kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

শখের নাট্যকার

সবাই তাঁকে অভিনেতা হিসেবেই চেনে। তিনি কিন্তু নাট্যকারও। এবার ঈদে প্রচারিত হবে ফারুক আহমেদের লেখা নাটক ‘বদরাগী বদরুল’। নাট্যকার সত্তা নিয়ে কথা বলেছেন এই অভিনেতা। লিখেছেন নাবীল অনুসূর্য

২৩ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শখের নাট্যকার

বাসা থেকে অফিস—সর্বত্র রাগত স্বরে ঝাড়ি দিয়ে বেড়ান। সবাই তাঁর ভয়ে তটস্থ। একদিন কল্পনায় দেখতে পান, অফিসের কলিগরা তাঁকে অপহরণ করেছে। আগের দুর্ব্যবহার তাঁকে শতগুণে ফিরিয়ে দিচ্ছে। ঈদের নাটক ‘বদরাগী বদরুল’-এর গল্প এটা। বদরুল চরিত্রে শুধু অভিনয়ই করেননি, চরিত্রটা সৃষ্টিও করেছেন ফারুক আহমেদ। তাঁর নাট্যকার পরিচয়টা কিন্তু বহু পুরনো। অভিনেতা পরিচয়ের আড়ালে নাট্যকার পরিচয়টা সেভাবে আলোচনায় আসেনি। জানালেন নিজেই, “২০০০ সাল থেকেই নাটক লিখছি। উল্লেখযোগ্য একক নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘উচ্চ বংশের পাত্র চাই’, ‘দুই বাসিন্দা’, ‘কালসাপের দংশন’, ‘কাজীর বিয়ে’। একটা ধারাবাহিকও লিখেছিলাম, ‘মেঘেদের সংসার’। এখনো প্রচারিত হয়নি এটি।”

তবে আগে কখনো নিজের নাটকে অভিনয় করেননি। ‘বদরাগী বদরুল’-এ প্রথমবারের মতো অভিনেতা ও নাট্যকার সত্তার মেলবন্ধন ঘটতে যাচ্ছে। বলেন, ‘এবারও অভিনয়ের চিন্তা ছিল না। পরিচালক বললেন বলেই করেছি। সামনে এর সিক্যুয়াল লেখার পরিকল্পনাও আছে।’ নাট্যকার পরিচয়টাকে তিনি পেশা হিসেবে ভাবেন না। বলেন, ‘আমি তো বেশি লিখি না। যখন ইচ্ছা করে, তখন লিখি। বলতে পারেন, শখের নাট্যকার।’

সামনে তাঁর লেখা আরো কিছু নাটক দেখতে পাবে দর্শক। দুটি গল্প লিখে রেখেছেন—‘হাউ মাউ খাউ’ ও ‘অ্যাম্বুলেন্স’। ভেবে রেখেছেন আরেকটি—‘লাশ’। সুযোগ হলেই লিখে ফেলবেন। “এর আগে একক নাটক ‘ডিগবাজি’ পরিচালনা করেছিলাম। এবার নিজের লেখা নাটকও পরিচালনা করার ইচ্ছা। ‘বদরাগী বদরুল’-এর সিক্যুয়াল আর ‘অ্যাম্বুলেন্স’—এ দুটি নিজেই বানাব।”

শখ করে নাটক লিখছেন বটে, তবে তাঁর কাজ তো আসলে অভিনয়। শুরুটা হয়েছিল মঞ্চে, ঢাকা থিয়েটারে। দীর্ঘদিন অভিনয় করেছেন হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গেও। অকপটে স্বীকার করলেন এ দুইয়ের ঋণ, ‘ঢাকা থিয়েটারেই আমার অভিনয়ে হাতেখড়ি। প্রায় ২৫ বছর ধরে দলটির সঙ্গে আছি। অভিনয় করেছি সেলিম আল দীনের ১৫-১৬টি নাটকে। দীর্ঘদিন অভিনয় করেছি হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে। তাঁর নাটকে আমিই বোধ হয় সবচেয়ে বেশি অভিনয় করেছি। প্রতিটি নাটকের আগে রিহার্সাল করাতেন তিনি। হাসির নাটক আর সিরিয়াস নাটকের মেজাজের পার্থক্য তাঁর কাছ থেকেই শিখেছি।’

হুমায়ূন আহমেদের ‘তারা তিনজন’ ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছিল। সেখানে মূল চরিত্রে তাঁর সঙ্গে ছিলেন এজাজ আহমেদ ও স্বাধীন খসরু। সম্প্রতি ফেসবুকে তিনজনের একটি ছবি পোস্ট করে ফারুক লিখেছেন, ‘আবার আমরা তিনজন।’ সে ছবির রহস্য জানালেন নিজেই, “এজাজ সাহেব একটা টিভি চ্যানেলে ৭ মিনিটের নাটক করেন— ‘স্বাস্থ্য মামা’। একটা পর্বে আমরা তিনজন অভিনয় করেছি। ওটার সঙ্গে ‘তারা তিনজন’ নাটকের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে চরিত্রগুলো অনেকটা ওই নাটকের মতোই।”

তাঁর অভিনীত ১২টি ধারাবাহিক প্রচারিত হচ্ছে বিভিন্ন চ্যানেলে—আবু হায়াত মাহমুদের ‘গোল্ডেন ভাই’ ও ‘আম্মা’, অনিমেষ আইচের ‘দ্য গুড দ্য ব্যাড দ্য আগলি’, ‘জ্যোৎসনাময়ী’ ইত্যাদি। ঈদে প্রচারিত হবে ‘চিটার ডট কম’, ‘থ্রি টু ওয়ান জিরো অ্যাকশন’, ‘নটি ফর্টি’, ‘আব্বা উকিল ডাকব?’সহ ১০-১২টি নাটক।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা