kalerkantho

রবিবার । ২১ জুলাই ২০১৯। ৬ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৭ জিলকদ ১৪৪০

গ্রন্থমেলায়

ফরহাদ হোসেনের '২৫ সাহসী নারী উদ্যোক্তার গল্প'র মোড়ক উন্মোচন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:৫০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফরহাদ হোসেনের '২৫ সাহসী নারী উদ্যোক্তার গল্প'র মোড়ক উন্মোচন

ছবি: কালের কণ্ঠ

অমর একুশে গ্রন্থমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ‍্যানে সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টায় ফরহাদ হোসেনের লেখা ২৫ সাহসী নারী উদ্যোক্তার গল্প বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন ১০ জাতীয় সংসদের সদস্য সোহন আরা লূত্ফুন ডালিয়া (এমপি) এবং সাবেক সংসদ সদস্য অপু উকিল। এ ছাড়াও লেখক এবং গল্পের সাহসী নারীরা উপস্থিত ছিলেন। 

ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্প খাতের ২৫ সাহসী নারী উদ্যোক্তা নিয়ে সংকলন করা হয়েছে এই বইটি। উদ্যোক্তা হয়ে উঠার গল্পগুলো ২০১৭ থেকে ২০১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের জাতীয় দৈনিক ‘কালের কণ্ঠে’ প্রকাশ করা হয়। আমাদের সমাজে নারীদের উদ্যোক্তা হিসেবে এগিয়ে আসাটা খুবই ইতিবাচক। এসব নারী উদ্যোক্তারা তাদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উদ্যোগের মাধ্যমে যেমন নিজের আয়ের পথ তৈরি করেছে, তেমনি আরো অনেক নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগও করে দিচ্ছে। যার ফলে দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র উদ্যোগ বা ক্ষুদ্র শিল্পও বেশ জোড়ালো ভূমিকা রাখছে। আমাদের সমাজে বা রাষ্ট্রে একজন নারীর উদ্যোক্তা হয়ে উঠা সহজ কাজ নয়। তাদেরকে হাজারো বাধা পার হতে হয় শুধু নারী বলে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে এর পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। 

সরকারি-বেসরকারি চাকরিসহ বিভিন্ন খাতে নারীকে এখন অনেক সাহসী পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়। তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো নারীর উদ্যোক্তা হওয়ার চেষ্টা। এখন অনেক নারীই ঘরে বসেই নিজ উদ্যোগে নানামুখী উৎপাদনশীল কাজ করছেন। পরিবার ও সমাজের ধর্মীয় গোড়ামী ও অনুশাসনের বাহিরে এসে নিজ নিজ ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তাতেও নারীকে নানামুখী সমস্যায় পড়তে হয়। এর মধ্যে অন্যতম নারীর কাজের দক্ষতা এবং অর্থায়ন। বর্তমান সময়ে দেখা যায় সরকার নারীর দক্ষতা উন্নয়নে দেশে প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, কারিগরী শিক্ষা বোর্ড, এসএমই ফাউন্ডেশন, আইসিটি বিভাগ ও বিসিকসহ আরো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নারীর ক্ষুদ্র উদ্যোগ পরিচালনার দক্ষতা বৃদ্ধিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। তাছাড়া ব্যক্তি উদ্যোগেও অনেক নারী ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। এতে অনেক নারী প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বাবলম্বী হচ্ছে। অন্যদিকে নারীর অর্থায়নের দিকগুলো বিবেচনা করে সরকারের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর প্রশিক্ষণ শেষে বিনা জামানতে ঋণও দিয়ে থাকে। এসএমই ফাউন্ডেশন, বিসিকসহ অন্যান্য প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোও প্রশিক্ষণের পর বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ পেতে সহায়তা করে থাকে। 
আরো আশার কথা হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসারে দেশের প্রায় সকল সরকারি, বেসরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নারীর জন্য বিনা জামানতে ঋণ দেওয়ার বিশেষ সেল খুলেছে। যাতে ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্পোদ্যাক্তারা খুব সহজে ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু ও সম্প্রসারণ করতে পারে। সরকার নারীদের উদ্যোক্তা তৈরিতেও নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। সংকলিত ২৫ সাহসী নারী উদ্যোক্তার গল্প বইটিও নারীদের উদ্যোক্তা হিসেবে এগিয়ে আসতে সহায়ক হবে। কারণ বর্তমান সময়ে পড়ালেখা জানা অনেক নারী উদ্যোক্তা হয়ে স্বাধীন ব্যবসা পরিচালনা করতে চায়। কিন্তু তারা নানামুখী বাস্তবতার মুখে সাহস করে উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন করতে পারে না। তারা এই বই থেকে বাছাই ২৫ জনের এগিয়ে আসার রুঢ় বাস্তবতা উপলব্ধি করে শক্তি পাবে, সাহস পাবে। তাদের দেওয়া উপদেশ পাবে। পরামর্শ পাবে। গল্পগুলোর নারীরা বলেছেন ‘নতুন উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন’। যোগাযোগ ও তথ্যের আদান প্রদানও করা যাবে তাদের সঙ্গে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে হাজারো বাধা পেরিয়ে নারীরা এগিয়ে আসুক সেই প্রেরণাই রইল। 

লেখক : ফরহাদ হোসেন। প্রচ্ছদ : দেওয়ান আতিকুর রহমান, প্রকাশক : চন্দন চৌধুরী, প্রকাশনী : বেহুলা বাংলা, স্টল ১২৩, ১২৪। এ ছাড়াও পাওয়া যাবে রকমারী ডটকমে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা