kalerkantho

সোমবার। ১৭ জুন ২০১৯। ৩ আষাঢ় ১৪২৬। ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

আমাদের ফেলুদা

প্রথমবারের মতো এককভাবে বাংলাদেশে নির্মিত হয়েছে ‘ফেলুদা’ সিরিজ। তাতে প্রথমবার ফেলুদা হয়েছেন একজন বাংলাদেশি অভিনেতা—আহমেদ রুবেল। তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন নাবীল অনুসূর্য, ছবি তুলেছেন মোহাম্মদ আসাদ

৯ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আমাদের ফেলুদা

দুই বছর আগে ঢাকায় এসে একগাল হাসি দিয়ে ফেলুদার স্বত্ব প্রদানের ঘোষণা দিয়েছিলেন সন্দ্বীপ রায়। তখন থেকেই প্রতীক্ষার শুরু। ভারতের অনেককেই দেখা গেছে জনপ্রিয় এই গোয়েন্দা চরিত্রে। সত্যজিৎ রায় ফেলুদা করেছিলেন তাঁর পছন্দের অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে। সন্দ্বীপ করেন সব্যসাচী চক্রবর্তীকে। অবশ্য তাঁর হাত ধরে আরো দুজন গোয়েন্দা চরিত্রটিতে অভিনয় করেছেন—হিন্দিতে শশী কাপুর, বাংলায় আবীর চট্টোপাধ্যায়। বাংলাদেশে প্রথম যখন ফেলুদাকে নিয়ে ওয়েব ধারাবাহিক বানানো হলো, তাতেও অভিনয় করলেন ওপারের পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। সেটি পরিচালনাও করেছিলেন এই অভিনেতা। এবারের ফেলুদা টিমের সবাই বাংলাদেশি। আগের ওয়েব ধারাবাহিকটির মতো এটির প্রযোজকও শাহরিয়ার শাকিল। এবারই পর্দায় প্রথম বাংলাদেশি কাউকে ফেলুদা হতে দেখা যাবে।

সত্যজিৎ রায়ের ‘নয়ন রহস্য’ থেকে তিন পর্বের নতুন এই ধারাবাহিকটি পরিচালনা করেছেন তৌকীর আহমেদ। ফেলুদার দুই সহচর জটায়ু ও তোপসে করেছেন আজাদ আবুল কালাম ও নওফেল আশরাফি জিসান। আর ফেলুদা চরিত্রে আহমেদ রুবেল। ফেলুদা চরিত্রে তিনিই নাকি পরিচালক-প্রযোজকের অবিসংবাদিত পছন্দ! গণমাধ্যমে সেটা বলেছেনও প্রযোজক।

প্রসঙ্গটা তুলতেই একটু যেন লজ্জাই পেলেন আহমেদ রুবেল। বললেন, ‘সে একটু বাড়িয়েই বলেছে। আমাকে পছন্দ করে বলেই হয়তো এভাবে বলেছে। দেশে অনেক যোগ্য অভিনেতাই রয়েছেন। সবার মধ্য থেকে আমাকেই ফেলুদার জন্য বিবেচনা করা হয়েছে, এটা আমার জন্য সৌভাগ্যের।’

বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় চরিত্রগুলোর একটি ফেলুদা। প্রায় সবারই কম-বেশি পড়া বা দেখা। এটা রুবেলের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ, চ্যালেঞ্জটা তিনি গ্রহণ করেছেন। বলেন, ‘সবার মনের মধ্যেই ফেলুদার একটা চিত্র আঁকা আছে। পর্দার ফেলুদা যদি দর্শকের মন মতো না হয়, তখন তো তার ভালো লাগবে না।’ সে জন্য অভিনয়ের আগে প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন, ‘সময় খানিকটা কম পেয়েছি। তা না হলে নিজেকে আরো প্রস্তুত করা যেত, আরো ভালো করা যেত।’

ফেলুদার গল্পগুলো আগেই পড়া ছিল, ‘ফেলুদা প্রায় সবারই পছন্দের। তবে আমার পড়াটা জনপ্রিয়তার কারণে নয়। সত্যজিৎ রায়, তাঁর বাবা সুকুমার রায়, দাদা উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী—উনাদের লেখা তো অবশ্যপাঠ্য। আর সত্যজিতের গল্পগুলো চিত্রনাট্যের মতো, বিবরণগুলো ছবির মতো।’

অভিনয়ের আগে পড়া গল্পগুলো পড়েছেন আবার। ভালোমতো খেয়াল করেছেন ফেলুদার সব বিবরণ, দুই সহচর তোপসে ও জটায়ুর সঙ্গে তার সম্পর্কের ধরনটা কী রকম; যাতে চরিত্রটিকে ঠিকঠাক ধারণ করতে পারেন।

তবে পুরনো ছবি ও ধারাবাহিক কিন্তু নতুন করে দেখেননি। ‘একটা চরিত্র একেকজন তাঁর নিজের মতো করে পর্দায় ফুটিয়ে তোলেন। আমিও আমার মতো করেই ফেলুদাকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি।’

সেটা না হয় নিজের মতো করেই করলেন। কিন্তু পুরনো ফেলুদাদের মধ্যে কাকে বেশি পছন্দ? এবার ভীষণ কৌশলী হয়ে গেলেন রুবেল, ‘আমি আসলে সবার ফেলুদা দেখিনি। ওই সৌমিত্রদা আর সব্যসাচীর ফেলুদাই দেখেছি। দুজনেরটাই আমার পছন্দের।’

মাঝে পরমব্রতের ফেলুদা বেশ আধুনিক হয়ে উঠেছিল। স্মার্টফোন ব্যবহার করত, কিছু জানতে হলে গুগলে সার্চ করত। এবার অবশ্য তেমনটা হচ্ছে না। সত্যজিৎ যেমনটা বানিয়েছিলেন, ফেলুদা থাকছে তেমনই। সাজপোশাক এখনকার মতো হলেও সেভাবে ফোনের ব্যবহার থাকছে না। পরিবর্তন বলতে শুধু একটিই, ফেলুদার হাতে একবারের জন্যও চারমিনার জ্বলতে দেখা যাবে না। রুবেল জানিয়েছেন, ‘সিগারেটের ব্যাপারটা পরিচালক একেবারেই এড়িয়ে গেছেন।’ অবশ্য মূল গল্পের সময় আর স্থান বদলে যাচ্ছে। ধারাবাহিকের পটভূমি বর্তমান বাংলাদেশ। যেমন মূল গল্পে জাদুকরের প্রদর্শনী হয় মাদ্রাজে। ধারাবাহিকে সেটা হয়েছে চট্টগ্রামে। এভাবে গল্পের পুরো দৃশ্যধারণই করা হয়েছে বাংলাদেশে। গল্পের বিবরণের সঙ্গে মিলিয়ে কখনো ঢাকার নবাবগঞ্জ, ধানমণ্ডি বা উত্তরায়, কখনো চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সমুদ্রসৈকতে, কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে বা ময়নামতির বৌদ্ধবিহারে।

রুবেল বলেন, “এটা করা হয়েছে যাতে দর্শক গল্পের সঙ্গে একাত্ম হতে পারে। সে জন্য পরিকল্পনাও বদলানো হয়েছে। ভাবা হয়েছিল, প্রথমে ‘ভূস্বর্গ ভয়ংকর’ বানানো হবে। সেটা পরিচালনা করবেন গিয়াসউদ্দিন সেলিম। কিন্তু কাশ্মীরের এই গল্পটাকে তো আর বাংলাদেশে বসানো যাবে না। তাই মাসখানেক পরে পরিকল্পনা বদলে আগে ‘নয়ন রহস্য’ বানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

বাংলাদেশের প্রথম ফেলুদা সিরিজের শুটিং ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। দেখার জন্যও খুব বেশি অপেক্ষা করতে হবে না। ১৫-২০ মের মধ্যে বায়োস্কোপ লাইভে প্রথম কিস্তি প্রকাশের কথা। বাংলাদেশি ফেলুদাকে দর্শক কিভাবে গ্রহণ করে, আপাতত সেটা নিয়েই মাথা ঘামাচ্ছেন ‘ফেলুদা’। তারপর না হয় কাশ্মীরের বিচারক হত্যা নিয়ে মাথা ঘামানো যাবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা