kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটে সরঞ্জাম নেই

এস এম রানা, চট্টগ্রাম   

১১ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটে সরঞ্জাম নেই

সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জঙ্গিরা নাশকতামূলক তৎপরতা চালাতে পারে-এমন আশঙ্কা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আর চট্টগ্রাম অঞ্চলে নাশকতার সময় বোমা সন্দেহ হলে ডাক পড়ে নগর পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের। অতীতে এ ইউনিট বোমা নিষ্ক্রিয়করণের দায়িত্বপালন করলেও এখন সেটা কঠিন হয়ে পড়েছে। অগ্নিকাণ্ডে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের সরঞ্জাম পুড়ে যাওয়ার পর নতুন করে সরঞ্জাম পাওয়া যায়নি। ফলে জঙ্গি তৎপরতা বা অন্য যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে বোমা পাওয়া গেলে তা দ্রুত নিষ্ক্রিয় করা কঠিন হয়ে পড়বে।

চট্টগ্রাম পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের সদস্যদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, গত ২৩ জুলাই মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের সময় বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের মূল্যবান সরঞ্জাম পুড়ে যায়। এর পর নতুন করে এখনো সরঞ্জাম পাওয়া যায়নি। ফলে এই ইউনিটের সদস্যরা এখন বিপাকে পড়েছেন। সর্বশেষ ৩ নভেম্বর রাতে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রশিবির কার্যালয়ে বোমার সন্ধান পায় পুলিশ। বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়ার পর পুলিশ যখন নিশ্চিত হয়, ওই কার্যালয়ে আরো বিস্ফোরক আছে, তখনই ডাক পড়ে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের। পরে পরিদর্শক আফতাব হোসেন ও রাজেস বড়ুয়ার নেতৃত্বাধীন টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে ককটেল জব্দ করে। কিন্তু বড় ধরনের বোমা পাওয়া গেলে এই টিমের দ্বারা ওই বোমা নিষ্ক্রিয়করণ করা যাবে না বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

নগর পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ জুলাই অগ্নিকাণ্ডের পর নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগমের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি করেন পুলিশ কমিশনার। তদন্ত কমিটিতে ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুত্সুর্দীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। ওই কমিটি সরেজমিন পরিদর্শন করে একটি প্রতিবেদন দাখিল করে। ওই প্রতিবেদনে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের সরঞ্জাম পুড়ে যাওয়ার বিস্তারিত বর্ণনা এবং ভবিষ্যতে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের জন্য সরঞ্জামের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে, ইন্টারনেটের রাউডারে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট হওয়ায় অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর নগর পুলিশের কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান ঢাকায় পুলিশ সদর দপ্তরে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের জন্য সরঞ্জাম চেয়ে একটি প্রতিবেদন পাঠান। কিন্তু নভেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত পুলিশ সদর দপ্তর নতুন করে সরঞ্জাম বরাদ্দ দেয়নি।

বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রায় সাত বছর ধরে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট কাজ করছে। এ সময়ের মধ্যে কর্ণফুলী থানা, হাটহাজারী, সীতাকুণ্ড ও মিরসরাই থানা এলাকায় বোমা নিষ্ক্রিয়করণের কাজ করেছে দলটি। চট্টগ্রাম মহানগর ছাড়াও জেলার যে থানায় ডাক পড়ে, সেখানেই ছুটে যেতে হয় দলটিকে। এই দলের কর্মরত সদস্যরা আমেরিকা গিয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণের সময় ব্যবহূত পোশাকগুলো কর্মকর্তাদের দিয়ে দেওয়া হয়। বাংলাদেশে একবার ও আমেরিকায় তিন দফা প্রশিক্ষণের সময় প্রাপ্ত সব সরঞ্জামই পুড়ে গেছে অগ্নিকাণ্ডে। ফলে বোমা নিষ্ক্রিয়করণের কাজে সরঞ্জাম সংকটে পড়েছে সিএমপি।

বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের পরিদর্শক আফতাব হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নাশকতামূলক তৎপরতায় বোমা পাওয়া গেলে সেখানে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটকে ডাকা হয়। কিন্তু অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সরঞ্জাম পুড়ে যাওয়ায় বোমা নিষ্ক্রিয়করণ কঠিন হবে। ঢাকা থেকে টিম ডাকা ছাড়া উপায় থাকবে না। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে সরঞ্জাম পাওয়ার জন্য কমিশনার স্যার তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে শুনেছি।’

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট, সোয়াত ও কাউন্টার টেরিরিজম ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের সরঞ্জাম পুড়ে যাওয়ার পর নতুন করে সরঞ্জাম পাওয়ার জন্য নগর পুলিশ কমিশনার জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি পুলিশ সদর দপ্তরে বরাদ্দপত্র পাঠিয়েছেন। পুলিশ সদর দপ্তরে বরাদ্দ প্রক্রিয়া চলছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুত সময়ের মধ্যেই চট্টগ্রামের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট নতুন সরঞ্জাম পাবে। তখন আর সংকট থাকবে না।’

মন্তব্য