kalerkantho

সোমবার। ১৭ জুন ২০১৯। ৩ আষাঢ় ১৪২৬। ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

নভেরার রঙ

নাম বদলে অমিতাভ রেজার ‘রিকশা গার্ল’ এখন ‘নাঈমার রঙ’। ছবির নাঈমা চরিত্র করছেন অভিনেত্রী মোমেনা চৌধুরীর মেয়ে নভেরা রহমান। তাঁকে নিয়ে লিখেছেন মীর রাকিব হাসান

৯ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নভেরার রঙ

‘নাঈমার রঙ’ নিয়ে এক লাইন বলতেও নারাজ। পরিচালকের কঠোর নিষেধাজ্ঞা। তাই আলাপ শুরু করলেন অন্যভাবে। একদম শৈশব থেকে। বয়স যখন চার মাস, তখন মা মোমেনা চৌধুরীর একটা ধারাবাহিক চলছিল টিভিতে, ‘দূরে কোথাও’। সে নাটকে প্রথম পর্দায় অভিষেক। অন্য একটা বাচ্চা ঠিক করা হয়েছিল শুটিংয়ের জন্য; কিন্তু বাচ্চাটাকে সময়মতো সেটে আনা যায়নি। অগত্যা নভেরাকে কোলে নিয়েই ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালেন মোমেনা। গ্রামের বাড়ি বগুড়ার অনেক আত্মীয় তখনো নভেরাকে দেখেনি। টেলিভিশনে দেখেই তারা বুঝে গেছে, কোলের শিশুটি মোমেনারই মেয়ে। আরেকটু বড় হওয়ার পর শিশুশিল্পী হয়েছেন ‘পাখি সব করে রব’, ‘একান্নবর্তী’র মতো জনপ্রিয় বেশ কিছু নাটকে।

নাট্যদল আরণ্যকের সদস্য তাঁর মা। বলতে গেলে ব্যাকস্টেজেই বড় হয়েছেন। “জন্মের পর থেকেই আমি থিয়েটারের বাসিন্দা। এমনও হয়েছে, ট্রাংকের ওপর ঘুম পাড়িয়ে স্টেজে উঠেছেন মা। ‘সংক্রান্তি’, ‘ময়ূর সিংহাসন’ দেখে দেখে বড় হয়েছি। নাটকগুলোর সব সংলাপ আমার মুখস্থ থাকত। আমার অভিনয়ভাবনা এবং যাবতীয় চিন্তার জগৎ খুলে দিয়েছে আরণ্যক”—বললেন নভেরা।

ইতিহাস নিয়ে পড়বেন ভেবেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর শখ করে একটা থিয়েটার কোর্স নিয়েছিলেন। কোর্সটা করে ভীষণ ভালো লাগল। ‘কানাডা গিয়েছিলাম থিয়েটার আর অর্থনীতিতে আলাদা দুটি ডিপ্লোমা করতে। থিয়েটার নিয়ে পড়া শেষে অর্থনীতিতে আর পড়া হয়নি। সেটা এখন পড়ছি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে’—বললেন নভেরা।

অভিনয় ভালোবাসলেও কখনো বড় অভিনেত্রী হবেন, এটা ভাবতেই পারতেন না। কারণটাও জানালেন, “সেটে গেলে সবাই ‘মোমেনা আপার মেয়ে’ হিসেবেই ট্রিট করতেন। পরিচালক ভাবতেন সহজেই আমি অভিনয় পারব, তাই নির্দেশনাও দিতেন না। এ কারণেই বড় অভিনেত্রী হওয়ার কথা ভাবতে পারতাম না। উৎসাহ পেলাম কানাডায় গিয়ে। ওখানকার সবাই বলত, আমার অভিনয়টা হচ্ছে, বেশ ভালোই হচ্ছে। কারণ ওখানে তো মোমেনা আপাকে আর কেউ চেনেন না। হা হা হা। তখনই কানাডার একটা থিয়েটার কম্পানিতে যোগ দিই—শেকসপিয়ার থিয়েটার কম্পানি।’

এক সেমিস্টার বিরতি নিয়ে বাংলাদেশে এলেন বেড়াতে। তখনই পরিচয় রুবাইয়াত হোসেনের সঙ্গে। অডিশন দিলেন তাঁর ছবি ‘মেড ইন বাংলাদেশ’-এর জন্য। টিকে গেলেন এবং অভিনয়ও করলেন। গার্মেন্টকর্মীদের জীবন নিয়ে নির্মিত ছবিটি গত বছর লোকার্নো উৎসবে জিতেছে ‘আর্টে ইন্টারন্যাশনাল’। এই ছবির পর থেকে বাংলাদেশেই আছেন নভেরা।

এরপর করলেন শঙ্খ দাশগুপ্তর স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি ‘সুন্দর চান’। এক পতিতা ও তার বানরকে নিয়ে গল্প। শুটিং হয়েছে দৌলতদিয়া পতিতাপল্লীতে। নভেরা বলেন, ‘দৌলতদিয়ায় গিয়ে থেকেছি, সেখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেছি। অনেক অভিজ্ঞতা হলো ছবিটা করতে গিয়ে।’

‘সুন্দর চান’ করার আগেই ‘নাঈমার রঙ’-এ চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন। মিতালি পারকিনসের ‘রিকশা গার্ল’ অবলম্বনে অমিতাভ রেজার এই ছবি। ছবিটি নিয়ে বেশি কিছু বলবেন না আগেই বলেছিলেন। তবু এটুকু জানালেন, “প্রথম লটের শুটিং হয়েছে। অমিতাভ ভাই কিন্তু পুরো দেশে বড় একটা অ্যানাউন্স করেছিলেন, ‘তুমি কি অমিতাভ রেজার পরের সিনেমায় কাজ করতে চাও?’ ৫০-৬০ জন মেয়ের অডিশন নিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে আমিও একজন। অমিতাভ ভাইয়ের নির্দেশনায় আড়ং দুধের বিজ্ঞাপনচিত্র করেছিলাম। তখনই হয়তো আমাকে পছন্দ হয়েছিল। অডিশনের পর প্রযোজকরাও বেশ পছন্দ করেছেন শুনেছি। আমাদের প্রযোজক কিন্তু আমেরিকান।” জানালেন ‘রিকশা গার্ল’ হওয়ার প্রস্তুতির কথাও, ‘রীতিমতো গবেষণা করেছি। ঢাকার রাস্তায় ঘুরে অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁদের জীবন সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেছি।’

নভেরার ভীষণ আগ্রহ ফিল্ম মেকিংয়ে। ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ করার পরই তাঁর ইচ্ছাটা জাগল মনে। জানালেন, আগে একবার আফসানা মিমির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ করেছিলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা