kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

দুই ‘অপরাধী’র আত্মপক্ষ সমর্থন

৯ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দুই ‘অপরাধী’র আত্মপক্ষ সমর্থন

পূজা চেরি

‘দহন’ অভিনেত্রী পূজা চেরির বিরুদ্ধে শিডিউল ফাঁসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ আনেন স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল আরটিভির প্রযোজক আমির খসরু। ‘অপরাধী’ গায়ক আরমান আলিফের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ করেন বাংলাভিশনের প্রযোজক আরিফ হোসেন। অভিযোগের বিপরীতে আত্মপক্ষ সমর্থন করেছেন পূজা চেরিআরমান আলিফ

 

অভিযোগনামা

►    ২ মে বাংলাভিশনের সরাসরি অনুষ্ঠান ‘সকাল বেলার রোদ্দুর’-এর অতিথি পর্বে উপস্থিত থাকতে সম্মত হয়েছিলেন আলিফ। কথা ছিল সকাল সাড়ে ১০টায় স্টুডিওতে থাকবেন তিনি। তিনি আসেননি এবং ফোনও বন্ধ রাখেন।

আমি সত্যিই দুঃখিত

আরমান আলিফ

ব্যক্তিগত একটা কারণে আমি বাংলাভিশনের স্টুডিওতে উপস্থিত হতে পারিনি। বুঝতে পারিনি ঘটনাটা এভাবে মিডিয়ায় আসবে। এক দুর্ঘটনায় আমার ফোনটা পানিতে পড়ে যায়। প্রযোজকের ফোন নম্বর জোগাড় করে সেটা জানাতেও পারিনি। পরে দুঃখ প্রকাশ করার জন্য তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি, মেসেজও করেছি। জানালাম, ‘সকাল বেলার রোদ্দুর’ তো সপ্তাহে তিন দিন হয়। এর মধ্যে কোনো এক দিন যদি আমি উপস্থিত হই তাহলে সমাধান হয় কি না। সেদিন আমার কী হয়েছিল, উপস্থিত হয়ে সেটা জানাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনো সাড়া দেয়নি। চ্যানেলটির সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনো সমস্যা তো নেই। মিডিয়াতে আমরা একে অন্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আমার কারণে যদি তারা কষ্ট পেয়ে থাকে তার জন্য আমি সত্যিই দুঃখিত।

 

অভিযোগনামা

►    ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স দিবস উপলক্ষে আরটিভির বিশেষ অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার কথা ছিল পূজার। নির্ধারিত সময়ে আরেকটি অনুষ্ঠানে শিডিউল দেন পূজা।

►    পূজার কথামতো শিডিউল এগিয়ে আনা হলো। কিন্তু রিহার্সালে গিয়ে জানান, নাচের থিম তাঁর পছন্দ হয়নি। প্রযোজক পূজার পছন্দমাফিকই করতে রাজি। তবু নাকি পূজা স্টুডিও ছেড়ে যান। ফোনেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

 

আমার নিবেদন নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুললে কষ্ট পাই

এক মাস আগে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’তে শিডিউল দেওয়া ছিল। তারিখটা আমার মনে ছিল না। আরটিভি আর ইত্যাদির রেকর্ডিং একই দিনে পড়ে গেছে। এখন আমি কাকে ‘না’ বলব! দুটোই মেনটেইন করার পরিকল্পনা করলাম। সময়টা একটু আগে-পিছে করতে পারলে দুটোই করতে পারব। প্রথমে ‘ইত্যাদি’র মামুন ভাইয়ের সঙ্গে কথা বললাম। তিনি বললেন, আমাকে সকাল সাড়ে ৭টার মধ্যে থাকতে হবে। যদি সকাল ৮টায় আসতে পারি তাতেও কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু সকাল ৮টার পর হলে সমস্যা হয়ে যাবে। তখন ভাবলাম সকাল ৮টা হলে যেহেতু সমস্যা নেই, তাহলে আরটিভির সঙ্গে একটু কথা বলে দেখি। খসরু ভাইকে বিষয়টা খুলে বললাম। তিনি বললেন, তাঁদের অনুষ্ঠানে মন্ত্রীরা আসবেন। অপু বিশ্বাস, বিদ্যা সিনহা মিম নাচবেন। তার আগে আমাকে স্টেজে ওঠানো যাবে না। অনেক পুরস্কার দেওয়া হবে। একদম সবার শেষে আমার পারফরম্যান্স। সকাল সাড়ে ৯টা-১০টার আগে ছাড়া যাবে না। বললাম, তাহলে তো আমার জন্য সমস্যা হয়ে গেল। তিনি বললেন, ‘আপনি না করলে না করতে পারেন।’ কথাটার রেশ ধরেই বলেছি, ঠিক আছে তাহলে তো ক্যানসেল করা ছাড়া আমার আর কোনো উপায় নেই। এই ঘটনার কিছুক্ষণ পর ফোন দিলেন কোরিওগ্রাফার তানজিল ভাই। বললেন, ‘তুমি সকালে চলে আসো, দেখি কিছু করতে পারি কি না।’ বিষয়টা মীমাংসা করার জন্য আমি আরটিভির নাচের রিহার্সালেও গেলাম। মনে মনে ঠিক করেছি, তানজিল ভাই যেহেতু বললেন আরটিভির প্রগ্রামটাও করব। রিহার্সালে গিয়ে দেখি দুদিন আগে আমাকে যে গানটা দেওয়া হয়েছে সেটা বাদ। ‘দহন’ ছবির শেষ দৃশ্যে ছেঁড়াফাটা যে পোশাক পরেছিলাম, সেটা পরে নাকি কিছু একটা করতে হবে! আগে আমাকে বলা হয়েছিল, লেহেঙ্গা পরে নাচব। আমি লেহেঙ্গা বানালামও। প্রগ্রামের আগের দিন আমাকে বলে নতুন কথা। তার ওপর ড্রেসটাও আবার আমাকেই ম্যানেজ করতে হবে! এক দিনের নোটিশে লেহেঙ্গা বানালাম। এখন আমি ছেঁড়াফাটা ড্রেস কোথায় পাব। যাই হোক, এসব কিছু মিলিয়েই আমি আর ওদের প্রগ্রামটা করতে পারলাম না।

পরের দিন ‘ইত্যাাদি’র জন্য পারসোনায় সাজছিলাম। তখন ফেসবুকে নিউজ দেখি, শিডিউল ফাঁসালেন পূজা। আমার সঙ্গে কথা বলে সংবাদ করলে সেই রিপোর্টার আসল ঘটনাটা জানতে পারতেন। একটা কথা বলতে চাই, আমি কেমন অভিনয় করি, ভালো বা মন্দ—সেটা দর্শক বিবেচনা করবে। কিন্তু কেউ বলতে পারবে না আমি অহংকারী। আমি সবার সঙ্গে মেশার চেষ্টা করি। কখনো কারো সঙ্গে দুর্ব্যবহার করি না। কাজের প্রতি আমার নিবেদন নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুললে কষ্ট পাই।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা