kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

ইমন খানের গানের গল্প

এ বছর ৩০টির বেশি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন ইমন খান। এর মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে প্রায় ২০টি। ঈদে আসবে আরো ১০টি। লিখেছেন আতিফ আতাউর। ছবি তুলেছেন সাইফুল রাজু

২৩ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ইমন খানের গানের গল্প

‘আজো প্রতিরাতে জেগে থাকি তোমার আশায়’—এই এক গানেই বদলে গেছে ইমন খানের জীবন। ২০০৮ সালে প্রকাশিত তাঁর একক অ্যালবাম ‘কেউ বোঝে না মনের ব্যথা’র গান এটি। অথচ গানটির কারণে অ্যালবামের নামটাই ঢাকা পড়ে যায়! সবাই দোকানে গিয়ে বলতেন, ‘আজো প্রতিরাতে জেগে থাকি’ অ্যালবামটি দেন। ইমন বলেন, ‘এটি ছিল আমার পঞ্চম একক অ্যালবাম। আগের অ্যালবামগুলো দিয়ে জন্মস্থান সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, পাবনা, চাঁদপুর, কুমিল্লা, নোয়াখালী প্রভৃতি জেলায় পরিচিতি পেয়েছিলাম। কিন্তু এই অ্যালবামের পর সারা দেশের মানুষ আমাকে চিনেছে।’ তখন ছিল ক্যাসেটের যুগ। শোনা যায়, অ্যালবামটির এতই চাহিদা ছিল যে ট্রাকে করে সারা দেশের দোকানগুলোতে সরবরাহ করতে হয়েছিল। ইমনেরও তখন সুসময়। এর পরই অডিও জগতে নেমে আসে অন্ধকার। পাইরেটেড ক্যাসেট-সিডি, অতঃপর গান চলে যায় মেমোরি কার্ড, ইউটিউবে। অনেক সংগীতশিল্পীর মতো ইমন খানও যেন হারিয়ে যেতে বসেছিলেন। কিন্তু আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। গত বছর ‘ধ্রুব মিউজিক কটেজ’ থেকে প্রকাশিত ‘ভুল মানুষের ঘর’ দিয়ে নতুন করে আলোচনায় আসেন ইমন। এই গান দিয়েই ইউটিউব চ্যানেলটি যাত্রা শুরু করে। গানটির জন্য বড় বড় শিল্পী থেকে শুরু করে সমঝদার শ্রোতাদের কাছেও বাহ্বা পান ইমন। ৮৩ লাখের বেশিবার দেখা হয়েছে গানটির ভিডিও। চলতি বছর বিভিন্ন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩০টি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন ইমন। প্রকাশ পেয়েছে প্রায় ২০টি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—‘একটা মানুষ’, ‘পোড়া বুক’, ‘নিঃস্ব’, ‘বুকে দুঃখের বসবাস’, ‘বিবাদী’, ‘দেউলিয়া’, ‘মরণ রে’ প্রভৃতি। ঈদে প্রকাশের তালিকায় রয়েছে আরো ১০টি। এর মধ্যে আবর্তন মিডিয়া থেকে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর প্রথম ইসলামী গান ‘প্রিয় নবী মোহাম্মদ’। ধ্রুব মিউজিক স্টেশন থেকে আজ আসবে ‘প্রেমের পাগল’। এ ছাড়া আসবে ‘আজো প্রতিরাতে জেগে থাকি ২’, ‘প্রেমের চোখে’, ‘ভালোবাসা এমন কেন হয়’, ‘শ্যামবন্ধু’, ‘মন নিয়ে খেলা’ প্রভৃতি। প্রকাশের এক যুগ পর ‘আজো প্রতিরাতে জেগে থাকি’র সিক্যুয়াল নিয়ে গায়ক বলেন, ‘এটা খুব ঝুঁকিপূর্ণ প্রচেষ্টা। প্রথম গানটির প্রতি শ্রোতারা যে ভালোবাসা দেখিয়েছে তা অতিক্রম করা খুব কঠিন। তার পরও পুরনো স্বাদটা নতুন করে দিতেই এ উদ্যোগ।’

‘আবর্তন মিডিয়া’ ইমনের নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। এই নামে ইউটিউবে চ্যানেল আছে। আছে তাঁর নিজ নামে আরেকটি চ্যানেল। এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘অডিও যুগ শেষ হওয়ার পর সবাই যখন ইউটিউবে যুক্ত হচ্ছিল সেটা বোঝার চেষ্টা করেছি। শ্রোতারা কী ধরনের গান শুনছেন খেয়াল করেছি। যখন দেখলাম আমার পুরনো গান দিয়ে অনেকে ইউটিউবে ভালো ব্যবসা করছে তখন আমিও  যুক্ত হলাম।’

‘আবর্তন’-এর ইউটিউব চ্যানেলে নিজের গানের পাশাপাশি অন্যদেরও গাওয়ার সুযোগ দিচ্ছেন ইমন। অথচ এই ইমনকেই একসময় গান গাওয়ার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়েছে। ‘মানুষের স্বপ্ন, ইচ্ছা এবং চেষ্টা থাকলে তা পূরণ হবেই। অনেক কষ্টে আজকের জায়গায় এসেছি। অনেকের কাছেই নানাভাবে উপকৃত হয়েছি। এবার ফিরিয়ে দেওয়ার পালা।’

ইমনের গানে হাতেখড়ি সিরাজগঞ্জের ধরইল শহীদ বীরেন স্মৃতি সংগীত নিকেতনে। গাইতেন গ্রামের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে। মানুষ শুনে প্রশংসা করত। মনির খানের অন্ধ ভক্ত। তাঁর সঙ্গে দেখা করতে ঢাকায় এসেই শিল্পী হওয়ার পথ খুঁজে পেয়েছিলেন। তাই নিজের নামটাও রাখেন মনির খানের সঙ্গে মিলিয়ে। ২০০৬ সালে ‘আমার ময়না রে’ অ্যালবাম দিয়ে গায়ক হিসেবে অভিষেক। প্রবাসেও বেশ জনপ্রিয় ইমন। কিছুদিন আগে বাহরাইন গিয়েছিলেন শো করতে। যে হোটেলে উঠেছিলেন তার চারপাশে রীতিমতো ভিড় জমে যায়! ‘কিভাবে যেন প্রবাসী ভাইয়েরা জেনে যায় আমি এই হোটেলে উঠেছি। তারপর সবাই এসে জড়ো হতে থাকে। আমার গানে নাকি তারা নিজেদের খুঁজে পান’—বলছিলেন ইমন খান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা