kalerkantho

সোমবার । ২৪ জুন ২০১৯। ১০ আষাঢ় ১৪২৬। ২০ শাওয়াল ১৪৪০

গুপী ও বাঘা

৯ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



গুপী ও বাঘা

তপেন চ্যাটার্জি

 

[গুপী]

গুপীর মতো গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র করার আগে তপেন চ্যাটার্জি সত্যজিতের ‘মহানগর’-এ ছোট্ট একটা চরিত্র করেছিলেন। তখনই পরিচালক আবিষ্কার করেন ক্যামেরার সামনে তপেন খুবই স্বাভাবিক, জড়তাহীন। ঠিক করেন পরেরবার তাঁকে বড় চরিত্র দেবেন। এভাবেই গুপী চরিত্রে তাঁকে নেওয়া। তপেনের স্ক্রিন টেস্টের সময় পরিচালকের সঙ্গে বাঘা রবিও হাজির ছিলেন। দুজনেই তপেনের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ। তবে শুরুতে তপেনের নিজের মধ্যে চরিত্রটি করা নিয়ে খানিকটা নার্ভাসনেস ছিল। সেটা তিনি কাটিয়ে ওঠেন ছবির গান অনুশীলন করে। গানগুলো আগেই রেকর্ড করা ছিল। সেগুলো গাইতে গিয়েই তাঁর মধ্যে গুপী ভর করে। চরিত্রটি করার পর অভিনেতা এতটাই খুশি ছিলেন যে বলতেন, ‘আমার আর কোনো ছবি না করলেও চলবে।’ আসলেই পরে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য চরিত্র করেননি তপেন। কিন্তু এক গুপীই তাঁকে অমর করে রেখেছে।

 

রবি ঘোষ

[বাঘা]

১৯৬২ সালে ‘অভিযান’ থেকেই সত্যজিতের সঙ্গে কাজ করে আসছেন রবি ঘোষ। বাঘা চরিত্র লেখার সময় থেকেই পরিচালক ঠিক করে রেখেছিলেন এই চরিত্রে রবিকেই নেবেন। এই ছবি সম্পর্কে স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে অভিনেতা বলেছিলেন, ‘মানিকদা আমাকে বলেছিলেন, এটা একেবারেই ফ্যান্টাসি ছবি। তোমাকে এখানে অভিনয় করলে চলবে না, বিহেভ করতে হবে। তিনি গল্প, প্রতিটি দৃশ্য যেভাবে বর্ণনা করতেন আমাদের করতে একটুও কষ্ট হতো না।’ ছবির বিখ্যাত ভূতের রাজার দৃশ্যের উদাহরণে তিনি বলেন, ‘আমরা যখন শুটিং করি তখন কিন্তু সামনে ভূত ছিল না, পরে বসানো হয়েছে। আমাদের অভিনয়ের জন্য মানিকদার বর্ণনার ওপর নির্ভর করতে হতো। তিনি এমনভাবে সব বলতেন যা অবিশ্বাস্য। মনে হতো আমাদের সামনে সত্যিই ভূত আছে।’

মন্তব্য