kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

।ঈদের ছবি।

আসছেন কাজলা দিদি

ঈদে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ছবি নিয়ে ধারাবাহিক এই আয়োজন। এবারের কিস্তি ‘নোলক’ নিয়ে। নায়িকা ইয়ামিন হক ববি বলেছেন ছবিটি নিয়ে। লিখেছেন মীর রাকিব হাসান

২৩ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আসছেন কাজলা দিদি

গ্রামের প্রভাবশালী বাবার মেয়ে কাজলা। ভীষণ নারীবাদী। পরিবারের সব বিষয় দেখভাল করে। আবার খুব ছেলেমানুষ। ঈদের ছবি ‘নোলক’-এ কাজলারূপে দেখা দেবেন ববি। ছবির পোস্টার আর টিজারে এরই মধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। পুরো ছবি হলে বসে দেখার জন্য তর সইছে না ববির। কারণ ছবিটিকে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী বলছেন অভিনেত্রী, ‘এ পর্যন্ত যত সিনেমা করেছি, এমন চরিত্র আগে কখনো পাইনি। শুটিংয়ের আগে ঘটা করে প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। কথা বলার ঢং বদলাতে হয়েছে। মেকআপ-গেটআপ, অভিনয়— সব কিছুতেই নতুনত্ব আনতে হয়েছে।’

প্রস্তাব পাওয়ার পর থেকেই এ ছবি নিয়ে উচ্ছ্বসিত ববি। মুহূর্ত দেরি না করে লুফে নিয়েছিলেন প্রস্তাব। কেন? সেই ব্যাখ্যাও দিলেন, ‘এটা একটা মৌলিক গল্পের ছবি। সচরাচর মৌলিক গল্পে অভিনয়ের সুযোগ আমাদের খুব একটা হয় না। একটা পারফেক্ট সিনেমার প্রায় সব গুণই উপস্থিত চিত্রনাট্যে। শুধু আমার চরিত্রই নয়, ছবির প্রতিটি চরিত্রে অভিনয় করে দেখানোর জায়গা আছে।’

এই ছবির শুটিংয়ে জীবনে প্রথমবার ঘোড়ার গাড়ি চালিয়েছেন। শুটিং হয়েছিল  ভারতের হায়দরাবাদে। ঘোড়ার গাড়ির সঙ্গে ছিলেন সেখানকার এক প্রশিক্ষক। তিনি জানালেন, ‘বাহুবলী’ ছবিতেও ছিল এই ঘোড়া। একটু পর পর রেস্ট নিতে হয় ঘোড়াটাকে। ওকে বিস্কুট খেতে দিতে হয়। সেই ঘোড়া ববিকে নিয়ে ঢুকে পড়েছিল জঙ্গলে! ববি বলেন, ‘ক্যামেরাম্যানসহ সবাই আমার থেকে বেশ দূরে ছিলেন। দৃশ্যটা এমন, ঘোড়া চালিয়ে ক্যামেরা ক্রস করে সামনে এগিয়ে যাব। সামনে এগিয়ে যেতেই ঘোড়া আমাকে নিয়ে দিল ছুট! একেবারে জঙ্গলের ভেতর। আমি মাথা নিচু করে না রাখলে বিপদ হতে পারত। জঙ্গলের ডালপালার সঙ্গে ধাক্কা লাগতে পারত। একপর্যায়ে ঘোড়াটা নিজেই থেমে গেল। কলাকুশলীদের সবাই ততক্ষণে ছুটে এলো। ঘোড়ার প্রশিক্ষক বললেন, ওর বিস্কুট লাগবে, রেস্ট লাগবে। শুটিংয়ের বাকি সময় এই নবাবি মেজাজের ঘোড়ার মর্জিমতো চলতে হয়েছে আমাদের।’

ছবির নায়ক শাকিব খান। তাঁর সঙ্গে ববির ৫ নম্বর ছবি। এই জুটির আগের ছবিগুলো ব্যবসাসফল। ববি বলেন, ‘এটা যেমন আমার কাছে খুব স্পেশাল ছবি, তেমনি শাকিবেরও। শাকিব তো অনেক ভালো ভালো ছবি করেছেন। তাঁর অনেকগুলোই আমার দেখা। আমি বলব, তাঁর ক্যারিয়ারেরও অন্যতম সেরা ছবি হবে এটি। সবাই বলে, যেকোনো ছবিতে শাকিব মানেই বিশেষ ব্যাপার। কিন্তু এখানে দর্শক শাকিবকে দেখবে না, দেখবে শাওনকে। খুবই ইনোসেন্ট একটা চরিত্র শাওন। পর্দার শাওনকে পছন্দ না করে দর্শকের উপায়ই থাকবে না, এত চমৎকার অভিনয় করেছেন তিনি।’

শাকিবের সঙ্গে আগুনের একটা দৃশ্য আছে। এই দৃশ্য করার অভিজ্ঞতা জীবনেও ভুলবেন না ববি। ‘আগুনের মধ্যে রোমান্স করতে হবে। চারদিকে আগুনের তাপ, এর মধ্যেই আমরা হাসছি, রোমান্স করছি। খুব কঠিনই ছিল। আমাদের বোঝাপড়ার কারণে দৃশ্যটা করা সম্ভব হয়েছিল। আমাকে খুব সাহস দিয়েছিলেন শাকিব।’

প্রচারণায় শাকিবকে এখনো দেখা যায়নি। এ নিয়ে মোটেও চিন্তিত নন নায়িকা। ‘শাকিব কিন্তু বরাবরই প্রচারণা করেন না। শাকিবের বিশ্বাস, তাঁর বিশেষ দর্শকশ্রেণি আছে, যারা শাকিবের ছবি দেখবেই। শাকিবের হোম প্রডাকশনের ছবিও মুক্তি পাবে ঈদে। সেটার প্রতি তাঁর টানটা একটু বেশি থাকবেই, এটা দোষের কিছু না।’

পরিচালক রাশেদ রাহা ও পরিচালক-প্রযোজক সাকিব সনেটের দ্বন্দ্বে অনেক দিন ধরেই আলোচনায় ‘নোলক’। ছবিটির শুটিং শুরু করেছিলেন রাশেদ রাহা, মাঝপথে তাঁকে হটিয়ে পরিচালক বনে গেলেন সাকিব সনেট। ববি শুরু থেকেই সাকিব সনেটের পক্ষে কথা বলছেন। প্রসঙ্গটা তুলতেই বললেন, ‘আমি কারো পক্ষে না, ছবিটার পক্ষে। শুরু থেকে যিনি ছবিটিকে বাঁচিয়ে রেখেছেন, আগলে রেখেছেন, আমি তাঁরই পক্ষে। আমি একা নই। তারিক আনাম খান আঙ্কেল, মৌসুমী আপু, ওমর সানী ভাইয়া, রেবেকা আন্টি, নিমা আন্টি, শহীদুল আলম সাচ্চুদের মতো সিনিয়র শিল্পীও কিন্তু সাকিব সনেটের পক্ষে। কারণ তাঁরাও সত্যিটা জানেন।’

ববির আরো দুটি ছবি মুক্তি পাবে শিগগিরই—‘বেপরোয়া’ ও ‘বৃদ্ধাশ্রম’। জয়দীপ মুখার্জির ভারতীয় ছবি ‘রক্তমুখী নীলা’র অল্প কিছু শুটিং বাকি। কলকাতার আরেকটি ছবি হাতে নেবেন শিগগিরই।

নতুন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সিনেমাজের তিনটি ছবির পাণ্ডুলিপি আছে ববির হাতে। যাচাই-বাছাই করেই সাইন করবেন, জানালেন ‘নোলক’-এর কাজলা দিদি।

মন্তব্য