kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

তাঁদের লেখা

৯ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তাঁদের লেখা

‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’-এর শুটিংয়ে বাঘাকে দৃশ্য বুঝিয়ে দিচ্ছেন সত্যজিৎ রায়

আমি শুধু একটি মজাদার গল্পই বলতে চেয়েছিলাম

 

সত্যজিৎ রায়

গুপী গাইন ছবি করি আমি আজ থেকে ২০ বছর আগে। ছোটদের জন্য ছবি বাংলায় প্রায় হয় না বললেই চলে; সেই অভাব দূর করার ইচ্ছা আমার মনে অনেক দিন থেকেই উঁকি দিচ্ছিল। তা ছাড়া আমার নিজের ত্রয়োদশ বর্ষীয় পুত্র সন্দীপও এই ছবি করার একটা কারণ। তখন পর্যন্ত ওর উপযোগী কোনো ছবি আমি করিনি। উপেন্দ্রকিশোরের গুপী গাইন গল্প আমার ছেলেবেলা থেকেই খুব প্রিয়। বিশেষ করে গুপী ও বাঘার চরিত্র। গুপী গান করে, বাঘা ঢোল বাজায়। দুজনেই অপটু, কিন্তু শখের অন্ত নেই। ভূতের বর পেয়ে তারা গীতবাদ্যের দ্বারা লোককে মন্ত্রমুগ্ধ করার ক্ষমতা পেল। তারপর আছে দুই রাজ্য শুণ্ডি ও হাল্লার দুই রাজা। এদের মধ্যে শত্রুতা, এরা পরস্পরের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়, গুপী-বাঘা তাদের গান-বাজনার জোরে এই যুদ্ধ হতে দেয় না।

এই কাঠামো থেকেই চিত্রনাট্য রচনা হয়েছিল। অনেক নতুন চরিত্র ও ঘটনার অবতারণা করতে হয়েছিল। রাজস্থানের দুটি বিখ্যাত কেল্লা দুই রাজার প্রাসাদ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। একটি বুঁদিতে, অন্যটি জয়সলমিরে। এ ছাড়া গান রচনা করতে হয়েছিল খান আষ্টেক।

ছবিটি দেখে কেউ কেউ মন্তব্য করেছিলেন, এতে শান্তির বাণী প্রচার করা হয়েছে। আমি যখন ছবিটি করি তখন আমার মনে তেমন কোনো ধারণা ছিল না। আমি শুধু একটি মজাদার গল্পই বলতে চেয়েছিলাম। গুপী গাইন ছবি ছোটরা সাদরে গ্রহণ করে এবং এখনো ছবিটি দেখানো হলেই ছেলে-মেয়েরা ভিড় করে দেখতে যায়। ৩০.৮.৮৮

ছবির ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ লেখা, শারদীয় এক্ষণ ১৩৩৫

 

বাংলায় মিউজিক্যাল কমেডির এক বেঞ্চমার্ক

সন্দীপ রায়

’৬৬-তে লোকেশন দেখতে গিয়েছিলাম। বাবা শুরু থেকেই ভেবে রেখেছিলেন ট্যুরিস্ট যায় এমন কোনো জায়গায় শুটিং করবেন না। একদম ভার্জিন লোকেশন চাই। যে জন্য প্রথমেই জয়পুর বাদ। ভরতপুর বার্ড স্যাংচুয়ারি গেলাম। বুঁদি কোটা গেলাম। যোধপুর গেলাম। জয়সলমির দেখে বাবা একেবারে ‘স্পেলবাউন্ড’, মুগ্ধ হয়ে গেলেন। বিশেষ করে ফোর্টটা দেখে। ফোর্টের কালারটা এমনভাবে মোহিত করে দিল বাবাকে যে তিনি স্থির করলেন ছবিটা কালারে করবেন! ফোর্টের সোনা রংটা নইলে ঠিক আসবে না। কিন্তু দুর্ভাগ্য, কালারে ছবিটা হলো না। এ কারণে পরে তিনি এখানেই ‘সোনার কেল্লা’ বানালেন। শুটিংয়ের সময় অ্যানুয়াল পরীক্ষা পড়ায় পুরোটা থাকতে পারিনি। ছবি মুক্তির পর প্রথম কয়েক দিন নেগেটিভ প্রচারণা চলে। রোমান্স নেই, নায়িকা নেই। আমরা তো বেশ মনমরা হয়ে পড়েছিলাম। মনে হচ্ছিল, বাবার এত শারীরিক-মানসিক পরিশ্রমের ফল কি তাহলে বিফলে যাবে। ‘চারুলতা’ বলো বা ‘পথের পাঁচালী’—কোনো ছবির জন্য এত খাটুনি তিনি করেননি। রিলিজের চার-পাঁচ দিন বাদে গুপীর গানগুলো মুখে মুখে ছড়াতে লাগল। অবিশ্বাস্য একটা ব্যাপার ঘটে গেল। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। বাংলায় মিউজিক্যাল কমেডির এক বেঞ্চমার্ক হয়ে আছে এখনো ‘গুগাবাবা’। বাবার অন্য কোনো ছবির সঙ্গেই এটির তুলনা চলে না। ৫০ বছর হয়ে গেল, এখনো এই ছবির অ্যাপিল বা জনপ্রিয়তায় এতটুকু ঘাটতি পড়েনি।

‘সংবাদ প্রতিদিন’, ৩ মে ২০১৯

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা