প্রার্থীর মধ্যে কয়েকজন ছাড়া অধিকাংশ এলাকাবাসীর কাছে অচেনা। ফলে আসন্ন নির্বাচন ও প্রার্থীদের নিয়ে সর্বত্র চলছে তুমুল আলোচনা। আর এলাকাবাসীর এ আলোচনা ও কৌতূহলের সুযোগ নিয়ে একটি পক্ষ শুরু করেছে নানান অপপ্রচার। বিশেষত সামাজিক মাধ্যমে নানা লেখা ও আগাম মনোনয়নের বানোয়াট বার্তা প্রচার হচ্ছে। যা সর্বত্র বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছে। এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি মন্তব্যও পাওয়া যাচ্ছে। এসব কারণে এলাকাবাসী বিভ্রান্ত হচ্ছে এবং প্রকৃতপক্ষে কে মনোনয়ন পাচ্ছেন তা জানতে চেয়ে অনেকে সাংবাদিকদের কাছে ফোন করছেন। তবে প্রার্থীতা নিয়ে এলাকায় নানান গুজব ভাসলেও প্রকৃতপক্ষে কোনো প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে এখনো শতভাগ নিশ্চিত নন বলে জানিয়েছেন। কয়েকজন প্রার্থীর সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য দিদারুল আলম বলেন, ‘কাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে তা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া আর কেউই জানেন না। এ নিয়ে যেসব মন্তব্য বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ হচ্ছে তা ঠিক নয়, বিভ্রান্তিকর।’

তিনি বলেন, ‘আমি বিগত দিনে এলাকায় যেভাবে কাজ করেছি তাতে মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী হতেই পারি। এর পরও এসব কিছু বিবেচনা করবে দলের হাইকমান্ড। আমি শতভাগ নিশ্চিত একথা বলতে পারব না। তবে যিনিই নৌকার মনোনয়ন পাবেন তাঁকে জিতিয়ে আনতে হবে।’

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উত্তর জেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি এস এম আল মামুন বলেন, ‘উপজেলা চেয়ারম্যানদের আর মনোনয়ন দেওয়া হবে না বলে জোর প্রচার চলছে। দলীয় হাইকমান্ড কিন্তু একজন উপজেলা চেয়ারম্যানকেও মনোনয়ন দেওয়া হবে না এমন কথা বলেনি। বরং যেখানে দরকার সেখানে উপজেলা চেয়ারম্যান বা অন্য পদের কাউকে ডেকে নেওয়া হবে বলে হাইকমান্ড পরিষ্কার করে দিয়েছে। এর পরও সম্মান দেওয়ার মালিক উপরওয়ালা। কে মনোনয়ন পাবে সেটা বড় কথা নয়, বড় কথা হল যেকোনো মূল্যে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করে আবারও জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনতে হবে।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের দীর্ঘ সময়ের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল বাকের ভূঁইয়া বলেন, ‘আমি ২৫ বছর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থেকে তৃণমূল নেতাদের সাথে কাজ করে যাচ্ছি। এবার নেত্রী প্রকৃত ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করবেন এমন বিশ্বাস আমার। অতীতেও দলীয় হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের বাইরে যাইনি এবারও যাব না। তাঁরা যে নির্দেশনা দেবেন তা মেনেই নৌকাকে বিজয়ী করতে কাজ করতে চাই।’

এদিকে ১৭ জন আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র নিলেও জেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন দুজন। তাঁরা হলেন দিদারুল আলম ও আব্দুল্লাহ আল বাকের ভূঁইয়া। তবে অন্যরা পর্যায়ক্রমে সংগ্রহ করবেন বলে জানা গেছে।

মন্তব্য