kalerkantho

শনিবার  । ১৯ অক্টোবর ২০১৯। ৩ কাতির্ক ১৪২৬। ১৯ সফর ১৪৪১                     

নিয়োগ হবে কাজি, চলছে ধাপ্পাবাজি

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি   

৪ আগস্ট, ২০১৭ ১১:২৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিয়োগ হবে কাজি, চলছে ধাপ্পাবাজি

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার সদর ইউনিয়নে নিকাহ রেজিস্ট্রার বা কাজি নিয়োগে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম হওয়া প্রার্থীকে উপেক্ষা করে তৃতীয় স্থান অধিকার করা প্রার্থীকে প্যানেলভুক্ত করে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ ক্ষেত্রে ওই প্রার্থীর কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম হওয়া ব্যক্তি গত বুধবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রৌমারী সদর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার বা কাজি মৃত্যুবরণ করার পর ওই পদে নিয়োগ আহ্বান করা হয়। ১৩ জুলাই উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে কাজি নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা হয়। ওই পরীক্ষায় প্রথম হন এমদাদুল হক। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করেন যথাক্রমে আবু জাফর ও মনিরুল ইসলাম। নিয়ম অনুসারে নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগ প্যানেল প্রস্তুতি কমিটি পরীক্ষায় প্রথম তিনজনের নাম (প্যানেল) উল্লেখ করে সেই তালিকা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। মন্ত্রণালয় ওই তিনজনের মধ্যে প্রথম হওয়া ব্যক্তিকে নিয়োগ দেবে। কিন্তু এখানে তা করা হয়নি। পরীক্ষায় প্রথম হওয়া প্রার্থীর নাম প্যানেলভুক্তই করা হয়নি।

পরীক্ষায় প্রথম হওয়া এমদাদুল হকের অভিযোগ, পরীক্ষায় আমি ফার্স্ট হয়েছি। নিয়ম অনুসারে আমাকেই নিয়োগ দেওয়ার কথা। কিন্তু নিয়োগ কমিটি তা না করে ১০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে তৃতীয় হওয়া প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করছে। নিয়ম অনুসারে যাকে কাজি নিয়োগ দেওয়া হবে, তাকে সেই ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। কিন্তু মনিরুল ইসলাম হলেন শৌলমারী ইউনিয়নের বাসিন্দা। আমি বিষয়টির তদন্ত দাবি করছি। নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগ প্যানেল প্রস্তুতি কমিটির সদস্যসচিব উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার এইচ এম মিরাজ সৌরভ বলেন, নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে এমদাদুল হক এটা সত্য। এরপর কি হয়েছে আমাকে জানানো হয়নি।

নিয়োগ কমিটির সভাপতি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রেসিডিয়াম সদস্য রুহুল আমিন কাজি নিয়োগে ঘুষ নেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, মনিরুল ইসলামকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে চাপ রয়েছে। তাদের কথা না শুনলে ঝামেলা হতে পারে। এ কারণে তৃতীয় স্থান অর্জনকারী প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য প্যানেলভুক্ত করা হয়েছে। তবে রৌমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য জাকির হোসেন কাজি নিয়োগে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোনো চাপ দেওয়া হয়নি বলে জানান। দলের কোনো নেতাকর্মী তার পছন্দের প্রার্থীকে কাজি নিয়োগে বর্তমান সংসদ সদস্যের কাছে তদবির করে থাকলে সেটা ওই নেতা বা কর্মীর নিজস্ব বিষয়। এ জন্য দলের ওপর দোষ চাপানো ঠিক নয়।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা