kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

ভূতের রাজার নাচ

ছবির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য ভূতের রাজার নাচ। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে এ প্রসঙ্গ নিয়ে বিস্তারিত বলেছেন পরিচালক

৯ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভূতের রাজার নাচ

ভূতের রাজার নৃত্য

ভূতের রাজার বর দেওয়ার যে দৃশ্য তাতে যে নাচটা রয়েছে, এটা সম্পর্কে অনেকের অনেক রকম বক্তব্য। উপেন্দ্রকিশোরের ভূত ছিল রূপকথার জীব। চোখগুলো জ্বলছে, যেন আগুনের ভাটা...। কিন্তু আপনার ছবিতে—

বদলে দিয়েছি। চেনা ভূত এনে লাভ কি? বাস্তবকে আনা যাক না।

এখন ভূতেদের এ রকম কনভেনশন আছে যে...ভূতের কুলোর মতো কান, মুলোর মতো দাঁত, কিসের মতো পিঠ যেন আছে না? এখন সেটা আমার কাছে খুব বেশিক্ষণ টানা যাবে বলে মনে হয়নি। কেননা তাদের নাচের কোনো কনভেনশন আছে বলে আমি জানি না। এ রকম ভূতের নৃত্য হয় সেটা নিয়ে খুব একটা আর্টিস্টিক কিছু করা যাবে বলে আমার মনে হয়নি। তখন আমি ভূতটা নিয়ে অন্য রকমভাবে চিন্তা করতে শুরু করলাম। আমি বললাম, যারা মরেছে অ্যাকচুয়ালি, তাদের যদি ভূত হয়—অ্যাকচুয়ালি কতগুলো ক্লাব অব পিপল যারা অবভিয়াসলি বাংলাদেশে ছিল, রাজরাজড়া তো ছিলই একেবারে বৌদ্ধ আমল থেকে, তারপর চাষাভূষাও ছিল। আর সাহেবরা তো প্রচুর আছে বীরভূমে, যেখানে আমরা শুটিং করেছিলাম তার মাইল দশেকের মধ্যেই কবরখানা। তখন চারটি ক্লাসে পরিণত হলো জিনিসটা। একটা হচ্ছে রাজাদের, একটা চাষাদের, একটা সাহেবদের, একটা মোটাদের, মানে হৃষ্টপুষ্ট ব্যক্তিদের ভূত।

 

চারটি সারিতে ভূতেরা নাচছে। এটা একেবারেই নতুন কিছু—

আমি নিজে বলতে পারি কোনো ছবিতে নিজে এ জিনিস দেখিনি। কমপ্লিটলি নিজের মাথা থেকে বের করতে হয়েছে। আমার প্রচণ্ডভাবে ইচ্ছা ছিল নতুন কিছু করব। কেননা ভূতের ব্যাপারটা ওদের দেশে নেই। ভূত আর গোস্ট এক জিনিস নয় কিন্তু। স্পিরিটিস—কোনোটাই না। ভূতের রাজা তো হয়ই না ওদের। কাজেই আমার কোনো মডেল ছিল না, এক্কেবারে নতুন জিনিস করতে হয়েছে। তারপর যা মাথায় এসেছে সেটা দেখাতে টেকনিক্যাল দিকটাও সামলাতে হয়েছে।

 

নাচের আইডিয়াটা কিভাবে এলো?

চারটি ক্লাসের কথা মাথায় আসার সঙ্গে সঙ্গে আমার একটা ক্লাসিক্যাল মিউজিক্যাল ফর্মের কথা মনে পড়ে। যেটা আমি রেডিওতে শুনেছিলাম, চাক্ষুষ দেখেছিলাম দিল্লি ফিল্ম ফেস্টিভালে। তখন অতিথিদের জন্য পারফরম্যান্সটি করে কর্ণাটিক, সাউথ ইন্ডিয়ান পারকাশন ইনস্ট্রুমেন্ট ‘চাল-বাদ্যকাচেরি’ বলে এক-চার রকম পারকাশন—মৃদঙ্গ, ঘট্টম মানে হাঁড়ি, খঞ্জিরা আর মুড়শৃং, মানে একটা ছোট যন্ত্র মেঁয়াও-মেঁয়াও করে বাজে। এই চারটি যন্ত্র নিয়ে অসাধারণ একটা জিনিস ওরা করে, যেটা পৃথিবীর কোনো মিউজিকে আছে বলে আমার মনে হয় না—একেবারে ইউনিক। শুধু পারকাশন নিয়ে গান ছাড়া এ রকম কোয়ার্টেট আর নেই। আমি তখন ভাবলাম, এই চারটি শ্রেণির ভূতকে এই চারটি যন্ত্রের সঙ্গে যদি আইডেন্টিফাই করা যায়। মৃদঙ্গ হলো রাজার, যেহেতু এটা রিয়েলি ক্লাসিক্যাল ইনস্ট্রুমেন্ট। তাই নাচের ফর্মটা একেবারে ক্লাসিক্যাল রাখা হলো। খঞ্জিরা হলো চাষাভূষার। সাহেবদের জন্য ঘট্টম রাখা হলো, একটু কটকটে আওয়াজ—একটু রিজিড আওয়াজ। মোটাদের জন্য ওই মুড়শং রাখা হলো, যেটা একটা ফোন যন্ত্র। এরপর ফর্ম ঠিক করে ভূতেদের মুভমেন্ট ঠিক হলো। বললাম, এরা আসুক, এরা নাচুক, এদের দ্বন্দ্ব লাগুক, পরে ভীষণ যুদ্ধ হয়ে মরে যাক।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা