kalerkantho

ডিসির সেই জমি মেয়রের দখলে

কুমিল্লা (দক্ষিণ) প্রতিনিধি   

২৮ আগস্ট, ২০১৭ ১১:০৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ডিসির সেই জমি মেয়রের দখলে

শেষ রক্ষা হলো না প্রায় ৫০ বছরের পুরনো কুমিল্লার লাকসামের ঐতিহ্যবাহী নতুন দৈনিক কাঁচাবাজার। কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের (ডিসি) মালিকানাধীন ৫৬ শতাংশ জমি লাকসাম পৌরসভার মেয়র মো. আবুল খায়ের দখল করে নিয়েছেন। গত ৭ জুলাই কালের কণ্ঠ বাজারটির দখলচেষ্টা নিয়ে ‘ডিসির জমিতে মেয়রের লোভ’ শিরোনামে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদন প্রকাশের পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। এরপর ২৪৮ জন ব্যবসায়ী বাজার রক্ষায় কুমিল্লা আদালতে একটি মামলা করেন।

বাজারের একাধিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারের ১ নম্বর খাস খতিয়ানে থাকা পৌর শহরে নতুন দৈনিক বাজারে প্রায় ২৫০ জন ব্যবসায়ী আছেন। বাজারটি বৃহত্তর লাকসামের মধ্যে মাছ, মাংস ও তরিতরকারির জন্য প্রসিদ্ধ। বাজারে প্রতিদিনের লেনদেন কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেত। চলতি বছর হঠাৎ এ বাজারটিতে চোখ পড়ে পৌর মেয়রের। এর আগে স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) মো. তাজুল ইসলামের সহযোগিতায় লাকসাম-দৌলতগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের জমি দখল করে একটি অবৈধ মার্কেট নির্মাণ করেন পৌর মেয়র। এরপর নতুন দৈনিক বাজারের ব্যবসায়ীদের ওই মার্কেটে নেওয়ার জন্য চেষ্টা চালাতে থাকেন।

অবৈধভাবে তাঁদের উচ্ছেদ করেন। গত ৩১ জুলাই বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলী আজগরসহ অন্যরা আদালতে একটি মামলা করেন। এ মামলায় পৌর মেয়র, লাকসাম উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও এমপির শ্যালক মহব্বত আলী এবং ডিসিকে বিবাদী করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর অভিযুক্তদের হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলায় ব্যবসায়ীরা উল্লেখ করেছেন, সিএস খতিয়ানমূলে সারাফত উল্লা এ জমির মালিক ছিলেন। তিনি গরুর হাট বসিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পরে পাকিস্তান সরকার ৫৬ শতাংশ জমি খাস খতিয়ানে নিয়ে যায়। ওই জমিতে পরে কাঁচামালের বাজার শুরু হয়। এখন মেয়র সন্ত্রাসী নিয়ে ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করে সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণের পাঁয়তারা করছেন।

গত শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বাজারটির প্রবেশপথ টিনের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে কোনো ব্যবসায়ীকে ঢুকতে দেওয়া হয় না। বাজারের ভেতর ড্রেনের কাজ করা হচ্ছে—দাবি করা হলেও বাস্তবে তা দেখা যায়নি। তবে পাশের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, বাজারটি দখলে রাখতে মাঝেমধ্যে লোক দেখানো ড্রেনের কাজ করা হয়। গত সপ্তাহে টিনের বেড়া দেওয়ার পর ব্যবসায়ীদের জোর করে রেলের অবৈধ মার্কেটে নেওয়া হয়েছে। তবে অনেক ব্যবসায়ী যাননি। ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলী আজগর বলেন, মেয়র, ভাইস চেয়ারম্যান মহব্বত আলী, এমপির এপিএস মনিরুল ইসলাম রতন মিলে আমাদের বাজার থেকে জোর করে উচ্ছেদ করেছেন। টিনের বেড়া দিয়ে বাজার দখল করে বহুতল মার্কেট নির্মাণের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছেন। আমরা মামলা করেছি, প্রশাসনকে বারবার জানিয়েছি; কিন্তু এতে কোনো লাভ হয়নি।

বাজারের তিন ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমাদের সব পুঁজি এই বাজারে বিনিয়োগ করেছি। বিভিন্ন এলাকার খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে লাখ লাখ টাকা বকেয়া। এভাবে উচ্ছেদ করার কারণে ওই টাকা উত্তোলন করা সম্ভব হবে না। এতে আমাদের পথে বসার উপক্রম হয়েছে। ’

তবে বাজারটি দখল করা হয়েছে—এমন অভিযোগ অস্বীকার করেন লাকসাম পৌর মেয়র ও উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মো. আবুল খায়ের। তিনি বলেন, ‘বাজারে ড্রেন ও রাস্তার কাজ চলছে। তাই টিনের বেড়া দেওয়া হয়েছে। আর এমপি ও ইউএনওর সঙ্গে পরামর্শক্রমে নিয়মমাফিক ভবন নির্মাণ করা হবে। ’ লাকসাম ইউএনও মো. রফিকুল হক বলেন, ‘সেখানে ড্রেনের কাজ করা হচ্ছে। সরকারি অনুমোদন ছাড়া ওই জায়গায় ভবন নির্মাণ করা যাবে না। ’ কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমি জেনেছি, সেখানে ড্রেনের কাজ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এসি ল্যান্ড এবং ইউএনওকে বলেছি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা