kalerkantho

রবিবার। ১৬ জুন ২০১৯। ২ আষাঢ় ১৪২৬। ১২ শাওয়াল ১৪৪০

জন উইকের প্রত্যাবর্তন

১৬ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জন উইকের প্রত্যাবর্তন

খাদের কিনারা থেকে জন উইক সিরিজ দিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন কিয়ানু রিভস। সিরিজের তৃতীয় কিস্তি ‘জন উইক : প্যারাবেলাম’ মুক্তির আগে ছবিটি নিয়ে লিখেছেন হাসনাইন মাহমুদ

নব্বইয়ের দশকে হলিউড অ্যাকশন সিনেমার স্বর্ণসময়ে টম ক্রুজ, আরনল্ড শোয়ার্জেনেগারদের রাজত্ব। তবে আরেকজনও অ্যাকশন তারকা হিসেবে খ্যাতি পেয়েছিলেন। তিনি কিয়ানু রিভস। ম্যাট্রিক্স সিরিজের নিও চরিত্র তাঁর খ্যাতি আরো কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। এরপর হঠাৎই পথ হারায় তাঁর ক্যারিয়ার। একের পর এক ফ্লপ ছবি, অনেকেই তাঁর শেষ দেখে ফেলেছিলেন। এ রকমই কঠিন সময়ে ২০১৪ সালে মুক্তি পায় ‘জন উইক’। অনেকেই ভেবেছিলেন, ফ্লপের খাতায় নতুন একটি নাম যুক্ত হতে যাচ্ছে। তবে সবাইকে অবাক করে দিয়ে শুধু বক্স অফিসেই নয়, সমালোচকদের প্রশংসাও পায় অ্যাকশনধর্মী এ চলচ্চিত্র। ২০১৭ সালে ছবিটির সিক্যুয়াল বক্স অফিসে প্রথমটির সাফল্যকেও ছাড়িয়ে যায়। এবার কিয়ানু হাজির হচ্ছেন ‘জন উইক : প্যারাবেলাম’ নিয়ে। ছবিটির পরিচালক চ্যাড স্ট্যাহেলস্কি। সিনেমার নামের ‘প্যারাবেলাম’ শব্দটি এসেছে লাতিন বাগধারা থেকে, যার অর্থ ‘শান্তির জন্য সংঘাত’। গল্পের শুরুতেই দেখা যাবে গুপ্তঘাতক জন উইকের মাথার ওপর ঝুলছে মৃত্যু পরোয়ানা। অন্য পক্ষের গুপ্তঘাতকরা খুঁজে বেড়াচ্ছে তাকে। বেঁচে থাকার এ সংগ্রামে জনের সঙ্গী হয় পুরনো বন্ধু সোফিয়া। যে চরিত্রে অভিনয় করেছেন হ্যালি বেরি। এ ছাড়া চলচ্চিত্রে দেখা যাবে কিয়ানু রিভসের ‘ম্যাট্রিক্স’ সহশিল্পী লরেন্স ফিশবোর্নকে। ছবিতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র জনের পোষা কুকুর। এই সিরিজের বড় অংশ জুড়ে ছিল জনের পোষা কুকুরটি। তবে এবারের পর্ব শুটিংয়ের সময় কুকুর নিয়ে ঘটে এক মজার ঘটনা। মরক্কোতে চিত্রায়ণের সময় কয়েকটা বিড়াল বেশ বিরক্ত করছিল। বিড়ালগুলোকে সরিয়ে দেওয়ার পর শুরু হয় নতুন উৎপাত। শোধ নিতে হাজির হয় হাজারখানেক বিড়াল! তছনছ করে পুরো সেট। এ নিয়ে পরিচালক মজা করে বলেন, ‘বিড়ালগুলো যেন ছিল একেকটি সুপারম্যান। কোনো কিছুকেই ভয় পায়নি।’

অভিনেতা কিয়ানু রিভসের জন্য জন উইক চরিত্রটি ছিল নিজেকে ফিরে পাওয়ার লড়াই। বিশ্বজুড়ে চলচ্চিত্রটির ব্যাপক জনপ্রিয়তা সেই লড়াইয়ে সাফল্যকেই প্রমাণ করে। তবে নিজেকে চরিত্রের জন্য মানানসই করতে ৫৪ বছর বয়সী এই তারকাকে করতে হয়েছে কঠোর পরিশ্রম। ব্যায়ামাগারে নিজেকে তৈরি করার পাশাপাশি নিয়েছেন মার্শাল আর্টের প্রশিক্ষণ। অ্যাকশনধর্মী এই চলচ্চিত্রে কোনো কোনো দৃশ্য এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল যে পরিচালক চেয়েছিলেন বডি ডাবলের সাহায্য নিতে। তবে কিয়ানু নিজেই অভিনয় করেন দৃশ্যগুলোতে। তাঁর চরিত্রটি সম্পর্কে একটি মজার তথ্য দিয়েছেন অভিনেতা। জন উইক মানুষ খুন করা ব্যতীত অন্য কোনো পেশার সঙ্গে জড়িত কি না এ প্রশ্নের জবাবে অভিনেতা বলেন, ‘জন খুবই সংস্কৃতিমনা মানুষ। সে একটি পুরনো বইয়ের দোকানে বই বাঁধাইয়ের কাজ করে।’ 

চলচ্চিত্রের অন্যতম আকর্ষণ হ্যালি বেরি। জন উইকের আগের দুই কিস্তি দেখে অভিনেত্রী এতটাই মুগ্ধ হয়ে যান, সিদ্ধান্ত নেন যেভাবেই হোক জনের সঙ্গে কাজ করবেন। নিজেই যোগাযোগ করেন পরিচালক চ্যাড স্ট্যাহেলস্কির সঙ্গে। পরিচালকও বেজায় খুশি। তৃতীয় কিস্তিতে জন উইকের প্রধান সহযোগীর চরিত্রটি লিখে ফেলেন বেরিকে মাথায় রেখে। এক্স-মেন সিরিজে সুপারহিরো স্টোর্ম হিসেবে অভিনয় করলেও পুরোদস্তুর অ্যাকশন চরিত্রে এবারই প্রথম অভিনেত্রী। গুপ্তঘাতকের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য কঠোর প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে ৫২ বছর বয়সী বেরিকে। চিত্রায়ণ শুরুর ছয় মাস আগে থেকে সপ্তাহে পাঁচ দিন করে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। অস্ত্র চালনা থেকে শুরু করে মার্শাল আর্টে নিজেকে দক্ষ করে তুলেছেন। তবে ঝামেলাটা বাধে চিত্রায়ণ শুরুর ঠিক আগে। প্রশিক্ষণের একপর্যায়ে তিনটি হাড় ভেঙে যায়। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম হয়তো আমাকে বদলে নতুন কাউকে নেওয়া হবে।  তবে পরিচালক আমার ওপর পুরো বিশ্বাসটুকু রেখেছিলেন।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা